আলোচনায় বসছে তেলাপোকা বাহিনী, থামছে না আন্দোলন
- আপডেট সময় ০৩:২৯:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
- / 15
ভারতের জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের অচলাবস্থা নিরসনে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে আন্দোলনকারীরা। তবে সংলাপ শুরু হলেও দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানিয়েছে আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজিপি)।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক আন্দোলনকর্মী সোনাম ওয়াংচুক ২৬ দিন পর অনশন ভাঙার পর সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সরকারি মন্ত্রীদের সঙ্গে একটি নিরপেক্ষ স্থানে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, সরকার খোলামেলা মন নিয়ে আলোচনায় অংশ নেবে এবং আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে— এমনটাই তারা আশা করছেন।
তবে আলোচনার পাশাপাশি আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। তার ভাষায়, প্রকৃত পরিবর্তন তৃণমূল পর্যায় থেকেই শুরু হয় এবং সেই লক্ষ্যেই আন্দোলন চলবে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে দিল্লিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, যা প্রধান বিচারপতির এক বক্তব্যের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর এটিই তার সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় যুব আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। প্রধান বিরোধী দলগুলোও আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এর প্রভাব চলতি সপ্তাহে শুরু হওয়া ভারতীয় পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশনেও পড়েছে।
শুরুর দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণার মাধ্যমে অল্প কয়েকজন তরুণকে নিয়ে এ আন্দোলনের সূচনা হলেও পরে লাখো তরুণের সমর্থনে এটি বড় সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয়।
সোমবার সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হাজারো আন্দোলনকারী পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রা করলে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে বুধবার রাতে মধ্য দিল্লির যন্তর মন্তরে ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী জড়ো হলে সেখানেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঘন ঘন প্রশ্নপত্র ফাঁসের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সংকটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তরুণদের দীর্ঘদিনের অসন্তোষই এ আন্দোলনে ব্যাপক জনসমর্থন তৈরি করেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মধ্য দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি মোবাইল ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমও সীমিত করা হয়, যার ফলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।
এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল থেকেও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আরও ১৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন। চলতি সপ্তাহে এটি তৃতীয়বারের মতো রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হলো।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে বিদ্যমান আইন সংশোধনের লক্ষ্যে শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে একটি খসড়া বিল উত্থাপন করা হবে। পরে দ্রুত সেটি সংসদে পাসের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে আন্দোলনকারীরা সরকারের এ উদ্যোগকে যথেষ্ট নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, শুধু আইন সংশোধন নয়, প্রশ্নপত্র ফাঁস স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন।
অন্যদিকে, ২৬ দিনের অনশন শেষে বৃহস্পতিবার রাতে অনশন ভাঙেন সামাজিক আন্দোলনকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। অনশন ভাঙার সময় উপস্থিত দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে শুক্রবার ভিডিও বার্তায় বিস্তারিত জানাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।























