নাজাফে পৌঁছাল আলি খামেনির কফিন, পরবর্তী গন্তব্য কারবালা
- আপডেট সময় ১১:৪০:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
- / 22
ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কফিন ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফে পৌঁছেছে। ইরানে জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শেষে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার কফিনটি নাজাফে নেওয়া হয়। কয়েকদিনব্যাপী শেষযাত্রার অংশ হিসেবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিয়া ধর্মীয় কেন্দ্র নাজাফে এ শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি এবং দেশটির জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তারা কফিন গ্রহণ করেন। পরে সেখানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং গণশোক মিছিলের আয়োজন করা হয় বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে।
শিয়া মুসলিমদের কাছে নাজাফ অন্যতম পবিত্র শহর। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চাচাতো ভাই ও জামাতা ইমাম আলি (রা.)-এর মাজার এ শহরেই অবস্থিত। শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও নাজাফে পৌঁছেছেন।
নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত সরকারি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে ইরাকের রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কর্মকর্তা এবং শিয়া ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর কফিনটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনসাধারণের অংশগ্রহণে শোক মিছিলে বহন করার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) অনুষ্ঠিতব্য এ শোকানুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
শুক্রবার শুরু হওয়া ইরানের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শুধু ধর্মীয় আয়োজন নয়, বরং প্রায় চার দশক ধরে দেশটির নেতৃত্ব দেওয়া একজন নেতার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতা তুলে ধরার অংশ হিসেবেও আয়োজন করা হয়েছে। এ শেষযাত্রার শোভাযাত্রা তেহরান থেকে শিয়া ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র কোম অতিক্রম করে ইরাকে পৌঁছেছে।
নাজাফে কফিন পৌঁছানোর আগে শহরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে ইরাকি কর্তৃপক্ষ। ইরাকের বিভিন্ন অঞ্চল এবং প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক শোকাহত মানুষ সেখানে সমবেত হয়েছেন।
শোভাযাত্রার পর কফিনটি ইরাকের আরেক পবিত্র শহর কারবালায় নেওয়া হবে। এরপর চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে তা আবার ইরানে ফিরিয়ে নেওয়া হবে এবং মাশহাদে দাফনের কথা রয়েছে।

























