ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রের ফাঁদে পড়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা
- আপডেট সময় ০১:২৯:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 43
পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলা ইউনিয়নে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নাবালিকা মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মো. আখিনুর নামে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই শাহীনুর ইসলাম বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় আখিনুরকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আখিনুর চাকলা ইউনিয়নের কদমতলী এলাকার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি দাখিল মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী। আখিনুরও একই মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত। মাদরাসায় যাওয়া-আসার পথে আখিনুর তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিত। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ মে রাতে বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগে আখিনুর ওই কিশোরীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করে।
পরে কিশোরীর শারীরিক অবস্থায় পরিবর্তন দেখা দিলে গত ৫ সেপ্টেম্বর তাকে পঞ্চগড় লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষায় তাকে ১৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়। এরপর পরিবারের সদস্যদের কাছে আখিনুরের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ করে কিশোরী।
এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে আইনি ব্যবস্থা নিতে কিছুটা সময় লেগেছে।
মামলার বাদী শাহীনুর ইসলাম অভিযোগ করেন, তাদের বাবা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ এবং মা বাক্প্রতিবন্ধী। এই পারিবারিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আখিনুর ঘটনাটি ঘটিয়েছে। মামলা করার পর আসামির পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে আখিনুরের চাচা মনিরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার ভাতিজা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। মামলা না করে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করতে চেয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
আখিনুরের বয়স নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মনিরুল ইসলাম। তার দাবি, আখিনুরের জন্ম ২০১২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। সে হিসাবে তার বয়স ১৪ বছরের কিছু বেশি। অথচ মামলার এজাহারে তার বয়স ১৯ বছর উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মাদরাসার সুপার হাবিবুর জানান, আখিনুর তাদের মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল। কিছুদিন আগে সিগারেট খাওয়ার অভিযোগে তাকে মাদরাসায় আসতে নিষেধ করা হয়েছিল। এরপর থেকে সে দীর্ঘদিন মাদরাসায় আসেনি। ভুক্তভোগী কিশোরীও একই মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকলেছুর রহমান বলেন, মামলা পাওয়ার পর ভুক্তভোগী কিশোরীর বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। পরে মামলার প্রধান আসামি আখিনুরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষা ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।























