জুলাই জাদুঘরে গিয়ে আবেগাপ্লুত রাষ্ট্রপতি, দেখলেন প্রামাণ্যচিত্র
- আপডেট সময় ০৫:২২:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 21
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে জাদুঘরে গিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন স্মৃতি ও প্রামাণ্যচিত্র ঘুরে দেখেন তিনি।
জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাষ্ট্রপতি। একপর্যায়ে তার চোখ অশ্রুসজল হয়ে ওঠে। প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন শেষে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, গণতন্ত্র ফেরত পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘রাষ্ট্র কখনোই এই শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের ঋণ শোধ করতে পারবে না। এ দেশে যেন আর কোনোদিন এই ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ না ঘটে।’
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমও জাদুঘর পরিদর্শন করেন।
জাদুঘরে পৌঁছালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।
রাষ্ট্রপতি দর্শনার্থী টিকিট সংগ্রহ করে জাদুঘরে প্রবেশ করেন। পরে ‘লংওয়াক টু ডেমোক্রেসি’ ওয়াকওয়ে দিয়ে হেঁটে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার বিভিন্ন পর্যায়ের ঐতিহাসিক চিত্র দেখেন।
এ সময় তিনি দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল ও রেপ্লিকা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ করেন।
পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি জাদুঘরের বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা ম্যাসাকার, নির্যাতন সামগ্রী এবং জোরপূর্বক গুম-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেকশন ঘুরে দেখেন। শহীদদের চিঠি, স্মারক ও স্মৃতিচিহ্ন দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং শিক্ষার্থী-জনতার আন্দোলন ও সংগ্রামের বিভিন্ন অংশও পরিদর্শন করেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি। সেখানে তিনি লেখেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সবার দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাষ্ট্রপতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সবার দ্রুত সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও আত্মোৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। শহীদদের আত্মত্যাগ ও আহতদের সাহসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।
এ সময় জুলাই জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি এমপি, আবরার ইলিয়াস ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে জাদুঘরের বিভিন্ন স্থাপনা ও দলিলপত্র সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে ব্রিফ করেন জুলাই জাদুঘরের গবেষণা দলের সদস্য জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ।




















