গঙ্গা চুক্তি ঘিরে ভারত-বাংলাদেশ আলোচনায় ভিন্ন অবস্থান
- আপডেট সময় ০২:০৪:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
- / 107
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের ডিসেম্বরে। চুক্তির নবায়ন হবে নাকি নতুন কাঠামোতে আবারও সমঝোতা হবে—এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হলেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ইতোমধ্যে দুই দেশের কারিগরি পর্যায়ে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে আলোচনায় নতুন করে জটিলতা তৈরি করেছে ভারতের সম্ভাব্য নতুন পানি বণ্টন ফর্মুলা। ভারত ফারাক্কা পয়েন্টের পানিপ্রবাহকে ভিত্তি ধরে নতুন কাঠামো চাইলেও বাংলাদেশ পুরো গঙ্গা নদীর প্রবাহ বিবেচনায় নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সরকার বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে। তিনি বলেন, দুই দেশের বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের আলোচনার পর যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
১৯৯৬ সালের চুক্তি অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানির প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হলে দুই দেশ সমান ভাগে পানি পাবে। প্রবাহ ৭০ থেকে ৭৫ হাজার কিউসেক হলে বাংলাদেশ পাবে ৪০ হাজার কিউসেক এবং অবশিষ্ট যাবে ভারতে। আবার প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি হলে ভারত পাবে ৪০ হাজার কিউসেক, বাকিটা বাংলাদেশে প্রবাহিত হবে।
সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে পানি অন্যতম এবং গঙ্গা চুক্তি নবায়নের আলোচনায় যৌথ নদী কমিশন যথাসময়ে অংশ নেবে।
এদিকে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ মন্তব্য করেছেন, ১৯৯৬ সালের পুরোনো ফর্মুলা এখন আর কার্যকর নাও হতে পারে। তিনি সাম্প্রতিক কয়েক দশকের পানিপ্রবাহকে ভিত্তি ধরে নতুন হিসাবের পরামর্শ দিয়েছেন।
তবে বাংলাদেশের নদী বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত এ প্রস্তাবকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন। তার ভাষ্য, উজানে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহারের কারণে ফারাক্কায় পানিপ্রবাহ কমে গেছে। তাই শুধু ওই পয়েন্টকে ভিত্তি করে পানি ভাগাভাগি ন্যায্য হবে না।
ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের অভিযোগ, এই বাঁধের কারণে পদ্মা নদীতে পানিপ্রবাহ কমে গিয়ে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পরিবেশ ও জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন শুধু কূটনৈতিক বিষয় নয়, এটি দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কেরও বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।


























