ঢাকা ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেই যুদ্ধ শেষের ছক ট্রাম্পের: বদলে যাচ্ছে মার্কিন রণকৌশল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:১৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • / 96

ছবি সংগৃহীত

 

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের আবহে এক নাটকীয় কৌশলের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুরোপুরি সচল না করেই সামরিক অভিযান শেষ করার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, জোর করে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সামরিক উদ্যোগ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সময়সাপেক্ষ।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরু থেকেই এই যুদ্ধকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছিলেন। হোয়াইট হাউসের মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য পূরণ করেছে—বিশেষ করে ইরানের সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে তারা। এই অবস্থায় সরাসরি সংঘাত কমিয়ে এখন তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে, এই জলপথের গুরুত্ব যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এশিয়া ও ইউরোপের জন্য বেশি। ফলে ইরান যদি নিজে থেকে এটি উন্মুক্ত না করে, তবে এর দায়িত্ব ইউরোপ ও উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
তবে ট্রাম্পের এই নতুন অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনাও কম নয়।

আরও পড়ুন  ইরানকে ‘পৃথিবী থেকে মুছে ফেলার’ হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বিশেষজ্ঞ সুজান ম্যালোনি এই সিদ্ধান্তকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, যুদ্ধ শুরু করে মাঝপথে সরে গেলে এর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নেতিবাচক প্রভাব থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেও রেহাই পাবে না। হরমুজ প্রণালি আংশিক বন্ধ থাকায় ইতোমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি সার ও প্রযুক্তি শিল্পেও এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম অস্বাভাবিক উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।

একদিকে যুদ্ধ থামানোর কথা বলা হলেও, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে পেন্টাগন। নতুন করে নৌ ও স্থলবাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি সম্ভাব্য বড় অভিযান নিয়েও আলোচনা চলছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি দ্রুত হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত না করে, তবে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেল স্থাপনাগুলোর ওপর আরও কঠোর হামলা চালানো হতে পারে। সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন এখন এক ধরনের ‘দ্বৈত কৌশল’ নিয়ে এগোচ্ছে—একদিকে কূটনৈতিক পথে যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা, অন্যদিকে সামরিক চাপ বজায় রাখা। শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর এর প্রভাবই নির্ধারণ করবে ট্রাম্পের এই কৌশল কতটা সফল হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেই যুদ্ধ শেষের ছক ট্রাম্পের: বদলে যাচ্ছে মার্কিন রণকৌশল

আপডেট সময় ১১:১৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

 

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের আবহে এক নাটকীয় কৌশলের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুরোপুরি সচল না করেই সামরিক অভিযান শেষ করার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, জোর করে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সামরিক উদ্যোগ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সময়সাপেক্ষ।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরু থেকেই এই যুদ্ধকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছিলেন। হোয়াইট হাউসের মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য পূরণ করেছে—বিশেষ করে ইরানের সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে তারা। এই অবস্থায় সরাসরি সংঘাত কমিয়ে এখন তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে, এই জলপথের গুরুত্ব যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এশিয়া ও ইউরোপের জন্য বেশি। ফলে ইরান যদি নিজে থেকে এটি উন্মুক্ত না করে, তবে এর দায়িত্ব ইউরোপ ও উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
তবে ট্রাম্পের এই নতুন অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনাও কম নয়।

আরও পড়ুন  ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি: একই হোটেলে মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্টের ওপর আগেও হামলা হয়েছিল

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বিশেষজ্ঞ সুজান ম্যালোনি এই সিদ্ধান্তকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, যুদ্ধ শুরু করে মাঝপথে সরে গেলে এর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নেতিবাচক প্রভাব থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেও রেহাই পাবে না। হরমুজ প্রণালি আংশিক বন্ধ থাকায় ইতোমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি সার ও প্রযুক্তি শিল্পেও এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম অস্বাভাবিক উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।

একদিকে যুদ্ধ থামানোর কথা বলা হলেও, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে পেন্টাগন। নতুন করে নৌ ও স্থলবাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি সম্ভাব্য বড় অভিযান নিয়েও আলোচনা চলছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি দ্রুত হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত না করে, তবে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেল স্থাপনাগুলোর ওপর আরও কঠোর হামলা চালানো হতে পারে। সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন এখন এক ধরনের ‘দ্বৈত কৌশল’ নিয়ে এগোচ্ছে—একদিকে কূটনৈতিক পথে যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা, অন্যদিকে সামরিক চাপ বজায় রাখা। শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর এর প্রভাবই নির্ধারণ করবে ট্রাম্পের এই কৌশল কতটা সফল হবে।