ঢাকা ০৪:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নতুন গভর্নর কে এই মোস্তাকুর রহমান ইন্টারকে রুখে দিয়ে বোদো-গ্লিম্টের রূপকথার জয় বইমেলায় মবের আশঙ্কা নেই, সৃষ্টি হলে কঠোর ব্যবস্থা: ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার জুলাইযোদ্ধাদের পুনর্বাসনে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ এজলাসে ঢুকে আদালতের কাজে বাধা, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আটক চাঁদপুরে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩ ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাত আলীর পদত্যাগ জেলের জালে ১১০০ লাল কোরাল, বিক্রি হলো সাড়ে ২৩ লাখ টাকায় সেমি ও ফাইনালের টিকিট বিক্রি শুরু, ভেন্যু অনিশ্চয়তায় থাকছে রিফান্ডের সুযোগ ২০ বছরের কারাদণ্ড পেলেন ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

পিলখানা ট্র্যাজেডি আজ: ‘শহীদ সেনা দিবসে’ বিডিআর নাম পুনর্বহাল ও নতুন তদন্তের ঘোষণা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:২২:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 24

ছবি সংগৃহীত

 

রাজধানীর পিলখানায় সংঘটিত নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ১৭ বছর আজ। দিনটি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত সেই ঘটনায় নিহত হন ৭৪ জন—যাদের মধ্যে ছিলেন ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা। সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

নির্বাচনের আগে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ‘বিডিআর’ নাম ও ইউনিফর্ম পুনর্বহাল করা হবে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত অনুবিভাগ সূত্র জানায়, নাম পরিবর্তনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি। বর্তমানে বাহিনীটি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নামে পরিচালিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন  রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১২ বছর আজ, বিচারহীনতার এক যুগ পার

অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত ‘জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন’ তাদের প্রতিবেদনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর কয়েকজন শীর্ষ নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলে। প্রতিবেদনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–র ‘গ্রিন সিগন্যাল’-এর কথাও উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠে আসে। তবে বর্তমান সরকার ওই প্রতিবেদনে পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, পিলখানা হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় নতুন করে তদন্ত করা হবে। কমিশনের সভাপতি ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান। কমিশন দাবি করে, সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যেই এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছিল।

অন্যদিকে, গত বছর এক স্মরণসভায় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, “এই বর্বরতা কোনো সেনাসদস্য করেনি। সম্পূর্ণটাই তৎকালীন বিডিআর সদস্য দ্বারা সংঘটিত। এখানে কোনো ‘ইফ’ বা ‘বাট’ নেই।” তিনি বিচারিক প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ না করার আহ্বান জানান এবং বলেন, যারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছে, তারা শাস্তির যোগ্য।
ঘটনার সময় সেনাপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল (অব.) মইন ইউ আহমেদ। পরবর্তী সময়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, তদন্তে সরকার পর্যাপ্ত সহযোগিতা করেনি।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ছিল তৎকালীন বিডিআরের বার্ষিক দরবার। সকাল ৯টায় দরবার শুরু হয়। সকাল ৯টা ২৬ মিনিটে মঞ্চে অতর্কিতে সশস্ত্র জওয়ান প্রবেশ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অল্প সময়ের মধ্যে গুলিবর্ষণ শুরু হয় এবং দরবার হল ঘিরে ফেলা হয়। মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ একে একে সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়। দুই দিনের বিদ্রোহ, অগ্নিসংযোগ ও লাশ গুমের ঘটনায় নিহত হন ৭৪ জন। ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বিদ্রোহীরা অস্ত্র সমর্পণ করে।

বিডিআর নাম পুনর্বহাল, দিবসটির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং নতুন তদন্ত—এই তিন ইস্যু ঘিরে আবারও জাতীয় আলোচনায় পিলখানা ট্র্যাজেডি। ১৭ বছর পরও বহু প্রশ্নের উত্তর অধরা। নতুন তদন্তে সেই অমীমাংসিত অধ্যায়ের পূর্ণ সত্য উন্মোচিত হবে কি না—সেদিকেই এখন তাকিয়ে দেশ।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

পিলখানা ট্র্যাজেডি আজ: ‘শহীদ সেনা দিবসে’ বিডিআর নাম পুনর্বহাল ও নতুন তদন্তের ঘোষণা

আপডেট সময় ১২:২২:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

রাজধানীর পিলখানায় সংঘটিত নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ১৭ বছর আজ। দিনটি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত সেই ঘটনায় নিহত হন ৭৪ জন—যাদের মধ্যে ছিলেন ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা। সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

নির্বাচনের আগে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ‘বিডিআর’ নাম ও ইউনিফর্ম পুনর্বহাল করা হবে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত অনুবিভাগ সূত্র জানায়, নাম পরিবর্তনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি। বর্তমানে বাহিনীটি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নামে পরিচালিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন  পিলখানা বিদ্রোহ: বিস্ফোরক মামলায় ২৩৯ আসামির জামিন আদেশ ১০ এপ্রিল

অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত ‘জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন’ তাদের প্রতিবেদনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর কয়েকজন শীর্ষ নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলে। প্রতিবেদনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–র ‘গ্রিন সিগন্যাল’-এর কথাও উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠে আসে। তবে বর্তমান সরকার ওই প্রতিবেদনে পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, পিলখানা হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় নতুন করে তদন্ত করা হবে। কমিশনের সভাপতি ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান। কমিশন দাবি করে, সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যেই এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছিল।

অন্যদিকে, গত বছর এক স্মরণসভায় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, “এই বর্বরতা কোনো সেনাসদস্য করেনি। সম্পূর্ণটাই তৎকালীন বিডিআর সদস্য দ্বারা সংঘটিত। এখানে কোনো ‘ইফ’ বা ‘বাট’ নেই।” তিনি বিচারিক প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ না করার আহ্বান জানান এবং বলেন, যারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছে, তারা শাস্তির যোগ্য।
ঘটনার সময় সেনাপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল (অব.) মইন ইউ আহমেদ। পরবর্তী সময়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, তদন্তে সরকার পর্যাপ্ত সহযোগিতা করেনি।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ছিল তৎকালীন বিডিআরের বার্ষিক দরবার। সকাল ৯টায় দরবার শুরু হয়। সকাল ৯টা ২৬ মিনিটে মঞ্চে অতর্কিতে সশস্ত্র জওয়ান প্রবেশ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অল্প সময়ের মধ্যে গুলিবর্ষণ শুরু হয় এবং দরবার হল ঘিরে ফেলা হয়। মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ একে একে সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়। দুই দিনের বিদ্রোহ, অগ্নিসংযোগ ও লাশ গুমের ঘটনায় নিহত হন ৭৪ জন। ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বিদ্রোহীরা অস্ত্র সমর্পণ করে।

বিডিআর নাম পুনর্বহাল, দিবসটির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং নতুন তদন্ত—এই তিন ইস্যু ঘিরে আবারও জাতীয় আলোচনায় পিলখানা ট্র্যাজেডি। ১৭ বছর পরও বহু প্রশ্নের উত্তর অধরা। নতুন তদন্তে সেই অমীমাংসিত অধ্যায়ের পূর্ণ সত্য উন্মোচিত হবে কি না—সেদিকেই এখন তাকিয়ে দেশ।