‘মক্কা জোট’ হবে যুগান্তকারী প্ল্যাটফর্ম: তুরস্ক
- আপডেট সময় ০৭:০৩:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 25
তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের উদ্যোগে গড়ে উঠতে যাওয়া ‘মক্কা জোট’ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তার ভাষায়, জোটটি হবে একটি ‘যুগান্তকারী প্ল্যাটফর্ম’।
একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান বলেন, তিন দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃঢ় আগ্রহের কারণে জোট গঠনের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। খুব শিগগির এর প্রধান কার্যালয় চালু করা হবে এবং সেখানে প্রয়োজনীয় সামরিক কর্মকর্তাদের মোতায়েন করা হবে।
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ‘মক্কা জোটের’ উদ্দেশ্য নয়। বরং এই অঞ্চলের দেশগুলো যাতে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে পারে এবং নিজেদের মধ্যকার সমস্যাগুলোর সমাধান নিজেরাই করতে পারে, সে লক্ষ্যেই উদ্যোগটি নেওয়া হচ্ছে।
সৌদি আরবের নিরাপত্তার বিষয়েও তুরস্কের অবস্থান তুলে ধরেন ফিদান। তিনি বলেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষা এবং দেশটির ওপর হামলা প্রতিহত করার ক্ষেত্রে আঙ্কারা পাশে থাকবে।
জোটটিকে ইসরাইল ও ভারত যেভাবে গুরুত্বহীন বা বাস্তবায়নযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করছে, সে বিষয়ে ফিদান বলেন, তিনি এসব সমালোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তার মতে, জোট নিয়ে বিরোধিতার বিষয়টিও এর সম্ভাব্য প্রভাবের একটি ইঙ্গিত।
সাক্ষাৎকারে গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংঘাত নিয়েও কথা বলেন ফিদান। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখার স্বার্থে গাজা ও সিরিয়ায় একের পর এক সংকট তৈরি করছেন।
ফিলিস্তিনিদের জন্য তুরস্ক তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে সিরিয়ায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারের পতনের পর দেশটির পুনর্গঠনে তুরস্ক কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন ফিদান।
ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারার বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় তুরস্ক কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
সাক্ষাৎকারে বিশ্ব রাজনীতির আরও কয়েকটি বিষয় তুলে ধরেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এরদোগানের সম্পর্ক উন্নয়ন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেও কৃষ্ণসাগরে শস্য সরবরাহ সচল রাখা এবং গ্রিসের সঙ্গে এজিয়ান সাগরের উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে তুরস্কের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি।
এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে ভবিষ্যতের জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন ফিদান। তিনি বলেন, প্রযুক্তির নতুন যুগে নিজেদের সক্ষমতা ধরে রাখতে তুরস্ককে শক্তিশালী ডেটা সেন্টার এবং নিজস্ব প্রযুক্তি উন্নয়নে সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
























