ঢাকা ০৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

টেকসই উন্নয়নের জন্য পরিবেশ সুরক্ষা অপরিহার্য: উপদেষ্টা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৩৭:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / 352

ছবি: সংগৃহীত

 

বায়ুদূষণ, পানিদূষণ, মাটিদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব তুলে ধরে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, পরিবেশের সুরক্ষা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি আমরা শুধুমাত্র মেট্রোরেল, দ্রুত গতির ট্রেন, ফ্লাইওভার ও বড় অবকাঠামোর দিকে মনোযোগ দিই, কিন্তু পরিবেশকে উপেক্ষা করি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি হবে।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ৭৫ বছর উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  আমরা চাই সকল শহীদ পরিবারের চোখের জল মুছে দিতে: মা ও শিশু উপদেষ্টা

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “আমাদের ভাবতে হবে, ঢাকায় বাস করা এত কঠিন কেন? কেন আমরা শান্তভাবে চিন্তা করতে পারি না?” তিনি উল্লেখ করেন যে, শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ, নদীদূষণ ও খাদ্যে ভেজাল ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, পরিবেশ নিয়ে সাধারণভাবে চিন্তা করলে হবে না, বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে। এখনই উপযুক্ত সময় দেশকে দূষণমুক্ত করতে সবার মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ এবং তার কাজের মধ্যে আত্মীয়তা রয়েছে, কারণ তিনি যে বিষয়ে কাজ করেন, শিক্ষার্থীরা সেই বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। তিনি বলেন, “আমরা এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে শব্দদূষণ সহনীয় মাত্রায় থাকবে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করার জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি তিনি বলেন, প্লাস্টিক দূষণ কমাতে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিতে হবে। পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা ছাড়া একটি সভ্য ও টেকসই সমাজ গঠন সম্ভব নয়।

পরিবেশ উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, যারা এখান থেকে পড়াশোনা শেষ করবেন, তারা দায়িত্বশীল প্রশাসক বা করপোরেট কর্মকর্তা হয়ে পরিবেশের প্রতি সংবেদনশীল থাকবেন। তিনি বলেন, “আপনারা পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে কীভাবে সহায়তা করতে পারেন, সে বিষয়ে পরামর্শ দিলে আমরা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারব।”

তিনি শেষতক বলেন, “আমরা এমন একটি ভবিষ্যৎ গড়তে চাই, যেখানে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগকে তিনি দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য উৎসাহিত করেন।

আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান, আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম, প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. সরওয়ার আলম ও ৭৫ বছর উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেন খান প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

টেকসই উন্নয়নের জন্য পরিবেশ সুরক্ষা অপরিহার্য: উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৭:৩৭:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

 

বায়ুদূষণ, পানিদূষণ, মাটিদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব তুলে ধরে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, পরিবেশের সুরক্ষা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি আমরা শুধুমাত্র মেট্রোরেল, দ্রুত গতির ট্রেন, ফ্লাইওভার ও বড় অবকাঠামোর দিকে মনোযোগ দিই, কিন্তু পরিবেশকে উপেক্ষা করি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি হবে।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ৭৫ বছর উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  উপদেষ্টা হিসেবে আমাদের কারও সেফ এক্সিটের দরকার নেই: আসিফ নজরুল

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “আমাদের ভাবতে হবে, ঢাকায় বাস করা এত কঠিন কেন? কেন আমরা শান্তভাবে চিন্তা করতে পারি না?” তিনি উল্লেখ করেন যে, শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ, নদীদূষণ ও খাদ্যে ভেজাল ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, পরিবেশ নিয়ে সাধারণভাবে চিন্তা করলে হবে না, বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে। এখনই উপযুক্ত সময় দেশকে দূষণমুক্ত করতে সবার মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ এবং তার কাজের মধ্যে আত্মীয়তা রয়েছে, কারণ তিনি যে বিষয়ে কাজ করেন, শিক্ষার্থীরা সেই বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। তিনি বলেন, “আমরা এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে শব্দদূষণ সহনীয় মাত্রায় থাকবে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করার জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি তিনি বলেন, প্লাস্টিক দূষণ কমাতে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিতে হবে। পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা ছাড়া একটি সভ্য ও টেকসই সমাজ গঠন সম্ভব নয়।

পরিবেশ উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, যারা এখান থেকে পড়াশোনা শেষ করবেন, তারা দায়িত্বশীল প্রশাসক বা করপোরেট কর্মকর্তা হয়ে পরিবেশের প্রতি সংবেদনশীল থাকবেন। তিনি বলেন, “আপনারা পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে কীভাবে সহায়তা করতে পারেন, সে বিষয়ে পরামর্শ দিলে আমরা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারব।”

তিনি শেষতক বলেন, “আমরা এমন একটি ভবিষ্যৎ গড়তে চাই, যেখানে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগকে তিনি দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য উৎসাহিত করেন।

আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান, আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম, প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. সরওয়ার আলম ও ৭৫ বছর উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেন খান প্রমুখ।