ঢাকা ১১:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

শান্তি ও ন্যায়বিচারে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ডাক প্রধান বিচারপতির

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৩০:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫
  • / 466

ছবি: সংগৃহীত

 

বিশ্বব্যাপী আইনের শাসন ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ইউএনডিপির বার্ষিক ‘রুল অব ল’ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার (১০ জুন) রাতে অনলাইনে যুক্ত হয়ে এই আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, “বিশ্বজুড়ে আইনের শাসন ও মানবাধিকার রক্ষায় আমাদের প্রচেষ্টা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে। সবার জন্য সমান ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

আরও পড়ুন  সিরিয়ার ওপর সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেন ট্রাম্প প্রশাসন

তিনি বলেন, জাতিসংঘ সনদের মূলকেন্দ্রে রয়েছে ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের ধারণা। ভবিষ্যতের উন্নয়নের চুক্তিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যেখানে মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা থাকবে অটুট। এই উদ্দেশ্যে জাতিসংঘকে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির ভিত্তি হিসেবে আইনের শাসনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

এ সময় তিনি একটি স্বাধীন, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক বিচার বিভাগ গড়ে তোলার পক্ষে জাতিসংঘের সহায়তা কামনা করেন।

বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে প্রধান বিচারপতি বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর দেশে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সেই বিপ্লব ছিল স্বৈরাচার, অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তরুণদের অভূতপূর্ব প্রতিরোধ। এই প্রেক্ষাপটে দেশের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে, আমি ন্যায়বিচার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি রূপান্তরমূলক সংস্কার এজেন্ডা গ্রহণ করি।

তিনি বলেন, আমি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি ৪২ লাখ মামলার জট এবং বিচার বিভাগের প্রতি গভীর অবিশ্বাস। তবু এই বিশাল চাপ আমাকে নিরুৎসাহিত করেনি। বরং আমি বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একটি বাস্তবভিত্তিক সংস্কার রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছি।

প্রধান বিচারপতি জানান, এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করা হচ্ছে। ডিজিটাল রূপান্তর, জন-কেন্দ্রিক পদ্ধতি, প্রযুক্তি ও সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করছে ইউএনডিপি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও সুইডেনসহ অনেক আন্তর্জাতিক অংশীদার এই উদ্যোগে সহায়তা করছে।

তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ইউএনডিপি সমর্থিত ট্রানজিশনাল জাস্টিস মডেল নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনায় আমি আশাবাদী হয়েছি যে, সুদূরপ্রসারী বিচারিক সংস্কার ছাড়া কোনো স্বৈরশাসিত সমাজে টেকসই গণতন্ত্র গড়া সম্ভব নয়।

প্রধান বিচারপতি বলেন, “বিচার বিভাগকে আগে নিজের সাংবিধানিকতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। একমাত্র স্বাধীন বিচার ব্যবস্থাই পারে জনগণের কাছে ন্যায়বিচারের প্রতীক হয়ে উঠতে।”

তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, অশান্ত সময়েও বাংলাদেশের বিচারিক সংস্কারের এই প্রয়াস একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে—যা প্রমাণ করে, ন্যায়বিচার অনুপস্থিত থাকলে তা রাস্তায় প্রতিফলিত হয়। তাই শান্তি, স্থিতিশীলতা ও মানবাধিকারের পথে অগ্রসর হতে হলে আমাদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতেই হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

শান্তি ও ন্যায়বিচারে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ডাক প্রধান বিচারপতির

আপডেট সময় ০১:৩০:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫

 

বিশ্বব্যাপী আইনের শাসন ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ইউএনডিপির বার্ষিক ‘রুল অব ল’ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার (১০ জুন) রাতে অনলাইনে যুক্ত হয়ে এই আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, “বিশ্বজুড়ে আইনের শাসন ও মানবাধিকার রক্ষায় আমাদের প্রচেষ্টা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে। সবার জন্য সমান ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

আরও পড়ুন  বিচার বিভাগের সংস্কারে সহযোগিতা করছে গণমাধ্যম: প্রধান বিচারপতি

তিনি বলেন, জাতিসংঘ সনদের মূলকেন্দ্রে রয়েছে ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের ধারণা। ভবিষ্যতের উন্নয়নের চুক্তিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যেখানে মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা থাকবে অটুট। এই উদ্দেশ্যে জাতিসংঘকে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির ভিত্তি হিসেবে আইনের শাসনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

এ সময় তিনি একটি স্বাধীন, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক বিচার বিভাগ গড়ে তোলার পক্ষে জাতিসংঘের সহায়তা কামনা করেন।

বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে প্রধান বিচারপতি বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর দেশে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সেই বিপ্লব ছিল স্বৈরাচার, অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তরুণদের অভূতপূর্ব প্রতিরোধ। এই প্রেক্ষাপটে দেশের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে, আমি ন্যায়বিচার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি রূপান্তরমূলক সংস্কার এজেন্ডা গ্রহণ করি।

তিনি বলেন, আমি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি ৪২ লাখ মামলার জট এবং বিচার বিভাগের প্রতি গভীর অবিশ্বাস। তবু এই বিশাল চাপ আমাকে নিরুৎসাহিত করেনি। বরং আমি বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একটি বাস্তবভিত্তিক সংস্কার রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছি।

প্রধান বিচারপতি জানান, এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করা হচ্ছে। ডিজিটাল রূপান্তর, জন-কেন্দ্রিক পদ্ধতি, প্রযুক্তি ও সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করছে ইউএনডিপি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও সুইডেনসহ অনেক আন্তর্জাতিক অংশীদার এই উদ্যোগে সহায়তা করছে।

তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ইউএনডিপি সমর্থিত ট্রানজিশনাল জাস্টিস মডেল নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনায় আমি আশাবাদী হয়েছি যে, সুদূরপ্রসারী বিচারিক সংস্কার ছাড়া কোনো স্বৈরশাসিত সমাজে টেকসই গণতন্ত্র গড়া সম্ভব নয়।

প্রধান বিচারপতি বলেন, “বিচার বিভাগকে আগে নিজের সাংবিধানিকতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। একমাত্র স্বাধীন বিচার ব্যবস্থাই পারে জনগণের কাছে ন্যায়বিচারের প্রতীক হয়ে উঠতে।”

তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, অশান্ত সময়েও বাংলাদেশের বিচারিক সংস্কারের এই প্রয়াস একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে—যা প্রমাণ করে, ন্যায়বিচার অনুপস্থিত থাকলে তা রাস্তায় প্রতিফলিত হয়। তাই শান্তি, স্থিতিশীলতা ও মানবাধিকারের পথে অগ্রসর হতে হলে আমাদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতেই হবে।