কাল থেকে চলবে ১০টি স্পেশাল ট্রেন, যুক্ত হচ্ছে ৫১টি বাড়তি কোচ
- আপডেট সময় ০১:০১:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
- / 61
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন করতে আগামীকাল সোমবার থেকে রেলওয়ের ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন অর্থাৎ অতিরিক্ত ১০টি স্পেশাল ট্রেন চলাচল করবে। এর পাশাপাশি ঈদ যাত্রায় যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামলাতে ট্রেনের বহরে আরও ৫১টি নতুন কোচ উন্মুক্ত করা হয়েছে।
রবিবার (২৪ মে) ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঈদ যাত্রার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও প্রস্তুতি সরেজমিনে পরিদর্শন করতে গিয়ে রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সংবাদমাধ্যমকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
রেলমন্ত্রী বলেন, দেশের লাখ লাখ সাধারণ মানুষের ট্রেনে চড়ে ঈদ যাতায়াতের ইচ্ছা থাকলেও সেই তুলনায় রেলওয়ের বর্তমান সক্ষমতা পর্যাপ্ত নয়। নিয়মিত ব্যবস্থাপনায় প্রতিদিন মাত্র ৩২ হাজার মানুষকে আন্তঃনগর ট্রেনে যাতায়াতের সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব হয়।
তবে ঈদ উপলক্ষে সেই ধারণক্ষমতা আরও ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে অতিরিক্ত ৪ হাজার যাত্রী পরিবহনের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চাহিদার তুলনায় ট্রেনের সংখ্যা, লোকোমোটিভ, বগি এবং রেললাইনের সীমাবদ্ধতা থাকার কারণে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার পুরো ব্যবস্থাপনাটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
রেললাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত শিডিউল বিপর্যয় প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম জানান, রেললাইনের যেসব স্থানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বা ডিরেল হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেসব স্থান আগে থেকেই চিহ্নিত করে এবার ঈদের পূর্বেই বিশেষ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সকাল থেকে কারিগরি কারণে ৩টি ট্রেনের চলাচলে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। এর মধ্যে একটি ট্রেনের চাকা রেললাইনে স পিছলে যাওয়ার (হুইল স্লিপ) কারণে আসতে দেরি করেছে। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রেনটি সচল করার পর শিডিউলে কিছুটা ব্যত্যয় ঘটে, যার ফলে কোনোটি ২০ মিনিট, কোনোটি ১ ঘণ্টা এবং কোনোটি ২ ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়েছে।
স্টেশনগুলোর আধুনিকায়ন ও টিকিট বিক্রির বিষয়ে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের অনেক রেল স্টেশন এখনো পুরোপুরি সুরক্ষিত নয় এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বিদ্যমান অবকাঠামো নিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
এবারের টিকিট বিক্রিতে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা অনিয়ম হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। সম্পূর্ণ অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছতার সাথে টিকিট বিতরণ করা হয়েছে এবং যাত্রীরাও আগের চেয়ে উন্নত সেবা, পরিবেশ ও শিডিউল নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
কমলাপুর স্টেশন পরিদর্শনের সময় রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, সংশ্লিষ্ট সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।






















