এলএনজি টার্মিনাল বন্ধে গ্যাস সরবরাহ কমেছে, বিদ্যুৎ সংকটের আশঙ্কা
- আপডেট সময় ০৪:৪১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
- / 14
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির একটি ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে, শিল্প-কারখানার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং গৃহস্থালি গ্রাহকরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, টার্মিনাল চালু হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, বুধবার, ২২ জুলাই সকালের মধ্যে বন্ধ থাকা এফএসআরইউ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে তিতাস গ্যাস কোম্পানির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একটি এফএসআরইউ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাইপলাইনে মজুত গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ার পর বুধবার থেকেই প্রকৃত সংকট শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার মতে, টার্মিনাল চালু হলেও শুক্রবারের আগে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার সকালে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলেরেট এনার্জির পরিচালিত এফএসআরইউ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ কমে গেছে। সাধারণ সময়ে দেশে প্রতিদিন প্রায় ২৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়।
গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস ঘাটতির কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
এদিকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মঙ্গলবার কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রও বন্ধ হয়ে যায়। এতে জাতীয় গ্রিডে আরও প্রায় ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। সব মিলিয়ে রাতের দিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন নেমে আসে প্রায় ১৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াটে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস সংকট এবং রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় মঙ্গলবার রাতে সারা দেশে ২৫০ মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, বৃষ্টির কারণে বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকলেও লোডশেডিং এড়ানো সম্ভব হয়নি।
তিতাস গ্যাস কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্যাসের সংকটে আশুলিয়া, সাভার, গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক গ্রাহকরাও স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ পাননি। এছাড়া দেশের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনেও গ্যাসের চাপ কমে গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশে দৈনিক প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস দুটি এফএসআরইউর মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। তাই একটি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। টার্মিনাল চালু হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, গ্যাস বিক্রিতে কমিশন বৃদ্ধির দাবিতে ৩০ জুলাই ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সারা দেশে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান চৌধুরী এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, দাবি পূরণ না হলে ২৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখা হবে। সংগঠনের দাবি, ২০১৫ সালে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে ৮ টাকা কমিশন নির্ধারণ করা হলেও গত ১১ বছরে পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই কমিশন বাড়িয়ে প্রতি ঘনমিটারে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে গ্যাসের দাম বাড়লে কমিশনও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন নেতারা।























