ঢাকা ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের নাম যুক্ত করে ত্রয়োদশ সংসদে শোকপ্রস্তাব গৃহীত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:০৫:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • / 132

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনেই শোকপ্রস্তাবে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ ছয় নেতা এবং বিএনপির এক নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর প্রথা অনুযায়ী উত্থাপিত শোকপ্রস্তাবে তাঁদের নাম যুক্ত করার প্রস্তাব উঠলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তা অনুমোদন করেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে এঁরা সকলেই মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।

শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা এবং মীর কাসেম আলী। এছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নামও এতে যুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, দণ্ডিতদের মধ্যে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন এবং বাকি ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে কার্যকর করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন  জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে আজ বৈঠকে বসছে বিএনপি

বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের শোকপ্রস্তাবটি ‘একপেশে’ হওয়ার অভিযোগ তুলে আরও কিছু নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। তাঁর দাবির প্রেক্ষিতে আব্দুস সোবহান, এ কে এম ইউসুফসহ আরও অনেক রাজনৈতিক নেতার নাম শোকপ্রস্তাবে যুক্ত করা হয়। এছাড়া বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের প্রস্তাবে আবরার ফাহাদ, ফেলানী খাতুন এবং শরিফ ওসমান বিন হাদীর নামও অন্তর্ভুক্ত হয়। শোকপ্রস্তাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ‘প্রায় দুই হাজার শহীদের’ প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

শোকপ্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এবং জোনায়েদ সাকিসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা প্রয়াতদের অবদান এবং জুলাই বিপ্লবের তাৎপর্য তুলে ধরেন। আলোচনার শেষে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে শোকপ্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এই অধিবেশনটির মাধ্যমে সংসদের শোক প্রকাশের প্রথাগত তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন ও নতুন সংযোজন পরিলক্ষিত হলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের নাম যুক্ত করে ত্রয়োদশ সংসদে শোকপ্রস্তাব গৃহীত

আপডেট সময় ০৫:০৫:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনেই শোকপ্রস্তাবে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ ছয় নেতা এবং বিএনপির এক নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর প্রথা অনুযায়ী উত্থাপিত শোকপ্রস্তাবে তাঁদের নাম যুক্ত করার প্রস্তাব উঠলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তা অনুমোদন করেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে এঁরা সকলেই মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।

শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা এবং মীর কাসেম আলী। এছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নামও এতে যুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, দণ্ডিতদের মধ্যে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন এবং বাকি ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে কার্যকর করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন  দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই হবে আগামী দিনের লক্ষ্য: জামায়াত আমির

বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের শোকপ্রস্তাবটি ‘একপেশে’ হওয়ার অভিযোগ তুলে আরও কিছু নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। তাঁর দাবির প্রেক্ষিতে আব্দুস সোবহান, এ কে এম ইউসুফসহ আরও অনেক রাজনৈতিক নেতার নাম শোকপ্রস্তাবে যুক্ত করা হয়। এছাড়া বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের প্রস্তাবে আবরার ফাহাদ, ফেলানী খাতুন এবং শরিফ ওসমান বিন হাদীর নামও অন্তর্ভুক্ত হয়। শোকপ্রস্তাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ‘প্রায় দুই হাজার শহীদের’ প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

শোকপ্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এবং জোনায়েদ সাকিসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা প্রয়াতদের অবদান এবং জুলাই বিপ্লবের তাৎপর্য তুলে ধরেন। আলোচনার শেষে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে শোকপ্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এই অধিবেশনটির মাধ্যমে সংসদের শোক প্রকাশের প্রথাগত তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন ও নতুন সংযোজন পরিলক্ষিত হলো।