ঢাকা ০৭:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:১৫:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • / 25

ছবি সংগৃহীত

 

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনার কৌশলগত পরিকল্পনা। ম্যাচজুড়ে লিওনেল মেসিকে কার্যকরভাবে খেলার সুযোগ করে দিতে না পারা এবং আক্রমণভাগে ব্যর্থতাকেই পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে বিবিসি বাংলা। ফাইনাল শেষে আবেগাপ্লুত মেসিকে দীর্ঘ সময় মাঠে বসে থাকতে দেখা যায়।

নিউইয়র্ক-নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শেষ বাঁশি বাজতেই স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালদের উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে পুরো দল। অন্যদিকে, গ্যালারিতে আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা মেসির নামে স্লোগান দিলেও ৩৯ বছর বয়সী এই তারকাকে দেখা যায় নীরব ও আবেগঘন মুহূর্তে। অনেকের কাছে এটি বিশ্বকাপের মঞ্চে তার সম্ভাব্য শেষ উপস্থিতির প্রতীক হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন  সুইজারল্যান্ডকে বিদায় করে সেমিফাইনালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, মেসির আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো তার সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে সংবাদ সম্মেলন ছেড়ে চলে যান।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একাধিকবার নিজের খেলার ধরন বদলে সফল হয়েছেন মেসি। বার্সেলোনায় ১৬ বছর বয়সে অভিষেকের পর বিভিন্ন ভূমিকায় নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন তিনি। আর্জেন্টিনা ও ইন্টার মায়ামির বর্তমান মেসিও সেই বিবর্তনের ধারাবাহিকতা। ৩৯ বছর বয়সেও এবারের বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স প্রশংসিত হয়েছে।

তবে ফাইনালে আর্জেন্টিনার কৌশল ছিল ভিন্ন। দলটি শুরু থেকেই শারীরিক লড়াই ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের ওপর জোর দেয়। এতে মেসি কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন এবং ম্যাচজুড়ে নিজের স্বাভাবিক প্রভাব রাখতে পারেননি।

অন্যদিকে স্পেন পুরো ম্যাচে ছন্দ ধরে রেখে নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলেছে। ম্যাচের শুরুতে দানি ওলমোর ওপর আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের কঠিন ফাউলকে কেন্দ্র করে রেফারিং নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। গ্যালারি থেকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে স্লোগানও শোনা যায়। টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনা রেফারিংয়ে সুবিধা পেয়েছে—এমন অভিযোগের প্রতিফলন হিসেবেই এই প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ম্যাচের শেষ দিকে আর্জেন্টিনার হতাশা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। শেষ বাঁশির পর দুই দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। বদলি খেলোয়াড় লেয়ান্দ্রো পারেদেসও একাধিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

পরিসংখ্যানও আর্জেন্টিনার ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নির্ধারিত ৯০ মিনিটে একটি শটও নিতে পারেনি দলটি। পুরো ম্যাচে স্পেনের অন টার্গেট শট ছিল ১২টি, বিপরীতে আর্জেন্টিনার ছিল শূন্য। অতিরিক্ত সময়ের ১১৭তম মিনিটে মেসি একটি সুযোগ পেলেও তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের শেষ তৃতীয়াংশে আর্জেন্টিনা যতটি পাস দিয়েছে, তার চেয়ে বেশি ফাউল করেছে। শেষ তৃতীয়াংশে তাদের পাস ছিল আটটি, আর ফাউল ছিল নয়টি। এই পরিসংখ্যান দলটির কৌশলগত সীমাবদ্ধতারই প্রতিফলন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফাইনালের শেষ বাঁশির পর সতীর্থদের সঙ্গে আবেগ ভাগ করে নিতে দেখা যায় মেসিকে। এটি ছিল বিশ্বকাপে তার ৩৪তম ম্যাচ। ফলে অনেকের ধারণা, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে এটাই হয়তো লিওনেল মেসির শেষ অধ্যায়। যদিও শিরোপা জিতে বিদায় নেওয়া হয়নি, তবুও দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলে তার অসাধারণ অবদান, অসংখ্য রেকর্ড ও নান্দনিক ফুটবলের জন্য তিনি সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবেই স্মরণীয় থাকবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ

আপডেট সময় ০৪:১৫:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

 

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনার কৌশলগত পরিকল্পনা। ম্যাচজুড়ে লিওনেল মেসিকে কার্যকরভাবে খেলার সুযোগ করে দিতে না পারা এবং আক্রমণভাগে ব্যর্থতাকেই পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে বিবিসি বাংলা। ফাইনাল শেষে আবেগাপ্লুত মেসিকে দীর্ঘ সময় মাঠে বসে থাকতে দেখা যায়।

নিউইয়র্ক-নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শেষ বাঁশি বাজতেই স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালদের উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে পুরো দল। অন্যদিকে, গ্যালারিতে আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা মেসির নামে স্লোগান দিলেও ৩৯ বছর বয়সী এই তারকাকে দেখা যায় নীরব ও আবেগঘন মুহূর্তে। অনেকের কাছে এটি বিশ্বকাপের মঞ্চে তার সম্ভাব্য শেষ উপস্থিতির প্রতীক হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন  চমক দিয়ে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে চিলি-কলম্বিয়া বিপক্ষে আর্জেন্টিনার স্কোয়াড ঘোষণা

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, মেসির আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো তার সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে সংবাদ সম্মেলন ছেড়ে চলে যান।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একাধিকবার নিজের খেলার ধরন বদলে সফল হয়েছেন মেসি। বার্সেলোনায় ১৬ বছর বয়সে অভিষেকের পর বিভিন্ন ভূমিকায় নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন তিনি। আর্জেন্টিনা ও ইন্টার মায়ামির বর্তমান মেসিও সেই বিবর্তনের ধারাবাহিকতা। ৩৯ বছর বয়সেও এবারের বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স প্রশংসিত হয়েছে।

তবে ফাইনালে আর্জেন্টিনার কৌশল ছিল ভিন্ন। দলটি শুরু থেকেই শারীরিক লড়াই ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের ওপর জোর দেয়। এতে মেসি কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন এবং ম্যাচজুড়ে নিজের স্বাভাবিক প্রভাব রাখতে পারেননি।

অন্যদিকে স্পেন পুরো ম্যাচে ছন্দ ধরে রেখে নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলেছে। ম্যাচের শুরুতে দানি ওলমোর ওপর আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের কঠিন ফাউলকে কেন্দ্র করে রেফারিং নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। গ্যালারি থেকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে স্লোগানও শোনা যায়। টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনা রেফারিংয়ে সুবিধা পেয়েছে—এমন অভিযোগের প্রতিফলন হিসেবেই এই প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ম্যাচের শেষ দিকে আর্জেন্টিনার হতাশা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। শেষ বাঁশির পর দুই দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। বদলি খেলোয়াড় লেয়ান্দ্রো পারেদেসও একাধিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

পরিসংখ্যানও আর্জেন্টিনার ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নির্ধারিত ৯০ মিনিটে একটি শটও নিতে পারেনি দলটি। পুরো ম্যাচে স্পেনের অন টার্গেট শট ছিল ১২টি, বিপরীতে আর্জেন্টিনার ছিল শূন্য। অতিরিক্ত সময়ের ১১৭তম মিনিটে মেসি একটি সুযোগ পেলেও তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের শেষ তৃতীয়াংশে আর্জেন্টিনা যতটি পাস দিয়েছে, তার চেয়ে বেশি ফাউল করেছে। শেষ তৃতীয়াংশে তাদের পাস ছিল আটটি, আর ফাউল ছিল নয়টি। এই পরিসংখ্যান দলটির কৌশলগত সীমাবদ্ধতারই প্রতিফলন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফাইনালের শেষ বাঁশির পর সতীর্থদের সঙ্গে আবেগ ভাগ করে নিতে দেখা যায় মেসিকে। এটি ছিল বিশ্বকাপে তার ৩৪তম ম্যাচ। ফলে অনেকের ধারণা, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে এটাই হয়তো লিওনেল মেসির শেষ অধ্যায়। যদিও শিরোপা জিতে বিদায় নেওয়া হয়নি, তবুও দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলে তার অসাধারণ অবদান, অসংখ্য রেকর্ড ও নান্দনিক ফুটবলের জন্য তিনি সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবেই স্মরণীয় থাকবেন।