ঢাকা ১১:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

ইসির জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৩৩:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫
  • / 428

ছবি সংগৃহীত

 

 

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) প্রায় ২ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের ঘোষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এই অর্থ ইসি ব্যয় করবে।

আরও পড়ুন  প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

সোমবার (২ জুন) বিকেলে দেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এ বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। সংসদ না থাকায় এবারের বাজেট বক্তৃতা সংসদে না দিয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সম্প্রচারিত হয়।

প্রস্তাবিত বাজেটে দেখা যায়, নির্বাচন কমিশনের মোট বরাদ্দের মধ্যে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭২৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, আর উন্নয়ন বাজেট ২২৯ কোটি ৫ লাখ টাকা।

তুলনামূলকভাবে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নির্বাচন কমিশনের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ১৪১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, যা থেকে এবারের বাজেটে বরাদ্দ দুই গুণেরও বেশি বাড়ানো হয়েছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটটি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল বাজেটের ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা থেকে ৭ হাজার কোটি টাকা কম। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো বাজেটের আকার কমানো হয়েছে, যা অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এ বছর সংসদ না থাকায় বাজেট নিয়ে কোনো সংসদীয় বিতর্ক বা আলোচনা হবে না। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ জনগণের কাছ থেকে বাজেট নিয়ে মতামত নেওয়া হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় অনলাইনে ও বিভিন্ন মাধ্যমে নাগরিকদের মতামত আহ্বান করবে, যার ভিত্তিতে চূড়ান্ত বাজেট গৃহীত হবে।

চূড়ান্তকরণের পর এই বাজেট প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। বৈঠকে অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতি একটি অধ্যাদেশ জারি করে এই বাজেট ১ জুলাই থেকে কার্যকর করবেন।

নির্বাচন, স্থিতিশীলতা ও সংকটকালীন অর্থনীতিকে মাথায় রেখে প্রণীত এই বাজেট নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

সংক্ষেপে বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ:

নির্বাচন কমিশনের জন্য বরাদ্দ: ২,৯৬৪ কোটি টাকা

পরিচালন ব্যয়: ২,৭২৬.৯৫ কোটি টাকা

উন্নয়ন ব্যয়: ২২৯.০৫ কোটি টাকা

আগের অর্থবছরের বরাদ্দ: ১,১৪১.৮৫ কোটি টাকা

বাজেটের মোট আকার: ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা

ইতিহাসে প্রথমবার বাজেটের আকার হ্রাস

সংসদীয় বিতর্ক না থাকলেও জনমত গ্রহণের প্রক্রিয়া থাকবে

নতুন সরকারব্যবস্থায় এই বাজেট কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করছে জনমত, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসির জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ

আপডেট সময় ০৬:৩৩:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫

 

 

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) প্রায় ২ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের ঘোষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এই অর্থ ইসি ব্যয় করবে।

আরও পড়ুন  অর্থনীতিবিদদের দাবি বাজেটে কৃষিতে ১০ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার

সোমবার (২ জুন) বিকেলে দেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এ বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। সংসদ না থাকায় এবারের বাজেট বক্তৃতা সংসদে না দিয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সম্প্রচারিত হয়।

প্রস্তাবিত বাজেটে দেখা যায়, নির্বাচন কমিশনের মোট বরাদ্দের মধ্যে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭২৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, আর উন্নয়ন বাজেট ২২৯ কোটি ৫ লাখ টাকা।

তুলনামূলকভাবে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নির্বাচন কমিশনের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ১৪১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, যা থেকে এবারের বাজেটে বরাদ্দ দুই গুণেরও বেশি বাড়ানো হয়েছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটটি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল বাজেটের ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা থেকে ৭ হাজার কোটি টাকা কম। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো বাজেটের আকার কমানো হয়েছে, যা অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এ বছর সংসদ না থাকায় বাজেট নিয়ে কোনো সংসদীয় বিতর্ক বা আলোচনা হবে না। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ জনগণের কাছ থেকে বাজেট নিয়ে মতামত নেওয়া হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় অনলাইনে ও বিভিন্ন মাধ্যমে নাগরিকদের মতামত আহ্বান করবে, যার ভিত্তিতে চূড়ান্ত বাজেট গৃহীত হবে।

চূড়ান্তকরণের পর এই বাজেট প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। বৈঠকে অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতি একটি অধ্যাদেশ জারি করে এই বাজেট ১ জুলাই থেকে কার্যকর করবেন।

নির্বাচন, স্থিতিশীলতা ও সংকটকালীন অর্থনীতিকে মাথায় রেখে প্রণীত এই বাজেট নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

সংক্ষেপে বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ:

নির্বাচন কমিশনের জন্য বরাদ্দ: ২,৯৬৪ কোটি টাকা

পরিচালন ব্যয়: ২,৭২৬.৯৫ কোটি টাকা

উন্নয়ন ব্যয়: ২২৯.০৫ কোটি টাকা

আগের অর্থবছরের বরাদ্দ: ১,১৪১.৮৫ কোটি টাকা

বাজেটের মোট আকার: ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা

ইতিহাসে প্রথমবার বাজেটের আকার হ্রাস

সংসদীয় বিতর্ক না থাকলেও জনমত গ্রহণের প্রক্রিয়া থাকবে

নতুন সরকারব্যবস্থায় এই বাজেট কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করছে জনমত, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর।