ঢাকা ০৩:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাঠ্যবইয়ের গুণগত মান দেখতে রাতেই ছাপাখানায় পরিদর্শন করলেন শিক্ষামন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 28

ছবি: সংগৃহীত

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই নির্ধারিত মান অনুযায়ী ছাপা হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে দেখতে রাজধানীর ছয়টি ছাপাখানা পরিদর্শন করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার পর বিভিন্ন ছাপাখানায় পরিদর্শনে যান শিক্ষামন্ত্রী। রাত ১টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে তাঁর প্রেস পরিদর্শনের বিষয়টি জানানো হয়।

পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন শ্রেণির বইয়ের নমুনা সংগ্রহ করে সেগুলোর ছাপার মান ও অন্যান্য বিষয় পরীক্ষা করেন তিনি। পাশাপাশি ছাপাখানাগুলোতে বই উৎপাদনের কার্যক্রমও সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন।

আরও পড়ুন  রমনা থানায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন: ১০ মিনিটে দিলেন কঠোর নির্দেশনা

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য বিপুলসংখ্যক পাঠ্যবই প্রস্তুতের কাজ করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এবার ৩০ কোটি ৯২ লাখের বেশি বই ছাপানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ছাপাখানাগুলোতে বই তৈরির কাজ চলছে।

পাঠ্যবইয়ের গুণগত মান দেখতে রাতেই ছাপাখানায় পরিদর্শন করলেন শিক্ষামন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

এনসিটিবির সদস্য (টেক্সট) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছেন, পাঠ্যবই ছাপার কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বই পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর আশা, ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ কপি বই ছাপানো হবে।

এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০ কপি বই। ইবতেদায়ির প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য ৩ কোটি ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৪০০ কপি বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আর ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ১৮ কোটি বই প্রস্তুত করা হবে।

মাধ্যমিক পর্যায়ের মধ্যে নবম শ্রেণির বইয়ের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এই শ্রেণির জন্য ৫ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ২৩৫ কপি বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ৯ হাজার ৪ কপি ব্রেইল বইও ছাপানো হবে।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ের তালিকায় নতুন কয়েকটি বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ ও ‘আমাদের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ ও ‘কারিগরি শিক্ষা’ বিষয়ের বই যুক্ত হবে। এসব নতুন বইয়ের পাশাপাশি সংশোধিত ও পরিমার্জিত বইও সময়মতো ছাপিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

এনসিটিবি সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ছাপানো ও সংশ্লিষ্ট কাজে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৯০ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩২৮ টাকা।

নিউজটি শেয়ার করুন

পাঠ্যবইয়ের গুণগত মান দেখতে রাতেই ছাপাখানায় পরিদর্শন করলেন শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট সময় ০২:১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই নির্ধারিত মান অনুযায়ী ছাপা হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে দেখতে রাজধানীর ছয়টি ছাপাখানা পরিদর্শন করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার পর বিভিন্ন ছাপাখানায় পরিদর্শনে যান শিক্ষামন্ত্রী। রাত ১টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে তাঁর প্রেস পরিদর্শনের বিষয়টি জানানো হয়।

পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন শ্রেণির বইয়ের নমুনা সংগ্রহ করে সেগুলোর ছাপার মান ও অন্যান্য বিষয় পরীক্ষা করেন তিনি। পাশাপাশি ছাপাখানাগুলোতে বই উৎপাদনের কার্যক্রমও সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন।

আরও পড়ুন  ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন: তালাবদ্ধ সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি অফিস

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য বিপুলসংখ্যক পাঠ্যবই প্রস্তুতের কাজ করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এবার ৩০ কোটি ৯২ লাখের বেশি বই ছাপানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ছাপাখানাগুলোতে বই তৈরির কাজ চলছে।

পাঠ্যবইয়ের গুণগত মান দেখতে রাতেই ছাপাখানায় পরিদর্শন করলেন শিক্ষামন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

এনসিটিবির সদস্য (টেক্সট) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছেন, পাঠ্যবই ছাপার কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বই পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর আশা, ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ কপি বই ছাপানো হবে।

এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০ কপি বই। ইবতেদায়ির প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য ৩ কোটি ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৪০০ কপি বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আর ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ১৮ কোটি বই প্রস্তুত করা হবে।

মাধ্যমিক পর্যায়ের মধ্যে নবম শ্রেণির বইয়ের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এই শ্রেণির জন্য ৫ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ২৩৫ কপি বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ৯ হাজার ৪ কপি ব্রেইল বইও ছাপানো হবে।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ের তালিকায় নতুন কয়েকটি বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ ও ‘আমাদের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ ও ‘কারিগরি শিক্ষা’ বিষয়ের বই যুক্ত হবে। এসব নতুন বইয়ের পাশাপাশি সংশোধিত ও পরিমার্জিত বইও সময়মতো ছাপিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

এনসিটিবি সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ছাপানো ও সংশ্লিষ্ট কাজে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৯০ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩২৮ টাকা।