১৯ দিনেই বিচারকাজ শেষ, রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ
- আপডেট সময় ০৯:৫৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
- / 11
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় আজ (রোববার) ঘোষণা করা হবে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় দেবেন।
গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য এ দিন নির্ধারণ করেন। মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে তদন্ত, অভিযোগপত্র দাখিল, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ায় মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির নজির হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীতে এ ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়।
ঘটনার চার দিন পর, ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়। একই দিন মামলাটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হলে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন এবং অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন দিন ধার্য করেন।
ঈদের ছুটি শেষে ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরদিন ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। পরে ৪ জুন যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানান। অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ সোহেল রানার জন্য সর্বনিম্ন যাবজ্জীবন এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে শাস্তির আবেদন করেন।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, “এটি অত্যন্ত নৃশংস ও আলোচিত একটি মামলা। তদন্ত সংস্থা, আদালত ও সাক্ষীদের সহযোগিতায় বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে। দেশের মানুষ এ ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছে।”
উল্লেখ্য, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৯ মে তাকে হত্যার পর বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অপর আসামি স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থল থেকেই হেফাজতে নেওয়া হয়।
























