সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৫:১৬:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
- / 23
মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারে ১০৯ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সীমান্তের বিদ্যমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, মাদক চোরাচালান, গোলাগুলির ঝুঁকি এবং সীমান্ত অস্থিতিশীলতার বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিভিন্ন কারণে মিয়ানমার সীমান্ত বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে আরাকান আর্মি, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং আরও কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় নিয়মিত সংঘর্ষ চলছে। এসব সংঘাতের প্রভাব অনেক সময় বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকাতেও এসে পড়ে।
তিনি বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং ওপার থেকে গোলাগুলির ঘটনায় বাংলাদেশের নাগরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। এসব বিষয় মোকাবিলায় সরকার ১০৯ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রস্তাব বিবেচনা করছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এক নয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই সীমান্তের বাস্তবতা ভিন্ন হওয়ায় একই দৃষ্টিভঙ্গিতে সেগুলো মূল্যায়ন করা যাবে না।
সীমান্ত এলাকায় ল্যান্ডমাইনের ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি জানান, মাইন শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করে ইতোমধ্যে বিজিবির কাছে সরবরাহ করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে কাজ করছেন, যাতে ভবিষ্যতে মাইন বিস্ফোরণের মতো দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
ভারত থেকে কথিত ‘পুশইন’ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার এখন পর্যন্ত কাউকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়নি। বিজিবি এবং সীমান্ত এলাকার জনগণের সহযোগিতায় এ ধরনের প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভারতে অবস্থানরত কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশি নাগরিক হলে নিয়ম অনুযায়ী ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের তালিকা দিতে হবে। এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তা যাচাই করবে এবং সত্যতা মিললে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এর বাইরে অন্য কোনো উপায়ে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
বিজিবির সদস্যদের সীমান্তে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য প্রতি বছর বিজিবি সদস্যদের পদক দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে পদকের পাশাপাশি সনদ বা অন্য কোনো বিশেষ স্বীকৃতির ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়ে বিজিবির মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশের ক্ষেত্রে ভালো কাজের জন্য পুরস্কার এবং অনিয়মের জন্য তিরস্কারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার উদ্দেশ্য বাহিনীকে আরও জনবান্ধব করা। একইভাবে প্রয়োজন হলে বিজিবির ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত স্বীকৃতির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।






















