কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্তে বিএসএফের একাধিক পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ
- আপডেট সময় ০৬:৩১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
- / 3
কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ ইনের (ঠেলে পাঠানোর) একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় সীমান্তবাসী। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতিতে কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভারতে অবস্থানরত কিছু মানুষকে বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে জোরপূর্বক সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে বিএসএফ —এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সীমান্তের বিভিন্ন এলাকার হোল্ডিং সেন্টারে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ থেকে ১৫ জনকে জড়ো করে যানবাহনের মাধ্যমে সীমান্তের একদম কাছাকাছি এনে পুশ ইনের চেষ্টা করা হয়। তবে কুষ্টিয়ার ৪৭ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় কঠোর নজরদারির কারণে বিএসএফের এ ধরনের কোনো চেষ্টা সফল হতে পারেনি।
৪৭ বিজিবির আওতাধীন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের প্রায় ৪৬ কিলোমিটার এবং মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তের ৩৬ কিলোমিটার এলাকায় বিজিবি সদস্যরা দিনরাত অবিরাম দায়িত্ব পালন করছেন। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন বর্ডার আউটপোস্টে (বিওপি) ইতিমধ্যে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে।
সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। দৌলতপুর সীমান্তের চিলমারী চল্লিশপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহিরুল ইসলাম জানান, ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের যে চেষ্টা চলছে, তা তারা কখনো মেনে নেবেন না। বিজিবি যেভাবে দিন-রাত টহল পরিচালনা করছে, তাতে অবৈধ অনুপ্রবেশের কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত মাইকিং ও বাঁশি বাজিয়ে সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এবং সীমান্তবাসী হিসেবে তারা বিজিবির সঙ্গে থেকে সীমান্ত সুরক্ষায় সার্বিক সহযোগিতা করছেন।
এ বিষয়ে ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, তার দায়িত্বপূর্ণ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও মেহেরপুরের গাংনী সীমান্ত এলাকা দিয়ে একাধিকবার পুশ ইনের চেষ্টা চালানো হয়েছে। তবে বিজিবির পক্ষ থেকে কোনোভাবেই তা সফল হতে দেওয়া হয়নি। সীমান্তে বর্তমানে ২৪ ঘণ্টা টহল, মাইকিং ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এবং সম্ভাব্য পুশ ইন পয়েন্টগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বর্তমানে কয়েকগুণ বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও জনবল বাড়ানো হবে উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানান, সীমান্ত রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। এই ক্রান্তিলগ্নে সীমান্তে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকেরা বিজিবির পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে পালাক্রমে টহল কার্যক্রমে সহযোগিতা করায় তাদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এই বিজিবি কর্মকর্তা।
























