ঢাকা ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

মায়ের কাছে ভালো খাবার চেয়ে চিঠি লেখা সেই মাদ্রাসাছাত্রের পাশে ছাত্রদল নেতা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:০০:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
  • / 109

ছবি সংগৃহীত

 

‘আম্মা, আমারে একটা সাবান দিও। তিন দিন আগে সাবান শেষ। একটা সাদা পাঞ্জাবি দিও, আগেরটা ছিঁড়ে গেছে। ইফতারে বুট-মুড়ি দেয়, রাতে ভাত দেয় না। আমার জন্য কিছু ভালো খাবার আইনো। একটা মশারি আর চাদর দিও, মশা খুব কামড়ায়।’

এসব কথা উল্লেখ করে এক এতিম মাদ্রাসা ছাত্রের তার মায়ের কাছে লেখা একটি চিঠি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনদের অনেকেই পোস্টটি শেয়ার করে সমবেদনা জানিয়েছেন। তবে এই লেখাগুলো দেখে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ছাত্রদলের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান।

আরও পড়ুন  উপদেষ্টা নিয়োগের চিঠি নিয়ে বিস্তারিত প্রকাশ মন্ত্রণালয়ের

জানা গেছে, প্রায় দুই দিন ধরে অনুসন্ধানের পর অবশেষে শিশুটির পরিবারকে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে খুঁজে পান। খোঁজ পেয়ে তিনি শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। এতিম শিশুটির সাথে কথা বলেন, তার অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন। এরপর চিঠিতে উল্লেখ করা প্রতিটি চাহিদা পূরণের উদ্যোগ নেন।

শিশুটির জন্য তিনি পর্যাপ্ত সাবান, খাবার, ঈদের নতুন পোশাক হিসেবে সাদা পাঞ্জাবি, মশারি, বিছানার চাদরসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী তুলে দেন। শুধু তা-ই নয় আতিকুর রহমান শিশুটির পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগটি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। বাকৃবির ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল হাসান শিকদার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ধন্যবাদ আতিক। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এই ধরনের কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছে, এটি সত্যি গর্বের। আসুন, রমজান মাসে ভালো কাজ করে দেশকে কে বদলে দেই। প্রতিটি মানুষ যেন একজন মানুষের জন্য কিছু করি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাকৃবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান বলেন, শিশুটির চিঠিটি পড়ার পর থেকে আমি স্থির থাকতে পারিনি। আমার মনে হয়েছে, শুধু স্ক্রিনে দেখে আফসোস করা আমাদের দায়িত্ব নয়। একজন মানুষ হিসেবে আরেকজন মানুষের বিপদে সরাসরি পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার উচিত।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

মায়ের কাছে ভালো খাবার চেয়ে চিঠি লেখা সেই মাদ্রাসাছাত্রের পাশে ছাত্রদল নেতা

আপডেট সময় ০৩:০০:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

 

‘আম্মা, আমারে একটা সাবান দিও। তিন দিন আগে সাবান শেষ। একটা সাদা পাঞ্জাবি দিও, আগেরটা ছিঁড়ে গেছে। ইফতারে বুট-মুড়ি দেয়, রাতে ভাত দেয় না। আমার জন্য কিছু ভালো খাবার আইনো। একটা মশারি আর চাদর দিও, মশা খুব কামড়ায়।’

এসব কথা উল্লেখ করে এক এতিম মাদ্রাসা ছাত্রের তার মায়ের কাছে লেখা একটি চিঠি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনদের অনেকেই পোস্টটি শেয়ার করে সমবেদনা জানিয়েছেন। তবে এই লেখাগুলো দেখে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ছাত্রদলের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান।

আরও পড়ুন  উপদেষ্টা নিয়োগের চিঠি নিয়ে বিস্তারিত প্রকাশ মন্ত্রণালয়ের

জানা গেছে, প্রায় দুই দিন ধরে অনুসন্ধানের পর অবশেষে শিশুটির পরিবারকে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে খুঁজে পান। খোঁজ পেয়ে তিনি শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। এতিম শিশুটির সাথে কথা বলেন, তার অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন। এরপর চিঠিতে উল্লেখ করা প্রতিটি চাহিদা পূরণের উদ্যোগ নেন।

শিশুটির জন্য তিনি পর্যাপ্ত সাবান, খাবার, ঈদের নতুন পোশাক হিসেবে সাদা পাঞ্জাবি, মশারি, বিছানার চাদরসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী তুলে দেন। শুধু তা-ই নয় আতিকুর রহমান শিশুটির পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগটি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। বাকৃবির ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল হাসান শিকদার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ধন্যবাদ আতিক। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এই ধরনের কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছে, এটি সত্যি গর্বের। আসুন, রমজান মাসে ভালো কাজ করে দেশকে কে বদলে দেই। প্রতিটি মানুষ যেন একজন মানুষের জন্য কিছু করি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাকৃবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান বলেন, শিশুটির চিঠিটি পড়ার পর থেকে আমি স্থির থাকতে পারিনি। আমার মনে হয়েছে, শুধু স্ক্রিনে দেখে আফসোস করা আমাদের দায়িত্ব নয়। একজন মানুষ হিসেবে আরেকজন মানুষের বিপদে সরাসরি পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার উচিত।