২০৮ প্রবাসী ‘জুলাই যোদ্ধা’র ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে হাইকোর্টের আদেশ
- আপডেট সময় ০৫:৫০:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
- / 82
জুলাই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে প্রবাসে কারাভোগ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসা ২০৮ জন ‘জুলাই যোদ্ধা’র প্রত্যেককে কেন ২৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (৪ মে) বিচারপতি ফাতেমা নজীবের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী। শুনানিতে তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই আন্দোলনের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার দাবির পক্ষে অবস্থান নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাজাপ্রাপ্ত ৫৭ জন শ্রমিকসহ মোট ২০৮ জন প্রবাসীকে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। এই বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে তারা কর্মস্থল হারিয়েছেন এবং বিদেশের মাটিতে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন।
রিট আবেদনকারীর দাবি অনুযায়ী, এই প্রবাসীরা দেশের সংকটে বিদেশের মাটিতে নিজেদের জীবন ও জীবিকা বাজি রেখে প্রতিবাদ করেছেন। ফলে তাদের পুনর্বাসন এবং জীবনমান নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয়ভাবে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া অপরিহার্য। আদালতের রুল জারির পর ব্যারিস্টার সানজিদ সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে জানান, এই ২০৮ জন প্রবাসীর আত্মত্যাগ অনন্য, তাই তাদের যথাযথ সম্মান ও আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করা সরকারের দায়িত্ব।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাজাপ্রাপ্ত ৫৭ জনসহ অন্যদের আইনি লড়াই ও দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকার আগে থেকেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিল। এখন হাইকোর্টের এই রুলের মাধ্যমে তাদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও স্থায়ী পুনর্বাসনের বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করল। আদালত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে এই বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করার নির্দেশ দিয়েছেন।

























