ঢাকা ০২:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাসিনা দেশে ফিরলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে: তথ্য উপদেষ্টা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:০৪:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 27

ছবি সংগৃহীত

 

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ভারতে অবস্থান নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশে ফিরলে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তার দাবি, ফ্যাসিস্ট হাসিনা বর্তমানে পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এবং তার আপিলের আর কোনো সুযোগ নেই।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  নারায়ণগঞ্জে হকার জুবায়ের হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, ২ জনের যাবজ্জীবন

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করার কৌশল হিসেবে প্রত্যর্পণের দাবি তোলা হচ্ছে—এমন ধারণা সঠিক নয়। সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়।

তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা নিজে দেশে ফিরুন কিংবা সরকার তাকে ফিরিয়ে আনুক—দুই ক্ষেত্রেই তাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সরকারের অবস্থান অপরিবর্তিত। তার ভাষ্য, শেখ হাসিনা একজন পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ নেই দাবি করে জাহেদ উর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর এ বিষয়ে অবস্থান জানিয়েছেন। ফলে দেশে ফিরে আপিলের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে হওয়া বিচার পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত তাকে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ভারত সরকারের কাছ থেকে পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছিল।

দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নে ভারত চাইলে দ্রুত কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে ভারতীয় গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখা এমন একটি পদক্ষেপ হতে পারে বলে উল্লেখ করেন জাহেদ উর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি দলটিকে রাজনৈতিক দল না বলে ‘মাফিয়া দল’ হিসেবে অভিহিত করেন। অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে নিয়ে ইতালিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাতেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে নতুন বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে কোনো ধরনের অর্থনৈতিক চাপ নেই বলে দাবি করেন তথ্য উপদেষ্টা। একই সঙ্গে এয়ারবাস কেনার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। রাজধানীতে কিছুটা লোডশেডিং মেনে নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ঢাকা দেশের সবচেয়ে বড় শহর হওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বার্থে বিদ্যুৎ সরবরাহে কিছুটা অগ্রাধিকার পেতে পারে। তবে ঢাকাকে পুরোপুরি লোডশেডিংমুক্ত রাখার নীতি থেকে সরকার সরে আসছে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির তুলনামূলক তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৩ সালের জুনে দেশে দৈনিক গড়ে ৯৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল। ২০২৬ সালের জুনে তা কমে ৭৪১ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়। একইভাবে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে গড় লোডশেডিং ছিল ৬১৩ মেগাওয়াট, যা ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ৪৬০ মেগাওয়াটে নেমে আসে।

তবে আগস্টে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে জানান তিনি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্টে দৈনিক গড় লোডশেডিং ছিল ৩৬০ মেগাওয়াট। বিপরীতে ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে ১ হাজার ৫৬৫ মেগাওয়াট হয়েছে।

বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে গ্যাসের ঘাটতিকে উল্লেখ করেন তথ্য উপদেষ্টা। গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে লোডশেডিংয়ের বর্তমান পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

হাসিনা দেশে ফিরলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে: তথ্য উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০২:০৪:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ভারতে অবস্থান নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশে ফিরলে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তার দাবি, ফ্যাসিস্ট হাসিনা বর্তমানে পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এবং তার আপিলের আর কোনো সুযোগ নেই।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  জমি নিয়ে বিরোধে ভাই–বোনকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করার কৌশল হিসেবে প্রত্যর্পণের দাবি তোলা হচ্ছে—এমন ধারণা সঠিক নয়। সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়।

তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা নিজে দেশে ফিরুন কিংবা সরকার তাকে ফিরিয়ে আনুক—দুই ক্ষেত্রেই তাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সরকারের অবস্থান অপরিবর্তিত। তার ভাষ্য, শেখ হাসিনা একজন পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ নেই দাবি করে জাহেদ উর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর এ বিষয়ে অবস্থান জানিয়েছেন। ফলে দেশে ফিরে আপিলের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে হওয়া বিচার পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত তাকে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ভারত সরকারের কাছ থেকে পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছিল।

দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নে ভারত চাইলে দ্রুত কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে ভারতীয় গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখা এমন একটি পদক্ষেপ হতে পারে বলে উল্লেখ করেন জাহেদ উর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি দলটিকে রাজনৈতিক দল না বলে ‘মাফিয়া দল’ হিসেবে অভিহিত করেন। অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে নিয়ে ইতালিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাতেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে নতুন বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে কোনো ধরনের অর্থনৈতিক চাপ নেই বলে দাবি করেন তথ্য উপদেষ্টা। একই সঙ্গে এয়ারবাস কেনার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। রাজধানীতে কিছুটা লোডশেডিং মেনে নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ঢাকা দেশের সবচেয়ে বড় শহর হওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বার্থে বিদ্যুৎ সরবরাহে কিছুটা অগ্রাধিকার পেতে পারে। তবে ঢাকাকে পুরোপুরি লোডশেডিংমুক্ত রাখার নীতি থেকে সরকার সরে আসছে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির তুলনামূলক তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৩ সালের জুনে দেশে দৈনিক গড়ে ৯৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল। ২০২৬ সালের জুনে তা কমে ৭৪১ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়। একইভাবে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে গড় লোডশেডিং ছিল ৬১৩ মেগাওয়াট, যা ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ৪৬০ মেগাওয়াটে নেমে আসে।

তবে আগস্টে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে জানান তিনি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্টে দৈনিক গড় লোডশেডিং ছিল ৩৬০ মেগাওয়াট। বিপরীতে ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে ১ হাজার ৫৬৫ মেগাওয়াট হয়েছে।

বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে গ্যাসের ঘাটতিকে উল্লেখ করেন তথ্য উপদেষ্টা। গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে লোডশেডিংয়ের বর্তমান পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।