ঢাকা ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির একচেটিয়া জয়, শূন্য হাতে জামায়াত শাহজালাল বিমানবন্দরে চারদিনে ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল দুদকে পরিবর্তন, চেয়ারম্যান-কমিশনারদের পদত্যাগ পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: রক্তের ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সভাপতির বিলবোর্ড ও ব্যানার থেকে নিজের ছবি সরানোর নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী বলিভিয়া: আন্দেসের হৃদয়ে লুকানো বৈচিত্র্যময় দেশ মধ্যপ্রাচ্যের ১৫ দেশ ছাড়ার জরুরি নির্দেশ দিল যুক্তরাষ্ট্র

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ?

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫
  • / 141

ছবি: সংগৃহীত

 

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের শিকার হলেন পোলিশ সংসদ সদস্য গ্রেজগোরজ ব্রাউন। তাকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত পার্লামেন্ট কার্যক্রম থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, তিনি ইসরায়েল-গাজা সংঘাতের প্রেক্ষিতে ‘অনুপযুক্ত’ মন্তব্য করেছেন, যা ইউরোপীয়ান সংসদের নীতি বহির্ভূত বলে বিবেচিত হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে হলোকাস্টের শিকার ইহুদিদের স্মরণে আয়োজিত এক মিনিট নীরবতা পালনের সময়। সেই মুহূর্তে ব্রাউন উচ্চস্বরে বলেন, ‘গাজায় ইহুদি গণহত্যার শিকারদের জন্য প্রার্থনা করুন।’ তার এই মন্তব্য মুহূর্তেই পার্লামেন্টে আলোড়ন তোলে এবং ইউরোপীয়ান পার্লামেন্ট তাকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বরখাস্ত করে।

আরও পড়ুন  ট্রাম্পের প্রথম পার্লামেন্ট ভাষণে প্রধান আলোচ্য বিষয়সমূহ যা যা ছিল, আমেরিকা ফাস্ট নীতির জোরালো প্রতিধ্বনি

ব্রাউনের শাস্তির খবরে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সমর্থকরা বলছেন, তিনি আসলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান মানবিক সংকটের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, যেখানে গাজার নিরীহ জনগণও ভয়াবহ সহিংসতার শিকার হচ্ছে। তাদের মতে, একটি নির্দিষ্ট ইতিহাস স্মরণ করা যাবে, কিন্তু চলমান অন্যায় নিয়ে কথা বলা যাবে না এমন নীতি গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অন্যদিকে, ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের কর্মকর্তারা মনে করেন, হলোকাস্ট স্মরণ অনুষ্ঠানে এমন বক্তব্য প্রদান স্পষ্টতই উসকানিমূলক এবং বিধিসম্মত নয়। তারা বলছেন, ব্রাউন ইচ্ছাকৃতভাবে পার্লামেন্টের নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন এবং তার মন্তব্য রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াতে পারে।

এ ঘটনা আবারও ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের ‘দ্বৈত নীতি’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে, একদিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বুলি কপচানো হয়, কিন্তু ভিন্নমত প্রকাশ করলেই শাস্তির মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে ইউরোপীয়ান দেশগুলোর নীরবতা এবং ইসরায়েলের সমর্থন নিয়ে বিতর্ক নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

ব্রাউনের বরখাস্তের ঘটনায় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সত্যিই নিরপেক্ষ অবস্থান নিচ্ছে, নাকি রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করছে এ প্রশ্ন এখন অনেকের মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যদি গণতন্ত্রের ভিত্তি হয়, তাহলে একপক্ষের দুঃখকষ্টের কথা বলা যাবে, আরেক পক্ষের নয় এমন নীতি কতটা গ্রহণযোগ্য?

ব্রাউনের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ আদতে ন্যায়সঙ্গত, নাকি মতপ্রকাশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার আরেকটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ?

আপডেট সময় ১১:১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫

 

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের শিকার হলেন পোলিশ সংসদ সদস্য গ্রেজগোরজ ব্রাউন। তাকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত পার্লামেন্ট কার্যক্রম থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, তিনি ইসরায়েল-গাজা সংঘাতের প্রেক্ষিতে ‘অনুপযুক্ত’ মন্তব্য করেছেন, যা ইউরোপীয়ান সংসদের নীতি বহির্ভূত বলে বিবেচিত হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে হলোকাস্টের শিকার ইহুদিদের স্মরণে আয়োজিত এক মিনিট নীরবতা পালনের সময়। সেই মুহূর্তে ব্রাউন উচ্চস্বরে বলেন, ‘গাজায় ইহুদি গণহত্যার শিকারদের জন্য প্রার্থনা করুন।’ তার এই মন্তব্য মুহূর্তেই পার্লামেন্টে আলোড়ন তোলে এবং ইউরোপীয়ান পার্লামেন্ট তাকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বরখাস্ত করে।

আরও পড়ুন  ইইউ-এর পণ্যে ট্রাম্পের ২৫ শতাংশ শুল্ক হুমকি: ইউরোপীয় প্রতিবাদ

ব্রাউনের শাস্তির খবরে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সমর্থকরা বলছেন, তিনি আসলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান মানবিক সংকটের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, যেখানে গাজার নিরীহ জনগণও ভয়াবহ সহিংসতার শিকার হচ্ছে। তাদের মতে, একটি নির্দিষ্ট ইতিহাস স্মরণ করা যাবে, কিন্তু চলমান অন্যায় নিয়ে কথা বলা যাবে না এমন নীতি গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অন্যদিকে, ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের কর্মকর্তারা মনে করেন, হলোকাস্ট স্মরণ অনুষ্ঠানে এমন বক্তব্য প্রদান স্পষ্টতই উসকানিমূলক এবং বিধিসম্মত নয়। তারা বলছেন, ব্রাউন ইচ্ছাকৃতভাবে পার্লামেন্টের নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন এবং তার মন্তব্য রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াতে পারে।

এ ঘটনা আবারও ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের ‘দ্বৈত নীতি’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে, একদিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বুলি কপচানো হয়, কিন্তু ভিন্নমত প্রকাশ করলেই শাস্তির মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে ইউরোপীয়ান দেশগুলোর নীরবতা এবং ইসরায়েলের সমর্থন নিয়ে বিতর্ক নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

ব্রাউনের বরখাস্তের ঘটনায় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সত্যিই নিরপেক্ষ অবস্থান নিচ্ছে, নাকি রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করছে এ প্রশ্ন এখন অনেকের মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যদি গণতন্ত্রের ভিত্তি হয়, তাহলে একপক্ষের দুঃখকষ্টের কথা বলা যাবে, আরেক পক্ষের নয় এমন নীতি কতটা গ্রহণযোগ্য?

ব্রাউনের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ আদতে ন্যায়সঙ্গত, নাকি মতপ্রকাশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার আরেকটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।