ঢাকা ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ?

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫
  • / 391

ছবি: সংগৃহীত

 

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের শিকার হলেন পোলিশ সংসদ সদস্য গ্রেজগোরজ ব্রাউন। তাকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত পার্লামেন্ট কার্যক্রম থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, তিনি ইসরায়েল-গাজা সংঘাতের প্রেক্ষিতে ‘অনুপযুক্ত’ মন্তব্য করেছেন, যা ইউরোপীয়ান সংসদের নীতি বহির্ভূত বলে বিবেচিত হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে হলোকাস্টের শিকার ইহুদিদের স্মরণে আয়োজিত এক মিনিট নীরবতা পালনের সময়। সেই মুহূর্তে ব্রাউন উচ্চস্বরে বলেন, ‘গাজায় ইহুদি গণহত্যার শিকারদের জন্য প্রার্থনা করুন।’ তার এই মন্তব্য মুহূর্তেই পার্লামেন্টে আলোড়ন তোলে এবং ইউরোপীয়ান পার্লামেন্ট তাকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বরখাস্ত করে।

আরও পড়ুন  ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১৫০ বিলিয়ন SAFE প্রতিরক্ষা কর্মসূচিতে তুরস্ক-দক্ষিণ কোরিয়াকে আমন্ত্রণ জানালো

ব্রাউনের শাস্তির খবরে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সমর্থকরা বলছেন, তিনি আসলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান মানবিক সংকটের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, যেখানে গাজার নিরীহ জনগণও ভয়াবহ সহিংসতার শিকার হচ্ছে। তাদের মতে, একটি নির্দিষ্ট ইতিহাস স্মরণ করা যাবে, কিন্তু চলমান অন্যায় নিয়ে কথা বলা যাবে না এমন নীতি গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অন্যদিকে, ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের কর্মকর্তারা মনে করেন, হলোকাস্ট স্মরণ অনুষ্ঠানে এমন বক্তব্য প্রদান স্পষ্টতই উসকানিমূলক এবং বিধিসম্মত নয়। তারা বলছেন, ব্রাউন ইচ্ছাকৃতভাবে পার্লামেন্টের নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন এবং তার মন্তব্য রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াতে পারে।

এ ঘটনা আবারও ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের ‘দ্বৈত নীতি’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে, একদিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বুলি কপচানো হয়, কিন্তু ভিন্নমত প্রকাশ করলেই শাস্তির মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে ইউরোপীয়ান দেশগুলোর নীরবতা এবং ইসরায়েলের সমর্থন নিয়ে বিতর্ক নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

ব্রাউনের বরখাস্তের ঘটনায় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সত্যিই নিরপেক্ষ অবস্থান নিচ্ছে, নাকি রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করছে এ প্রশ্ন এখন অনেকের মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যদি গণতন্ত্রের ভিত্তি হয়, তাহলে একপক্ষের দুঃখকষ্টের কথা বলা যাবে, আরেক পক্ষের নয় এমন নীতি কতটা গ্রহণযোগ্য?

ব্রাউনের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ আদতে ন্যায়সঙ্গত, নাকি মতপ্রকাশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার আরেকটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ?

আপডেট সময় ১১:১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫

 

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের শিকার হলেন পোলিশ সংসদ সদস্য গ্রেজগোরজ ব্রাউন। তাকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত পার্লামেন্ট কার্যক্রম থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, তিনি ইসরায়েল-গাজা সংঘাতের প্রেক্ষিতে ‘অনুপযুক্ত’ মন্তব্য করেছেন, যা ইউরোপীয়ান সংসদের নীতি বহির্ভূত বলে বিবেচিত হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে হলোকাস্টের শিকার ইহুদিদের স্মরণে আয়োজিত এক মিনিট নীরবতা পালনের সময়। সেই মুহূর্তে ব্রাউন উচ্চস্বরে বলেন, ‘গাজায় ইহুদি গণহত্যার শিকারদের জন্য প্রার্থনা করুন।’ তার এই মন্তব্য মুহূর্তেই পার্লামেন্টে আলোড়ন তোলে এবং ইউরোপীয়ান পার্লামেন্ট তাকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বরখাস্ত করে।

আরও পড়ুন  জার্মানিতে পার্লামেন্ট নির্বাচন রবিবার: ক্ষমতার পালাবদলে নতুন সমীকরণ

ব্রাউনের শাস্তির খবরে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সমর্থকরা বলছেন, তিনি আসলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান মানবিক সংকটের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, যেখানে গাজার নিরীহ জনগণও ভয়াবহ সহিংসতার শিকার হচ্ছে। তাদের মতে, একটি নির্দিষ্ট ইতিহাস স্মরণ করা যাবে, কিন্তু চলমান অন্যায় নিয়ে কথা বলা যাবে না এমন নীতি গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অন্যদিকে, ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের কর্মকর্তারা মনে করেন, হলোকাস্ট স্মরণ অনুষ্ঠানে এমন বক্তব্য প্রদান স্পষ্টতই উসকানিমূলক এবং বিধিসম্মত নয়। তারা বলছেন, ব্রাউন ইচ্ছাকৃতভাবে পার্লামেন্টের নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন এবং তার মন্তব্য রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াতে পারে।

এ ঘটনা আবারও ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের ‘দ্বৈত নীতি’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে, একদিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বুলি কপচানো হয়, কিন্তু ভিন্নমত প্রকাশ করলেই শাস্তির মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে ইউরোপীয়ান দেশগুলোর নীরবতা এবং ইসরায়েলের সমর্থন নিয়ে বিতর্ক নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

ব্রাউনের বরখাস্তের ঘটনায় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সত্যিই নিরপেক্ষ অবস্থান নিচ্ছে, নাকি রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করছে এ প্রশ্ন এখন অনেকের মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যদি গণতন্ত্রের ভিত্তি হয়, তাহলে একপক্ষের দুঃখকষ্টের কথা বলা যাবে, আরেক পক্ষের নয় এমন নীতি কতটা গ্রহণযোগ্য?

ব্রাউনের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ আদতে ন্যায়সঙ্গত, নাকি মতপ্রকাশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার আরেকটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।