ঢাকা ০৮:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার
কোরবানির ঈদ

দেশি পশুতেই কোরবানির চাহিদা পূরণ, অর্থনীতিতে এক লাখ কোটি টাকার সম্ভাবনা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:০৩:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫
  • / 373

ছবি: সংগৃহীত

 

২০১৪ সালে ভারত সরকার বাংলাদেশে গরু রপ্তানি বন্ধ করার পর দেশীয় খামারিরা দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ফলে চলতি বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের আট লাখ ৮৭ হাজার ৫৪৪টি খামারে প্রস্তুত রয়েছে এক কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি পশু। এর মধ্যে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগ থেকেই আসবে মোট চাহিদার ৭০ শতাংশ।

প্রস্তুত পশুগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে রাজশাহীতে প্রায় ৪৩ লাখ। এরপর চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯ লাখ ৭৪ হাজার এবং খুলনা বিভাগে ১৪ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি পশু। শুধুমাত্র রাজশাহী বিভাগ থেকেই আসবে দেশের মোট কোরবানির পশুর প্রায় ৩৫ শতাংশ।

আরও পড়ুন  বাড়ানো হয়েছে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এবারের কোরবানির পশুর বাজার মূল্য প্রায় ৬৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রি হবে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার পশু। পাশাপাশি কোরবানির সময় সংগ্রহ হওয়া চামড়াও হবে এক কোটি পর্যন্ত, যা মোট চাহিদার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পূরণ করবে। সব মিলিয়ে এবারের কোরবানির অর্থনীতি ছাড়িয়ে যেতে পারে এক লাখ কোটি টাকা।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের খামারি সাজ্জাদ হোসেন সেতু কোরবানির জন্য নিজ খামারে কয়েক মাস ধরে ১২টি গরু লালন-পালন করেছেন। এর মধ্যে ছয়টি গরু ইতিমধ্যে রোজার ঈদে বিক্রি করেছেন। বাকি ছয়টি গরু এবার কোরবানির হাটে তুলবেন। একইসঙ্গে তিনি একজন এআই (কৃত্রিম প্রজনন) কর্মী, যিনি প্রতি মাসে ১৫০ থেকে ২০০টি প্রজনন করে থাকেন। তাঁর মাধ্যমে স্থানীয় অনেক তরুণ ও নারী খামারিরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

বর্তমানে স্থানীয় বাজারে আনুমানিক আড়াই মণ ওজনের গরু বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯৫ হাজার টাকায়। পাঁচ মণ ওজনের গরুর দাম দুই লাখ টাকার কাছাকাছি। খামারিরা বলছেন, পশুখাদ্যের দাম কমানো ও সহজ শর্তে ঋণ দিলে দেশীয় খামারিরাই পুরো চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবেন।

প্রজনন খাতে গত অর্থবছরে প্রায় ৫৫ লাখ কৃত্রিম প্রজনন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে গাভি ও বকনাতে হয়েছে প্রায় ৩৮ লাখ। বাছুর উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৭ লাখ। দেশের বাজারে এখন শাহিওয়াল জাতের গরুর চাহিদা বেশি।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান বলেন, “গরু মোটাতাজাকরণ, কৃত্রিম প্রজনন, উন্নত জাত সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার খামারিদের স্বনির্ভরতা বাড়িয়েছে। মাংসের বাড়তি চাহিদা পূরণে কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে হবে। তবে আমরা দেশীয় জাত সংরক্ষণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

নিউজটি শেয়ার করুন

কোরবানির ঈদ

দেশি পশুতেই কোরবানির চাহিদা পূরণ, অর্থনীতিতে এক লাখ কোটি টাকার সম্ভাবনা

আপডেট সময় ০১:০৩:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫

 

২০১৪ সালে ভারত সরকার বাংলাদেশে গরু রপ্তানি বন্ধ করার পর দেশীয় খামারিরা দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ফলে চলতি বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের আট লাখ ৮৭ হাজার ৫৪৪টি খামারে প্রস্তুত রয়েছে এক কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি পশু। এর মধ্যে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগ থেকেই আসবে মোট চাহিদার ৭০ শতাংশ।

প্রস্তুত পশুগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে রাজশাহীতে প্রায় ৪৩ লাখ। এরপর চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯ লাখ ৭৪ হাজার এবং খুলনা বিভাগে ১৪ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি পশু। শুধুমাত্র রাজশাহী বিভাগ থেকেই আসবে দেশের মোট কোরবানির পশুর প্রায় ৩৫ শতাংশ।

আরও পড়ুন  পশ্চিমবঙ্গে কোরবানির বাজারে হাহাকার, বিপাকে হিন্দু খামারিরা

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এবারের কোরবানির পশুর বাজার মূল্য প্রায় ৬৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রি হবে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার পশু। পাশাপাশি কোরবানির সময় সংগ্রহ হওয়া চামড়াও হবে এক কোটি পর্যন্ত, যা মোট চাহিদার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পূরণ করবে। সব মিলিয়ে এবারের কোরবানির অর্থনীতি ছাড়িয়ে যেতে পারে এক লাখ কোটি টাকা।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের খামারি সাজ্জাদ হোসেন সেতু কোরবানির জন্য নিজ খামারে কয়েক মাস ধরে ১২টি গরু লালন-পালন করেছেন। এর মধ্যে ছয়টি গরু ইতিমধ্যে রোজার ঈদে বিক্রি করেছেন। বাকি ছয়টি গরু এবার কোরবানির হাটে তুলবেন। একইসঙ্গে তিনি একজন এআই (কৃত্রিম প্রজনন) কর্মী, যিনি প্রতি মাসে ১৫০ থেকে ২০০টি প্রজনন করে থাকেন। তাঁর মাধ্যমে স্থানীয় অনেক তরুণ ও নারী খামারিরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

বর্তমানে স্থানীয় বাজারে আনুমানিক আড়াই মণ ওজনের গরু বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯৫ হাজার টাকায়। পাঁচ মণ ওজনের গরুর দাম দুই লাখ টাকার কাছাকাছি। খামারিরা বলছেন, পশুখাদ্যের দাম কমানো ও সহজ শর্তে ঋণ দিলে দেশীয় খামারিরাই পুরো চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবেন।

প্রজনন খাতে গত অর্থবছরে প্রায় ৫৫ লাখ কৃত্রিম প্রজনন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে গাভি ও বকনাতে হয়েছে প্রায় ৩৮ লাখ। বাছুর উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৭ লাখ। দেশের বাজারে এখন শাহিওয়াল জাতের গরুর চাহিদা বেশি।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান বলেন, “গরু মোটাতাজাকরণ, কৃত্রিম প্রজনন, উন্নত জাত সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার খামারিদের স্বনির্ভরতা বাড়িয়েছে। মাংসের বাড়তি চাহিদা পূরণে কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে হবে। তবে আমরা দেশীয় জাত সংরক্ষণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।