ঢাকা ১২:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

৯/১১ হামলার পর নিউইয়র্কের বায়ুদূষণ নিয়ে ১ লাখ ৭০ হাজার পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৫৪:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 44

ছবি সংগৃহীত

 

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকীর কয়েক দিন আগে নিউইয়র্ক সিটি সরকার হামলা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বায়ুর মান নিয়ে আগে প্রকাশ না হওয়া প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করেছে। এসব নথিতে হামলার পর নিউইয়র্কের বাতাসের মান নিয়ে বাসিন্দাদের বিভ্রান্ত করা বা ঝুঁকিকে কম করে দেখানোর সরকারি প্রচেষ্টার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এসব নথি প্রকাশের কথা জানান। তিনি বলেন, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার ধসে পড়ার পর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংরক্ষিত এসব নথি প্রকাশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ, আটক ১০৩ জন

মামদানি বলেন, ৯/১১-পরবর্তী সময়ে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বহু বছর ধরে যে জবাবদিহির দাবি রয়েছে, নথি প্রকাশের এই উদ্যোগের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, হামলার পর টুইন টাওয়ারের আশপাশের এলাকায় কর্মী ও বাসিন্দাদের দ্রুত ফিরতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে সরকারি পর্যায়ে ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তিকর আশ্বাস ভূমিকা রেখেছিল।

মেয়রের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার হামলার শিকার ব্যক্তি ও উদ্ধারকর্মীদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

মামদানি বলেন, মানুষ বিষাক্ত বাতাসকে নিরাপদ মনে করে ওই এলাকায় কাজ ও বসবাস করতে থাকেন। পরবর্তী সময়ে তাদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন বলেও তিনি দাবি করেন।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ছিনতাই করা দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আঘাত হানে। হামলার পর ভবন দুটি ধসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলে ২ হাজার ৭৫৩ জন নিহত হন।

ভবন ধসের পর বিপুল পরিমাণ ধুলো ও ধ্বংসাবশেষ লোয়ার ম্যানহাটনজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ধ্বংসস্তূপে আগুনও কয়েক মাস ধরে জ্বলতে থাকে।

হাজার হাজার পুলিশ কর্মকর্তা, দমকলকর্মী ও নির্মাণশ্রমিক পর্যাপ্ত সুরক্ষা ছাড়াই ধোঁয়া, ছাই ও ধুলোর মধ্যে উদ্ধার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশ নেন। হামলার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আশপাশের বিভিন্ন ভবনে কর্মী ও বাসিন্দাদের ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে ‘গ্রাউন্ড জিরো’ নামে পরিচিত ওই এলাকার অনেক বাসিন্দা ও কর্মীর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। কারও শ্বাসযন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা দ্রুত দেখা দেয়। আবার অনেকের ক্ষেত্রে কয়েক বছর পর ক্যানসারসহ বিভিন্ন গুরুতর রোগ শনাক্ত হয়।

নতুন প্রকাশিত নথিগুলো ৯/১১-পরবর্তী সময়ে সরকারি সিদ্ধান্ত, বায়ুর মান এবং জনস্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

৯/১১ হামলার পর নিউইয়র্কের বায়ুদূষণ নিয়ে ১ লাখ ৭০ হাজার পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ

আপডেট সময় ১২:৫৪:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকীর কয়েক দিন আগে নিউইয়র্ক সিটি সরকার হামলা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বায়ুর মান নিয়ে আগে প্রকাশ না হওয়া প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করেছে। এসব নথিতে হামলার পর নিউইয়র্কের বাতাসের মান নিয়ে বাসিন্দাদের বিভ্রান্ত করা বা ঝুঁকিকে কম করে দেখানোর সরকারি প্রচেষ্টার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এসব নথি প্রকাশের কথা জানান। তিনি বলেন, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার ধসে পড়ার পর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংরক্ষিত এসব নথি প্রকাশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  নতুন বছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক সহিংস ঘটনা

মামদানি বলেন, ৯/১১-পরবর্তী সময়ে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বহু বছর ধরে যে জবাবদিহির দাবি রয়েছে, নথি প্রকাশের এই উদ্যোগের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, হামলার পর টুইন টাওয়ারের আশপাশের এলাকায় কর্মী ও বাসিন্দাদের দ্রুত ফিরতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে সরকারি পর্যায়ে ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তিকর আশ্বাস ভূমিকা রেখেছিল।

মেয়রের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার হামলার শিকার ব্যক্তি ও উদ্ধারকর্মীদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

মামদানি বলেন, মানুষ বিষাক্ত বাতাসকে নিরাপদ মনে করে ওই এলাকায় কাজ ও বসবাস করতে থাকেন। পরবর্তী সময়ে তাদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন বলেও তিনি দাবি করেন।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ছিনতাই করা দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আঘাত হানে। হামলার পর ভবন দুটি ধসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলে ২ হাজার ৭৫৩ জন নিহত হন।

ভবন ধসের পর বিপুল পরিমাণ ধুলো ও ধ্বংসাবশেষ লোয়ার ম্যানহাটনজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ধ্বংসস্তূপে আগুনও কয়েক মাস ধরে জ্বলতে থাকে।

হাজার হাজার পুলিশ কর্মকর্তা, দমকলকর্মী ও নির্মাণশ্রমিক পর্যাপ্ত সুরক্ষা ছাড়াই ধোঁয়া, ছাই ও ধুলোর মধ্যে উদ্ধার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশ নেন। হামলার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আশপাশের বিভিন্ন ভবনে কর্মী ও বাসিন্দাদের ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে ‘গ্রাউন্ড জিরো’ নামে পরিচিত ওই এলাকার অনেক বাসিন্দা ও কর্মীর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। কারও শ্বাসযন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা দ্রুত দেখা দেয়। আবার অনেকের ক্ষেত্রে কয়েক বছর পর ক্যানসারসহ বিভিন্ন গুরুতর রোগ শনাক্ত হয়।

নতুন প্রকাশিত নথিগুলো ৯/১১-পরবর্তী সময়ে সরকারি সিদ্ধান্ত, বায়ুর মান এবং জনস্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।