ঢাকা ০৫:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

সূর্যগ্রহণের সময় যা করবেন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:২৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 33

ছবি: সংগৃহীত

 

 

সূর্যগ্রহণের সময় নামাজ ও দোয়ার নির্দেশ মহানবী (সা.)-এর

আরও পড়ুন  আসছে বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ

 

সূর্যগ্রহণকে ইসলামে আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ নিয়ে জাহিলি যুগে প্রচলিত বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারণা ইসলাম প্রত্যাখ্যান করেছে। হাদিসে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সূর্যগ্রহণ দেখা দিলে নামাজ আদায়, দোয়া, তাকবির ও সদকার মতো আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন।

সূর্য যখন পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে এবং পৃথিবীর কোনো স্থান থেকে সূর্যের আলো আংশিক বা পুরোপুরি আড়াল হয়ে যায়, তখন তাকে সূর্যগ্রহণ বা ‘কুসুফ’ বলা হয়। অন্যদিকে, পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে অবস্থান করে এবং এর ফলে পৃথিবী থেকে চাঁদ কিছু সময়ের জন্য আড়াল হয়ে যায়, সেটি চন্দ্রগ্রহণ বা ‘খুসুফ’।

প্রাচীনকালে মানুষের মধ্যে ধারণা ছিল, কোনো মহাপুরুষের জন্ম বা মৃত্যু, দুর্যোগ কিংবা দুর্ভিক্ষের মতো ঘটনার বার্তা হিসেবে সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ ঘটে। ইসলাম এ ধারণাকে ভ্রান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। হাদিসে বলা হয়েছে, কারও জন্ম বা মৃত্যুর কারণে সূর্য কিংবা চন্দ্রগ্রহণ হয় না।

পবিত্র কোরআনে সূর্য ও চন্দ্রকে আল্লাহর সৃষ্টি এবং মানুষের জন্য তাঁর নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সুরা ইউনুসে বলা হয়েছে, আল্লাহ সূর্যকে কিরণোজ্জ্বল এবং চাঁদকে আলোয় আলোকিত করেছেন। সুরা নাবায় সূর্যকে ‘প্রজ্বলিত বাতি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুরা নুহে বলা হয়েছে, আল্লাহ চাঁদকে আলোরূপে এবং সূর্যকে প্রদীপরূপে স্থাপন করেছেন। সুরা নাহলে সূর্য, চন্দ্র, রাত ও দিনকে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করার কথা বলা হয়েছে। সুরা ইবরাহিমেও সূর্য ও চন্দ্রকে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করার কথা উল্লেখ রয়েছে।

হযরত আবু বকর (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে সূর্যগ্রহণ শুরু হলে তিনি মসজিদে প্রবেশ করেন এবং সাহাবিদের নিয়ে সূর্য প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন। এরপর তিনি বলেন, কারও মৃত্যু বা জন্মের কারণে সূর্য কিংবা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। সূর্যগ্রহণ দেখা গেলে গ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নামাজ ও দোয়া করতে নির্দেশ দেন তিনি। (বুখারি, ৯৮৩)

হযরত আবু মুসা (রা.)-এর বর্ণনায় রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে সূর্যগ্রহণ হলে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে কিয়ামতের কোনো বড় ঘটনা সংঘটিত হতে পারে। এরপর তিনি দ্রুত মসজিদে যান এবং দীর্ঘ কিয়াম, রুকু ও সিজদার মাধ্যমে নামাজ আদায় করেন।

অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর দুটি নিদর্শন। কারও মৃত্যু বা জন্মের কারণে এগুলোর গ্রহণ হয় না। তাই গ্রহণ দেখা গেলে আল্লাহর কাছে দোয়া করা, তাকবির বলা, সালাত আদায় এবং সদকা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। (বুখারি ও মুসলিম)

সূর্যগ্রহণের নামাজকে আরবিতে ‘সালাতুল কুসুফ’ বলা হয়। এটি নফল নামাজ। এতে আজান ও ইকামত নেই। তবে মানুষকে নামাজের জন্য সমবেত করতে ‘আস-সালাতু জামিয়া’ অর্থাৎ ‘নামাজ সমাগত’ বলা যেতে পারে।

সূর্যগ্রহণের সময় দ্রুত সালাত আদায় ও দোয়ার দিকে মনোযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ইমাম উপস্থিত থাকলে জামাতে এ নামাজ আদায় করা যায়। ইমাম বা তাঁর প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকলে একাকীও নামাজ পড়া যায়।

হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, সূর্যগ্রহণের নামাজ সাধারণ নামাজের তুলনায় দীর্ঘ করা হয়েছে। এতে দীর্ঘ কিরাত, কিয়াম, রুকু ও সিজদা করার বর্ণনা রয়েছে। কিয়ামের সময় তাসবিহ, তাহলিল, তাকবির, তাহমিদ ও দোয়া পড়ার কথাও বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে।

এই নামাজ দুই রাকাত। এ বিষয়ে বিভিন্ন মাজহাবের পদ্ধতিগত পার্থক্য রয়েছে। হানাফি মাজহাবে প্রতি রাকাতে একটি রুকু করা হয়। শাফিয়ি মাজহাবে প্রতি রাকাতে দুটি রুকু করার বিধান রয়েছে। হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এ নামাজে দুই বা ততোধিক রুকু করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সালাত আদায়ের পর সূর্য পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত দোয়া করার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন বর্ণনায় গ্রহণের পর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বক্তব্য দেওয়ার কথাও পাওয়া যায়। তবে তা নামাজের আবশ্যিক অংশ হিসেবে নয়; বরং সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ নিয়ে জাহিলি যুগের প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা দূর করার উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: বুখারি ও মুসলিম; আল-আদাবুল মুফরাদ, ইমাম বুখারি

নিউজটি শেয়ার করুন

সূর্যগ্রহণের সময় যা করবেন

আপডেট সময় ০১:২৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

 

 

সূর্যগ্রহণের সময় নামাজ ও দোয়ার নির্দেশ মহানবী (সা.)-এর

আরও পড়ুন  আসছে বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ

 

সূর্যগ্রহণকে ইসলামে আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ নিয়ে জাহিলি যুগে প্রচলিত বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারণা ইসলাম প্রত্যাখ্যান করেছে। হাদিসে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সূর্যগ্রহণ দেখা দিলে নামাজ আদায়, দোয়া, তাকবির ও সদকার মতো আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন।

সূর্য যখন পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে এবং পৃথিবীর কোনো স্থান থেকে সূর্যের আলো আংশিক বা পুরোপুরি আড়াল হয়ে যায়, তখন তাকে সূর্যগ্রহণ বা ‘কুসুফ’ বলা হয়। অন্যদিকে, পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে অবস্থান করে এবং এর ফলে পৃথিবী থেকে চাঁদ কিছু সময়ের জন্য আড়াল হয়ে যায়, সেটি চন্দ্রগ্রহণ বা ‘খুসুফ’।

প্রাচীনকালে মানুষের মধ্যে ধারণা ছিল, কোনো মহাপুরুষের জন্ম বা মৃত্যু, দুর্যোগ কিংবা দুর্ভিক্ষের মতো ঘটনার বার্তা হিসেবে সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ ঘটে। ইসলাম এ ধারণাকে ভ্রান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। হাদিসে বলা হয়েছে, কারও জন্ম বা মৃত্যুর কারণে সূর্য কিংবা চন্দ্রগ্রহণ হয় না।

পবিত্র কোরআনে সূর্য ও চন্দ্রকে আল্লাহর সৃষ্টি এবং মানুষের জন্য তাঁর নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সুরা ইউনুসে বলা হয়েছে, আল্লাহ সূর্যকে কিরণোজ্জ্বল এবং চাঁদকে আলোয় আলোকিত করেছেন। সুরা নাবায় সূর্যকে ‘প্রজ্বলিত বাতি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুরা নুহে বলা হয়েছে, আল্লাহ চাঁদকে আলোরূপে এবং সূর্যকে প্রদীপরূপে স্থাপন করেছেন। সুরা নাহলে সূর্য, চন্দ্র, রাত ও দিনকে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করার কথা বলা হয়েছে। সুরা ইবরাহিমেও সূর্য ও চন্দ্রকে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করার কথা উল্লেখ রয়েছে।

হযরত আবু বকর (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে সূর্যগ্রহণ শুরু হলে তিনি মসজিদে প্রবেশ করেন এবং সাহাবিদের নিয়ে সূর্য প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন। এরপর তিনি বলেন, কারও মৃত্যু বা জন্মের কারণে সূর্য কিংবা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। সূর্যগ্রহণ দেখা গেলে গ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নামাজ ও দোয়া করতে নির্দেশ দেন তিনি। (বুখারি, ৯৮৩)

হযরত আবু মুসা (রা.)-এর বর্ণনায় রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে সূর্যগ্রহণ হলে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে কিয়ামতের কোনো বড় ঘটনা সংঘটিত হতে পারে। এরপর তিনি দ্রুত মসজিদে যান এবং দীর্ঘ কিয়াম, রুকু ও সিজদার মাধ্যমে নামাজ আদায় করেন।

অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর দুটি নিদর্শন। কারও মৃত্যু বা জন্মের কারণে এগুলোর গ্রহণ হয় না। তাই গ্রহণ দেখা গেলে আল্লাহর কাছে দোয়া করা, তাকবির বলা, সালাত আদায় এবং সদকা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। (বুখারি ও মুসলিম)

সূর্যগ্রহণের নামাজকে আরবিতে ‘সালাতুল কুসুফ’ বলা হয়। এটি নফল নামাজ। এতে আজান ও ইকামত নেই। তবে মানুষকে নামাজের জন্য সমবেত করতে ‘আস-সালাতু জামিয়া’ অর্থাৎ ‘নামাজ সমাগত’ বলা যেতে পারে।

সূর্যগ্রহণের সময় দ্রুত সালাত আদায় ও দোয়ার দিকে মনোযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ইমাম উপস্থিত থাকলে জামাতে এ নামাজ আদায় করা যায়। ইমাম বা তাঁর প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকলে একাকীও নামাজ পড়া যায়।

হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, সূর্যগ্রহণের নামাজ সাধারণ নামাজের তুলনায় দীর্ঘ করা হয়েছে। এতে দীর্ঘ কিরাত, কিয়াম, রুকু ও সিজদা করার বর্ণনা রয়েছে। কিয়ামের সময় তাসবিহ, তাহলিল, তাকবির, তাহমিদ ও দোয়া পড়ার কথাও বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে।

এই নামাজ দুই রাকাত। এ বিষয়ে বিভিন্ন মাজহাবের পদ্ধতিগত পার্থক্য রয়েছে। হানাফি মাজহাবে প্রতি রাকাতে একটি রুকু করা হয়। শাফিয়ি মাজহাবে প্রতি রাকাতে দুটি রুকু করার বিধান রয়েছে। হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এ নামাজে দুই বা ততোধিক রুকু করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সালাত আদায়ের পর সূর্য পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত দোয়া করার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন বর্ণনায় গ্রহণের পর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বক্তব্য দেওয়ার কথাও পাওয়া যায়। তবে তা নামাজের আবশ্যিক অংশ হিসেবে নয়; বরং সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ নিয়ে জাহিলি যুগের প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা দূর করার উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: বুখারি ও মুসলিম; আল-আদাবুল মুফরাদ, ইমাম বুখারি