ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জোর দিলেন কৃষিমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৪৩:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 16

ছবি: সংগৃহীত

কৃষি উৎপাদনে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনের দিকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা টাউনহল মাঠে কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী মেলার দ্বিতীয় দিনে ‘টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কারিগরি শিক্ষা এবং উদ্ভাবন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষিতে এগিয়ে যেতে হলে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হবে এবং নিজেদের ফসল নিজেদেরই উৎপাদন করতে হবে। সীমিত সম্পদ নিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে এবং এসব সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন  শ্বশুরবাড়ি সাবেক কৃষিমন্ত্রীর পিএস আটক

বাংলাদেশ কৃষি উৎপাদনের জন্য বিশ্বের অন্যতম উর্বর ও সম্ভাবনাময় স্থান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফসলে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে দেশের মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে এবং নিজেদের সুস্থ রাখতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জোর দেওয়া জরুরি। তাঁর ভাষায়, বিশ্বে খাদ্যের সংকট না থাকলেও নিরাপদ খাদ্যের ঘাটতি গুরুতর।

দেশের কৃষিপণ্যের সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কৃষিপণ্যকে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশে বাইরে থেকে কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি করবে—এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি। তবে বর্তমানে কাঁচা মরিচ, গাজর ও টমেটোর মতো কিছু কৃষিপণ্য আমদানি করতে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছুটির দিনে বাড়িতে গিয়ে মা-বাবার সঙ্গে কৃষিকাজে সহযোগিতা করছেন—এমন দৃশ্য তাঁকে আশাবাদী করেছে বলেও মন্তব্য করেন কৃষিমন্ত্রী।

সেমিনারের আগে মেলায় প্রদর্শিত বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। এ সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প পরিদর্শন করে তিনি তাদের প্রশংসা করেন।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তারের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার মো. সাখাওয়াত হাসান। স্বাগত বক্তব্য দেন কুমিল্লা কৃষি ও কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ পরমানন্দ গোস্বামী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিসিএন শিক্ষা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. তারিকুল ইসলাম চৌধুরী, কুমিল্লা টাউনহলের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল কবীর, কুমিল্লা মডার্ন স্কুলের সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার, কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সফিউল আলম রায়হান, সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. জামাল নাছের ও লিবারেল আর্টস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আলী হোসেন চৌধুরী। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জোর দিলেন কৃষিমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৬:৪৩:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

কৃষি উৎপাদনে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনের দিকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা টাউনহল মাঠে কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী মেলার দ্বিতীয় দিনে ‘টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কারিগরি শিক্ষা এবং উদ্ভাবন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষিতে এগিয়ে যেতে হলে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হবে এবং নিজেদের ফসল নিজেদেরই উৎপাদন করতে হবে। সীমিত সম্পদ নিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে এবং এসব সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন  খাদ্য পরিস্থিতি সন্তোষজনক, চাল আমদানির প্রয়োজন পড়বে না: খাদ্য উপদেষ্টা

বাংলাদেশ কৃষি উৎপাদনের জন্য বিশ্বের অন্যতম উর্বর ও সম্ভাবনাময় স্থান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফসলে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে দেশের মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে এবং নিজেদের সুস্থ রাখতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জোর দেওয়া জরুরি। তাঁর ভাষায়, বিশ্বে খাদ্যের সংকট না থাকলেও নিরাপদ খাদ্যের ঘাটতি গুরুতর।

দেশের কৃষিপণ্যের সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কৃষিপণ্যকে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশে বাইরে থেকে কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি করবে—এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি। তবে বর্তমানে কাঁচা মরিচ, গাজর ও টমেটোর মতো কিছু কৃষিপণ্য আমদানি করতে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছুটির দিনে বাড়িতে গিয়ে মা-বাবার সঙ্গে কৃষিকাজে সহযোগিতা করছেন—এমন দৃশ্য তাঁকে আশাবাদী করেছে বলেও মন্তব্য করেন কৃষিমন্ত্রী।

সেমিনারের আগে মেলায় প্রদর্শিত বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। এ সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প পরিদর্শন করে তিনি তাদের প্রশংসা করেন।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তারের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার মো. সাখাওয়াত হাসান। স্বাগত বক্তব্য দেন কুমিল্লা কৃষি ও কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ পরমানন্দ গোস্বামী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিসিএন শিক্ষা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. তারিকুল ইসলাম চৌধুরী, কুমিল্লা টাউনহলের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল কবীর, কুমিল্লা মডার্ন স্কুলের সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার, কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সফিউল আলম রায়হান, সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. জামাল নাছের ও লিবারেল আর্টস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আলী হোসেন চৌধুরী। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।