হেটমায়ার তাণ্ডবে বিধ্বস্ত প্রতিপক্ষ, সুপার এইটে দাপুটে জয় ক্যারিবীয়দের
- আপডেট সময় ০১:০৮:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 16
দুটি অতি সাধারণ ক্যাচ ছেড়ে দিয়ে দলের পরাজয় ত্বরান্বিত করেছেন তাশিঙ্গা মুসেকিওয়া। এমন ভুলের পর যেকোনো ক্রিকেটারের জন্যই স্বস্তির ঘুম হারাম হওয়া স্বাভাবিক।
হেটমায়ারের দুটি ‘লোপ্পা’ ক্যাচ ছেড়ে দিয়ে জিম্বাবুয়েকে এক দুঃসহ রাত উপহার দিলেন মুসেকিওয়া। জীবন ফিরে পেয়ে হেটমায়ার হয়ে উঠলেন জিম্বাবুয়ের জন্য সত্যিকারের ‘নাইটমেয়ার’। এই বিশাল পরাজয়ের ক্ষত মুসেকিওয়া ও তার দলের মনে বহুদিন রয়ে যাবে।
তাশিঙ্গা মুসেকিওয়ার ক্যাচ মিসের সুযোগ নিয়ে নিজের ২২ বলের ফিফটির রেকর্ড ভেঙে ১৯ বলে হাফসেঞ্চুরি করলেন হেটমায়ার। তার বিধ্বংসী ইনিংসে ভর করে ১৯টি ছক্কা মেরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার বিশ্বরেকর্ডে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গী হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৫৪ রান তুলে ইনিংস শেষ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মাত্র ৭ রানে শ্রীলঙ্কার ২৬০ রানের বিশ্বরেকর্ডটি ভাঙতে পারেনি ক্যারিবীয়রা। তবে এই বিশাল সংগ্রহটি চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসেরও এটিই তাদের নিজেদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
একজন ফিল্ডার যখন গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ মিস করেন, তখন সব আলোচনা তাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। মুসেকিওয়ার ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, হেটমায়ারকে ৮৫ রানে আউট করা গেলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানের চাকা সচল ছিল পুরো ২০ ওভার। ৩৪ বলে ৮৫ রানের সেই টর্নেডো ইনিংস থামানোর পরও জিম্বাবুয়ে বাকি ব্যাটারদের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনতে পারেনি।
শিমরন হেটমায়ারের ঝোড়ো শুরুর পর জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর রীতিমতো স্টিমরোলার চালিয়েছেন রোভম্যান পাওয়েল। এই দুই ব্যাটারের ৫২ বলে ১২২ রানের বিধ্বংসী জুটিই জিম্বাবুয়েকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। শুরুতে পাওয়েল কিছুটা রয়েসয়ে খেললেও (১৬ বলে ১৪ রান), মুহূর্তেই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। মাত্র ২৯ বলে ফিফটি পূর্ণ করে তিনি প্রমাণ করেছেন কেন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পাওয়ার-হাউস বলা হয়।
শিমরন হেটমায়ারের ঝোড়ো শুরুর পর জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর রীতিমতো স্টিমরোলার চালিয়েছেন রোভম্যান পাওয়েল। এই দুই ব্যাটারের ৫২ বলে ১২২ রানের বিধ্বংসী জুটিই জিম্বাবুয়েকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। শুরুতে পাওয়েল কিছুটা রয়েসয়ে খেললেও (১৬ বলে ১৪ রান), মাত্র ২৯ বলে ফিফটি পূর্ণ করে তিনি।
রোভম্যান পাওয়েল ৩৫ বলে ৫৯ রান করে বিদায় নিলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানের গতিতে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। বরং পরের ব্যাটসম্যানরা ক্রিজে এসেই বোলারদের ওপর চড়াও হন। শেরফান রাদারফোর্ড মাত্র ১৩ বলে ৩১ এরপর রোমারিও শেফার্ডের ১০ বলে ২১ এবং জেসন হোল্ডারের ৪ বলে ১৩ রান শেষ দিকে আসা প্রতিটি ব্যাটারের স্ট্রাইক রেটই ছিল ২০০-এর উপরে।
পাওয়ার প্লের ৬ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে ৪৭ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। ব্যাটিং বিপর্যয়ের এই কঠিন সময়েও হাল ছাড়েননি অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। ফিল্ডিংয়ের সময় চোট পাওয়া সত্ত্বেও দলের প্রয়োজনে মাঠে নামেন তিনি। তবে ২০ বলে ২৭ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলে তিনি আউট হন।
জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনে যখন ধ্বংসস্তূপ, তখন কিছুটা পাল্টা লড়াইয়ের চেষ্টা করেছিলেন ব্র্যাড ইভান্স। তার ২১ বলের ইনিংসে ৫টি ছক্কায় সাজানো ৪৩ রান দর্শকদের বিনোদন দিলেও ম্যাচের ভাগ্যে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। জিম্বাবুয়ে শেষ পর্যন্ত ১৪৭ রানে অলআউট হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১০৭ রানের বিশাল জয় দিয়ে সুপার এইট শুরু করে।
























