ঢাকা ০৫:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা ঈদযাত্রার ১৫ দিনে ৩৭৭ দুর্ঘটনায় ৩৯৪ প্রাণহানি: যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন অবৈধ তেল মজুতদারদের তথ্য দিলেই লাখ টাকা পুরস্কার: সরকারের ঘোষণা ৫০০ ক্রীড়াবিদকে ভাতার আওতায় আনলেন প্রধানমন্ত্রী: পেশাদারিত্বে নতুন দিগন্ত টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল আর নেই , প্রশ্ন উঠেছে শুটিং সেটের নিরাপত্তা নিয়ে ঘোড়াঘাটে বিকল ট্রাকের পেছনে ধাক্কা: চালকের সহকারী নিহত, চালক গুরুতর আহত অনলাইন ক্লাস ও হোম অফিসের পরিকল্পনা করছে সরকার সহজকে লেখা রাহুলের শেষ চিঠি: এক বিষাদমাখা উত্তরাধিকার মিরপুর ডিওএইচএস থেকে ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক আফজাল নাছের গ্রেফতার ‘তেল দখলই আমার লক্ষ্য’: ট্রাম্পের মন্তব্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নতুন মোড়ে

অনলাইন ক্লাস ও হোম অফিসের পরিকল্পনা করছে সরকার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:২৬:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • / 18

ছবি সংগৃহীত

 

বৈশ্বিক সংঘাত ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপের মুখে দেশের জ্বালানি খাতে ক্রমবর্ধমান সংকট মোকাবিলায় একগুচ্ছ সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবারও অনলাইন ক্লাস চালু, সরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন এবং বিশেষ ক্ষেত্রে হোম অফিসের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে ভাবা হচ্ছে।

জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, আমদানিতে বাড়তি ব্যয় এবং ডলার সংকটের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ কমাতে এই কৃচ্ছ্রসাধনের চিন্তা করা হচ্ছে। মূলত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমানো এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখাই এই পরিকল্পনার প্রধান লক্ষ্য। করোনাকালীন অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পুনরায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও বিকল্প কর্মপদ্ধতি ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আগামী তিন মাসের জন্য একটি জরুরি পরিকল্পনা তৈরি করতে সরকারি সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব প্রস্তাবনা উপস্থাপনের কথা রয়েছে। পরিস্থিতি যদি আরও জটিল আকার ধারণ করে, তবে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশল গ্রহণের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

সাশ্রয়ী পদক্ষেপের খসড়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

সাপ্তাহিক ছুটির সাথে বাড়তি একদিন যোগ করা অথবা সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিন ঘরে বসে কাজের সুযোগ।
অফিসের কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনা বা সময়সূচিতে পরিবর্তন।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধেক ক্লাস অনলাইনে সম্পন্ন করা।
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ এবং অপ্রয়োজনীয় ঋণ পরিহার।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মতে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির অবনতি হলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার বিকল্প থাকবে না। তবে সংশ্লিষ্ট অনেক বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তগুলো আরও আগেই নেওয়া উচিত ছিল। নিয়মিত বৈঠকের পাশাপাশি প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক ডেকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন তারা।

ইতিমধ্যেই কয়েকটি মন্ত্রণালয় নিজস্ব কৃচ্ছ্রসাধনমূলক ব্যবস্থার খসড়া চূড়ান্ত করতে শুরু করেছে। তেলের দাম এখনই বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও, জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করা এবং ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রতিটি দপ্তরকে জ্বালানি সাশ্রয় সংক্রান্ত নীতিমালা বাধ্যতামূলকভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

অনলাইন ক্লাস ও হোম অফিসের পরিকল্পনা করছে সরকার

আপডেট সময় ০১:২৬:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

 

বৈশ্বিক সংঘাত ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপের মুখে দেশের জ্বালানি খাতে ক্রমবর্ধমান সংকট মোকাবিলায় একগুচ্ছ সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবারও অনলাইন ক্লাস চালু, সরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন এবং বিশেষ ক্ষেত্রে হোম অফিসের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে ভাবা হচ্ছে।

জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, আমদানিতে বাড়তি ব্যয় এবং ডলার সংকটের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ কমাতে এই কৃচ্ছ্রসাধনের চিন্তা করা হচ্ছে। মূলত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমানো এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখাই এই পরিকল্পনার প্রধান লক্ষ্য। করোনাকালীন অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পুনরায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও বিকল্প কর্মপদ্ধতি ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আগামী তিন মাসের জন্য একটি জরুরি পরিকল্পনা তৈরি করতে সরকারি সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব প্রস্তাবনা উপস্থাপনের কথা রয়েছে। পরিস্থিতি যদি আরও জটিল আকার ধারণ করে, তবে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশল গ্রহণের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

সাশ্রয়ী পদক্ষেপের খসড়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

সাপ্তাহিক ছুটির সাথে বাড়তি একদিন যোগ করা অথবা সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিন ঘরে বসে কাজের সুযোগ।
অফিসের কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনা বা সময়সূচিতে পরিবর্তন।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধেক ক্লাস অনলাইনে সম্পন্ন করা।
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ এবং অপ্রয়োজনীয় ঋণ পরিহার।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মতে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির অবনতি হলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার বিকল্প থাকবে না। তবে সংশ্লিষ্ট অনেক বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তগুলো আরও আগেই নেওয়া উচিত ছিল। নিয়মিত বৈঠকের পাশাপাশি প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক ডেকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন তারা।

ইতিমধ্যেই কয়েকটি মন্ত্রণালয় নিজস্ব কৃচ্ছ্রসাধনমূলক ব্যবস্থার খসড়া চূড়ান্ত করতে শুরু করেছে। তেলের দাম এখনই বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও, জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করা এবং ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রতিটি দপ্তরকে জ্বালানি সাশ্রয় সংক্রান্ত নীতিমালা বাধ্যতামূলকভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছে।