ঢাকা ০৬:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

আইফোনের জন্য সন্তান বিক্রি: উদ্ধার করে দাদা দাদির হস্তান্তর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:০২:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 15

ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর দশমিনায় আইফোন কেনার জন্য নিজের দেড় বছরের শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকায় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক কাঠমিস্ত্রি বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. মারুফ নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করেছে দশমিনা থানা-পুলিশ। একই সঙ্গে শিশুটিকে উদ্ধার করে দাদা-দাদির কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামের মুন্সিবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

অভিযুক্ত মারুফ ওই গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি। পরিবারের অভিযোগ, আইফোন কেনার জন্য অর্থ জোগাড় করতেই নিজের শিশুপুত্র মুসাকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে দেন তিনি।

আরও পড়ুন  পটুয়াখালীর নদ-নদীতে নাব্যতা সংকট, চরম ভোগান্তিতে উপকূলবাসী

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, রোববার (৩০ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে মারুফকে ঢাকা থেকে দশমিনা থানায় আনা হয়। পরে জেলার গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টার দিকে মারুফ তার মাকে নাতি মুসাকে সাজিয়ে দিতে বলেন। শিশুটিকে নিয়ে বাজারে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে তিনি বাড়ি থেকে বের হন।

দীর্ঘ সময় পার হলেও মারুফ ও শিশুটি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা তাদের খোঁজ শুরু করেন। পরে মারুফের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি শিশুটিকে দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের রোমানাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে এক লাখ টাকায় লিখিতভাবে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, শিশুটিকে দেওয়ার বিনিময়ে পাওয়া টাকা নিয়ে মারুফ ঢাকায় যান এবং পুরোনো আইফোন দিয়ে নতুন আইফোন কেনেন।

শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম জানান, প্রায় চার বছর আগে মারুফ ঢাকার সাভার থেকে বৃষ্টি নামে এক তরুণীকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। প্রায় তিন বছর পর তাদের ঘরে মুসার জন্ম হয়।

তিনি বলেন, প্রায় এক মাস আগে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মারুফ ও তার স্ত্রী বৃষ্টির মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলে বৃষ্টি বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর মারুফ কিছুদিন বাড়িতে থাকার পর ঢাকায় চলে যান। গত শুক্রবার সন্ধ্যার আগে তিনি বাড়িতে ফেরেন।

মাহফুজা বেগমের ভাষ্য, শনিবার সকালে মারুফ তাকে নাতিকে জামাকাপড় পরিয়ে দিতে বলেন এবং বাজারে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান। পরে সন্ধ্যা হয়ে গেলেও ছেলে ও নাতির সন্ধান না পেয়ে তারা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে আইফোন কেনার জন্য এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পারেন তিনি।

শিশুটিকে নেওয়ার অভিযোগ ওঠা ইমরান হোসেন ফোনে বলেন, মারুফ দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ছেলেকে দেওয়ার কথা বলে আসছিলেন। তার শ্বশুরের পাঁচ মেয়ে, কোনো ছেলে সন্তান নেই। এ কারণে মারুফের সঙ্গে আলোচনা করে এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে লিখিতভাবে নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। পরে শিশুটিকে তার শ্বশুরের বাড়িতে দিয়ে আসেন বলেও জানান ইমরান।

তবে সন্তানকে বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মারুফ। পুলিশ হেফাজতে রোববার রাতে তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে তার ধারদেনা হয়েছিল। এ কারণে সহকর্মী ইমরান ও তার শ্বশুরের কাছে সন্তানকে লালন-পালনের জন্য দিয়েছেন। এ জন্য তাদের কাছ থেকে ৫২ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

ওসি আতিকুল ইসলাম বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ না থাকায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আইফোনের জন্য সন্তান বিক্রি: উদ্ধার করে দাদা দাদির হস্তান্তর

আপডেট সময় ০৫:০২:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

পটুয়াখালীর দশমিনায় আইফোন কেনার জন্য নিজের দেড় বছরের শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকায় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক কাঠমিস্ত্রি বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. মারুফ নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করেছে দশমিনা থানা-পুলিশ। একই সঙ্গে শিশুটিকে উদ্ধার করে দাদা-দাদির কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামের মুন্সিবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

অভিযুক্ত মারুফ ওই গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি। পরিবারের অভিযোগ, আইফোন কেনার জন্য অর্থ জোগাড় করতেই নিজের শিশুপুত্র মুসাকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে দেন তিনি।

আরও পড়ুন  পটুয়াখালীতে মুগডালের বাম্পার ফলন, শ্রমিক সংকট ও তাপদাহে মুগডাল সংগ্রহে হিমশিম কৃষক

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, রোববার (৩০ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে মারুফকে ঢাকা থেকে দশমিনা থানায় আনা হয়। পরে জেলার গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টার দিকে মারুফ তার মাকে নাতি মুসাকে সাজিয়ে দিতে বলেন। শিশুটিকে নিয়ে বাজারে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে তিনি বাড়ি থেকে বের হন।

দীর্ঘ সময় পার হলেও মারুফ ও শিশুটি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা তাদের খোঁজ শুরু করেন। পরে মারুফের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি শিশুটিকে দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের রোমানাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে এক লাখ টাকায় লিখিতভাবে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, শিশুটিকে দেওয়ার বিনিময়ে পাওয়া টাকা নিয়ে মারুফ ঢাকায় যান এবং পুরোনো আইফোন দিয়ে নতুন আইফোন কেনেন।

শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম জানান, প্রায় চার বছর আগে মারুফ ঢাকার সাভার থেকে বৃষ্টি নামে এক তরুণীকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। প্রায় তিন বছর পর তাদের ঘরে মুসার জন্ম হয়।

তিনি বলেন, প্রায় এক মাস আগে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মারুফ ও তার স্ত্রী বৃষ্টির মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলে বৃষ্টি বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর মারুফ কিছুদিন বাড়িতে থাকার পর ঢাকায় চলে যান। গত শুক্রবার সন্ধ্যার আগে তিনি বাড়িতে ফেরেন।

মাহফুজা বেগমের ভাষ্য, শনিবার সকালে মারুফ তাকে নাতিকে জামাকাপড় পরিয়ে দিতে বলেন এবং বাজারে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান। পরে সন্ধ্যা হয়ে গেলেও ছেলে ও নাতির সন্ধান না পেয়ে তারা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে আইফোন কেনার জন্য এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পারেন তিনি।

শিশুটিকে নেওয়ার অভিযোগ ওঠা ইমরান হোসেন ফোনে বলেন, মারুফ দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ছেলেকে দেওয়ার কথা বলে আসছিলেন। তার শ্বশুরের পাঁচ মেয়ে, কোনো ছেলে সন্তান নেই। এ কারণে মারুফের সঙ্গে আলোচনা করে এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে লিখিতভাবে নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। পরে শিশুটিকে তার শ্বশুরের বাড়িতে দিয়ে আসেন বলেও জানান ইমরান।

তবে সন্তানকে বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মারুফ। পুলিশ হেফাজতে রোববার রাতে তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে তার ধারদেনা হয়েছিল। এ কারণে সহকর্মী ইমরান ও তার শ্বশুরের কাছে সন্তানকে লালন-পালনের জন্য দিয়েছেন। এ জন্য তাদের কাছ থেকে ৫২ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

ওসি আতিকুল ইসলাম বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ না থাকায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।