শাহজালালে পায়ুপথে সোনার ডিম চোরাচালানে ব্যবহৃত হচ্ছে নানা কৌশল
- আপডেট সময় ১০:৫৭:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 27
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এবার ডিমের আকৃতির সোনার পেস্ট উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টম হাউস। এক যাত্রীর পায়ুপথে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় তিনটি প্যাকেট থেকে এসব সোনার পেস্ট উদ্ধার করা হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা সোনার পেস্টের মোট ওজন ১ হাজার ২৯০ গ্রাম। প্যাকেটগুলো পরিশোধনের পর প্রায় এক কেজি সোনা পাওয়া যেতে পারে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইট ঢাকায় আসে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই ফ্লাইটের যাত্রীদের ওপর নজরদারি শুরু করেন ঢাকা কাস্টম হাউসের গোয়েন্দারা।
ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম শেষ করে ব্যাগেজ বেল্ট-২ এলাকায় যাওয়ার পর আরমান উদ্দীন সিদ্দিক নামের এক যাত্রীকে সন্দেহের ভিত্তিতে তল্লাশি করা হয়। এ সময় তাঁর পায়ুপথে সাদা স্কচটেপে মোড়ানো ডিম্বাকৃতির তিনটি প্যাকেট পাওয়া যায়। প্যাকেট খুলে সোনার পেস্টের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।
প্রতিটি প্যাকেটে ছিল ৪৩০ গ্রাম করে সোনার পেস্ট। তিনটি প্যাকেটে মোট ১ হাজার ২৯০ গ্রাম পেস্ট ছিল। কাস্টমসের ধারণা, এগুলো পরিশোধনের পর প্রায় এক কেজি ২৪ ক্যারেটের সোনা পাওয়া যাবে।
এ ঘটনায় ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ঢাকা কাস্টম হাউস।
চোরাচালানে সোনার নানা রূপ
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোনা উদ্ধারের ঘটনা নতুন নয়। তবে চোরাচালানকারীরা সোনা পাচারে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে। কখনো সোনার বার বা বিস্কুট আকারে, আবার কখনো পেস্ট, গুঁড়া কিংবা রাসায়নিকভাবে মিশ্রিত অবস্থায় সোনা আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
যাত্রীদের শরীরের বিভিন্ন অংশ, পোশাক, জুতা ও লাগেজে সোনা লুকিয়ে আনার ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি উড়োজাহাজের টয়লেট ও সিটের নিচ থেকেও সোনা উদ্ধারের নজির রয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর দুবাই থেকে আসা এমিরেটসের একটি ফ্লাইটের দুই বিমানকর্মীর জুতার ভেতর থেকে ৮০টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। বারগুলোর মোট ওজন ছিল প্রায় ৯ দশমিক ৩৪ কেজি। কাস্টমসের হিসাবে, এসব সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
এর আগে গত বছর এপ্রিল মাসে দুবাই থেকে সিলেট হয়ে ঢাকায় আসা একটি ফ্লাইটের এক যাত্রীর পোশাক থেকে সোনার মতো গুঁড়া উদ্ধার করা হয়। তাঁর চার জোড়া অন্তর্বাস, একটি প্যান্ট ও তিনটি টি-শার্টে বিশেষভাবে ওই পদার্থ লুকানো ছিল। রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিশোধনের পর সেখান থেকে প্রায় ২ কেজি ৪১৭ গ্রাম সোনা পাওয়া যায়।
পাঁচ বছরে বড় পরিমাণ সোনা উদ্ধার
ঢাকা কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সোনার মধ্যে বার, বিস্কুট, পেস্ট, গুঁড়া ও রাসায়নিকভাবে বহন করা সোনাও রয়েছে।
চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত প্রথম সাত মাসে বিমানবন্দরটি থেকে ৫৩ দশমিক ৭২৭ কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছে। এর আগে সবচেয়ে বেশি সোনা উদ্ধারের ঘটনা ঘটে ২০২২–২৩ অর্থবছরে। ওই অর্থবছরে প্রায় ৪৩ হাজার ২১ কেজি সোনা উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে ঢাকা কাস্টম হাউস।
ঢাকা কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, আজকের ঘটনাটি ব্যতিক্রম। এর আগে সোনার বার, বিস্কুট এবং জামাকাপড়ে লুকানো সোনা উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।
শাহজালালে সোনা চোরাচালান ঠেকাতে সন্দেহভাজন যাত্রীদের তল্লাশির পাশাপাশি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উড়োজাহাজেও অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

























