ঢাকা ০৭:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মদিনার ঐতিহাসিক ‘মসজিদে বনু আনিফ’: পাথরে গাঁথা প্রাচীন ঐতিহ্যের নিদর্শন দৌলতদিয়ায় বাসডুবি গঠনায় নিহতদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের লিগ্যাল নোটিশ পঞ্চগড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাদে, আহত অন্তত ২০ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গীতা পাঠে ‘নিষেধ’: রাজশাহী-১ আসনের এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ গাইবান্ধায় থানায় ঢুকে ওসির ওপর হামলার অভিযোগ,যুব জামায়াত নেতাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা কৃষিতে নতুন দিগন্ত: উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রণোদনা ও প্রযুক্তিতে জোর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ১৫ এপ্রিল: যে ভাবে নিবে শেষ মুহূর্তে প্রস্তুতি ফেসবুকে রিলস ও পোস্ট শেয়ার করে মাসে ৩ হাজার ডলার আয়ের সুযোগ গরমে ত্বকের যত্নে ৮ সহজ অভ্যাস, না মানলে হতে পারে ত্বকের নানা সমস্যা জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রার্থীদের ৪১ শতাংশই স্বল্প আয়ের, কোটিপতিদের অর্ধেকের বেশি বিএনপির: সুজন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৩৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 507

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের একটি বড় অংশই স্বল্প আয়ের। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সংগৃহীত হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে অংশ নেওয়া ২ হাজার ২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪১ শতাংশ বা ৮৩২ জন প্রার্থীর বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকার নিচে। অন্যদিকে, বার্ষিক কোটি টাকার বেশি আয় করেন এমন প্রার্থীর সংখ্যা ৯৫ জন, যার অর্ধেকের বেশিই বিএনপি মনোনীত।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সুজন এসব তথ্য তুলে ধরে। সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে আয়ের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার।

প্রার্থীদের বার্ষিক আয়ের চিত্র
সুজনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রার্থীদের আয়ের বিভাজন নিচে দেওয়া হলো:
৫ লাখ টাকার নিচে: ৮৩২ জন (৪১%)।
৫ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা: ৭৪১ জন।
২৫ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা: ১৩২ জন।
৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা: ৭১ জন।
১ কোটি টাকার ওপরে: ৯৫ জন।
তথ্য দেননি: ১৫৫ জন প্রার্থী তাদের আয়ের ঘর পূরণ করেননি।

আরও পড়ুন  নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রস্তুত থাকবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

কোটিপতি প্রার্থীদের দলীয় অবস্থান
সুজন জানায়, কোটিপতি প্রার্থীদের মধ্যে বড় অংশই একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের। কোটিপতি ৯৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫১ জনই বিএনপির মনোনীত। এছাড়া ২৫ জন স্বতন্ত্র এবং ৫ জন জাতীয় পার্টির প্রার্থীও বার্ষিক কোটি টাকার বেশি আয় করেন।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার কোটিপতি ও অতি স্বল্প আয়ের প্রার্থীর হার কিছুটা কমেছে। গত নির্বাচনে কোটিপতি প্রার্থী ছিলেন ৮.৭৭ শতাংশ, যা এবার কমে ৪.৫৯ শতাংশ হয়েছে। একইভাবে ৫ লাখ টাকার কম আয়ের প্রার্থীর হার ৪৫ শতাংশ থেকে কমে ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থী
সুজন শীর্ষ ১০ জন আয়কারীর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যার প্রথম ১০ জনের মধ্যে ৬ জনই বিএনপির প্রার্থী। শীর্ষ তিন আয়কারী হলেন:
১. জাকারিয়া তাহের (কুমিল্লা-৮, বিএনপি): বার্ষিক আয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা (তালিকার শীর্ষে)।
২. মো. আসাদুল ইসলাম (টাঙ্গাইল-১, স্বতন্ত্র): বার্ষিক আয় প্রায় ৪০ কোটি টাকা।
৩. জাকির হোসেন পাটওয়ারী (লক্ষ্মীপুর-১, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ): বার্ষিক আয় প্রায় ১৯ কোটি টাকা।

তালিকায় পরবর্তী অবস্থানে আছেন যথাক্রমে মির্জা আব্বাস (বিএনপি), সালাউদ্দিন আলমগীর (স্বতন্ত্র), সালাহউদ্দিন আহমদ (বিএনপি), মো. জসীম উদ্দিন (বিএনপি), কায়সার কামাল (বিএনপি), শফিকুল ইসলাম রাহী (স্বতন্ত্র) এবং রেদোয়ান আহমেদ (বিএনপি)। তাঁদের সবার আয় ৪ থেকে সাড়ে ৬ কোটি টাকার মধ্যে।

সংবাদ সম্মেলনে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার ও কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। তারা হলফনামার তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রার্থীদের আয়ের উৎস নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রার্থীদের ৪১ শতাংশই স্বল্প আয়ের, কোটিপতিদের অর্ধেকের বেশি বিএনপির: সুজন

আপডেট সময় ০৬:৩৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের একটি বড় অংশই স্বল্প আয়ের। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সংগৃহীত হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে অংশ নেওয়া ২ হাজার ২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪১ শতাংশ বা ৮৩২ জন প্রার্থীর বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকার নিচে। অন্যদিকে, বার্ষিক কোটি টাকার বেশি আয় করেন এমন প্রার্থীর সংখ্যা ৯৫ জন, যার অর্ধেকের বেশিই বিএনপি মনোনীত।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সুজন এসব তথ্য তুলে ধরে। সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে আয়ের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার।

প্রার্থীদের বার্ষিক আয়ের চিত্র
সুজনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রার্থীদের আয়ের বিভাজন নিচে দেওয়া হলো:
৫ লাখ টাকার নিচে: ৮৩২ জন (৪১%)।
৫ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা: ৭৪১ জন।
২৫ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা: ১৩২ জন।
৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা: ৭১ জন।
১ কোটি টাকার ওপরে: ৯৫ জন।
তথ্য দেননি: ১৫৫ জন প্রার্থী তাদের আয়ের ঘর পূরণ করেননি।

আরও পড়ুন  জার্মানিতে জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতায় ফেরার পথে সিডিইউ, থাকতে পারে ঝুঁকি

কোটিপতি প্রার্থীদের দলীয় অবস্থান
সুজন জানায়, কোটিপতি প্রার্থীদের মধ্যে বড় অংশই একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের। কোটিপতি ৯৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫১ জনই বিএনপির মনোনীত। এছাড়া ২৫ জন স্বতন্ত্র এবং ৫ জন জাতীয় পার্টির প্রার্থীও বার্ষিক কোটি টাকার বেশি আয় করেন।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার কোটিপতি ও অতি স্বল্প আয়ের প্রার্থীর হার কিছুটা কমেছে। গত নির্বাচনে কোটিপতি প্রার্থী ছিলেন ৮.৭৭ শতাংশ, যা এবার কমে ৪.৫৯ শতাংশ হয়েছে। একইভাবে ৫ লাখ টাকার কম আয়ের প্রার্থীর হার ৪৫ শতাংশ থেকে কমে ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থী
সুজন শীর্ষ ১০ জন আয়কারীর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যার প্রথম ১০ জনের মধ্যে ৬ জনই বিএনপির প্রার্থী। শীর্ষ তিন আয়কারী হলেন:
১. জাকারিয়া তাহের (কুমিল্লা-৮, বিএনপি): বার্ষিক আয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা (তালিকার শীর্ষে)।
২. মো. আসাদুল ইসলাম (টাঙ্গাইল-১, স্বতন্ত্র): বার্ষিক আয় প্রায় ৪০ কোটি টাকা।
৩. জাকির হোসেন পাটওয়ারী (লক্ষ্মীপুর-১, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ): বার্ষিক আয় প্রায় ১৯ কোটি টাকা।

তালিকায় পরবর্তী অবস্থানে আছেন যথাক্রমে মির্জা আব্বাস (বিএনপি), সালাউদ্দিন আলমগীর (স্বতন্ত্র), সালাহউদ্দিন আহমদ (বিএনপি), মো. জসীম উদ্দিন (বিএনপি), কায়সার কামাল (বিএনপি), শফিকুল ইসলাম রাহী (স্বতন্ত্র) এবং রেদোয়ান আহমেদ (বিএনপি)। তাঁদের সবার আয় ৪ থেকে সাড়ে ৬ কোটি টাকার মধ্যে।

সংবাদ সম্মেলনে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার ও কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। তারা হলফনামার তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রার্থীদের আয়ের উৎস নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।