এশিয়ার ফুটবলে আসছে ‘নেশনস লিগ’, নতুন সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের
- আপডেট সময় ০৩:৩১:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 15
এশিয়ার ফুটবলে আসছে ‘নেশনস লিগ’। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের কাঠামো বদলে এই নতুন প্রতিযোগিতা চালুর পরিকল্পনা করছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের জন্যও বদলে যাবে এশীয় ফুটবলে এগিয়ে যাওয়ার পথ।
ইএসপিএনের দেখা খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সাল থেকে দুই বছর পরপর এএফসি নেশনস লিগ আয়োজন করতে চায়। এ নিয়ে মঙ্গলবার সদস্য দেশগুলোর সামনে পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরার কথা রয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামোয় এশিয়ার দলগুলোকে তিনটি স্তরে ভাগ করা হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরে থাকবে ১৮টি করে দল। তৃতীয় স্তরে থাকবে ১১টি দল, যাদের তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হবে।
বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত নেশনস লিগের আসরে প্রতিটি দল ছয়টি করে হোম ও অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে। এর প্রথম আসর হওয়ার কথা ২০৩২-৩৩ মৌসুমে। প্রথম স্তরের শীর্ষ ছয় দল সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা পাবে। সপ্তম থেকে দশম স্থানে থাকা চার দল রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে প্লে-অফ খেলবে। সেখান থেকে সেরা দুই দল বিশ্বকাপের আরও দুটি টিকিট পাবে। তৃতীয় দলটি খেলবে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে।
২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইয়ে অবশ্য ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল। তৃতীয় পর্বে ১৮টি দলকে ছয়টি করে তিন গ্রুপে ভাগ করা হয়। প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সরাসরি বিশ্বকাপে ওঠে। এরপরের সেরা দুই দল চতুর্থ পর্বের প্লে-অফে অংশ নেয়।
এশিয়ান কাপের সঙ্গে যুক্ত নেশনস লিগের প্রথম আসর হওয়ার কথা ২০৩০ সালে। সেখানে প্রতিটি দল তিনটি হোম ও তিনটি অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে। এ ছাড়া এশিয়ান কাপ ২০৩১ থেকে সরিয়ে ২০৩২ সালে আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী প্রথম স্তরের সব দল এশিয়ান কাপে খেলবে। দ্বিতীয় স্তরের সেরা ছয় দলও জায়গা পাবে।
বিশ্বকাপ বা এশিয়ান কাপ—যে প্রতিযোগিতার সঙ্গেই নেশনস লিগ যুক্ত থাকুক, প্রথম স্তরের শীর্ষ আট দল নকআউট পর্বে যাবে। কোয়ার্টার ফাইনাল হবে হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে। তবে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল আয়োজন করা হবে নির্দিষ্ট কোনো কেন্দ্রীয় ভেন্যুতে।
প্রতিটি আসর শেষে দলগুলোর স্তর পরিবর্তনের সুযোগও থাকবে। প্রতিটি স্তরের নিচের দুই দল সরাসরি এক ধাপ নিচে নেমে যাবে। বিপরীতে নিচের স্তরের সেরা দুই দল সরাসরি ওপরে উঠবে। এ ছাড়া ওপরের স্তরের পরের চার দল ও নিচের স্তরের পরের চার দল প্লে-অফের মাধ্যমে স্তর পরিবর্তনের সুযোগ পাবে।
এএফসির প্রস্তাবে অঞ্চলভিত্তিক আলাদা গ্রুপ রাখার পরিকল্পনা নেই। সংস্থাটির মতে, বিভিন্ন অঞ্চলে দলের সংখ্যা সমান নয় এবং দলগুলোর মানেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ড্রয়ের সময় বিভিন্ন পটে দলগুলোকে রাখা হবে এবং অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ভারসাম্যপূর্ণ সূচি তৈরি করা হবে।
বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের বাইরে আলাদা কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজনের ধারণা বাদ দেওয়া হয়েছে। এএফসির বিবেচনায়, এতে ব্যয় বাড়ত এবং ম্যাচ আয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত সময়ও পাওয়া যেত না।
নতুন কাঠামোয় যাওয়ার আগে ২০২৮-২৯ মৌসুমে একটি পাইলট টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথমবার দলগুলোর স্তর নির্ধারণে ফিফা র্যাঙ্কিং ব্যবহার করা হবে না। এর পরিবর্তে প্রাথমিক যৌথ বাছাইয়ের ফলাফলের ভিত্তিতে দলগুলোর স্তর ঠিক করা হবে।
পাইলট আসরে প্রথম স্তরের বিশ্বকাপ বাছাইও বর্তমান কাঠামোর কাছাকাছি থাকবে। ছয়টি করে তিন গ্রুপে ভাগ করা দলগুলোর প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল ২০৩০ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পাবে। পরের চার সেরা দল প্লে-অফ খেলবে। সেখান থেকে সেরা দুই দল বিশ্বকাপে যাবে এবং তৃতীয় দল আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে অংশ নেবে। পাইলট আসরেই স্তর পরিবর্তন ও প্লে-অফের ব্যবস্থা থাকবে। এর ফলের ভিত্তিতেই ২০৩০ সালের প্রথম আনুষ্ঠানিক নেশনস লিগের স্তর নির্ধারিত হবে।
বাংলাদেশের সামনে কী?
প্রস্তাবিত নেশনস লিগে অঞ্চলভিত্তিক ভাগ না থাকায় বাংলাদেশকে শুধু দক্ষিণ এশিয়ার দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে না। পুরো এশিয়ার দলগুলোকে তিনটি স্তরে ভাগ করা হবে। ফলে বাংলাদেশের অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে ২০২৮-২৯ মৌসুমের পাইলট টুর্নামেন্ট।
সেখানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের বদলে প্রাথমিক যৌথ বাছাইয়ের ফলাফল দিয়ে বাংলাদেশের স্তর নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ ওই বাছাইপর্বই বাংলাদেশের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশ যদি তৃতীয় স্তরে থাকে, তাহলে নতুন কাঠামোয় বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপে সরাসরি জায়গা পাওয়ার পথ কঠিন হবে। কারণ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে প্রথম স্তরের শীর্ষ ছয় দল। এশিয়ান কাপে জায়গা পাবে প্রথম স্তরের সব দল এবং দ্বিতীয় স্তরের সেরা ছয় দল।
তবে নিচের স্তর থেকে ওপরে ওঠার সুযোগও থাকবে। প্রতিটি আসর শেষে প্রতি স্তরের সেরা দুই দল সরাসরি এক ধাপ ওপরে উঠবে। পাশাপাশি প্লে-অফের মাধ্যমেও স্তর পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। ফলে ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করলে বাংলাদেশের সামনে ধাপে ধাপে ওপরে ওঠার পথ খোলা থাকবে।
নতুন ব্যবস্থায় ম্যাচের সংখ্যাও বাড়বে। বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত আসরে প্রতিটি দল ছয়টি করে হোম ও অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে। আর এশিয়ান কাপের সঙ্গে যুক্ত আসরে খেলতে হবে তিনটি করে হোম ও অ্যাওয়ে ম্যাচ। এতে জাতীয় দলের নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ বাড়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের দর্শকদের ঘরের মাঠে দলকে দেখার সুযোগও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে সম্প্রচার ও স্পনসরশিপ থেকে আয়ের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
























