ইতোকোতর্মিতো – বরফের রাজ্যে মানুষের বসতি
- আপডেট সময় ০৭:২১:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
- / 330
গ্রিনল্যান্ডের পূর্ব উপকূলে, আর্কটিক অঞ্চলের গভীরে অবস্থিত একটি ছোট কিন্তু ব্যতিক্রমী শহরের নাম ইতোকোতর্মিতো। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন জনবসতিগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। চারপাশে বিশাল বরফ, দীর্ঘ শীত আর সীমিত যোগাযোগ ব্যবস্থা এই জায়গাটিকে করেছে আলাদা।
ইতোকোতর্মিতোর ইতিহাস শুরু হয় ১৯২৫ সালে। ডেনিশ অভিযাত্রী আইনর মিকেলসেনের নেতৃত্বে কিছু ইনুইট পরিবার এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। মূল লক্ষ্য ছিল এই অঞ্চলে ডেনমার্কের উপস্থিতি শক্ত করা এবং শিকারভিত্তিক জীবনধারা ধরে রাখা। একসময় এর নাম ছিল স্কোরসবাইসুন্ড, যা এক ব্রিটিশ অভিযাত্রীর নাম থেকে নেওয়া।
এখানকার মানুষের জীবন প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। শিকার ও মাছ ধরা এখানকার প্রধান জীবিকা। সিল, নারহোয়াল ও মাঝে মাঝে মেরু ভালুক শিকার করা হয় স্থানীয় নিয়ম ও নিয়ন্ত্রণ মেনে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সীমিত হলেও মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা খুব শক্ত।
পর্যটনের দিক থেকে ইতোকোতর্মিতো খুবই বিশেষ। যারা অ্যাডভেঞ্চার ও প্রকৃতি ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি এক অনন্য গন্তব্য। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফিয়র্ড সিস্টেম স্কোরসবাই সাউন্ড এখানেই অবস্থিত। গ্রীষ্মকালে বরফ কিছুটা গলে গেলে নৌভ্রমণ, হাইকিং এবং বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়। শীতকালে কুকুরের স্লেজে চলাচল এখানকার ঐতিহ্যবাহী অভিজ্ঞতা।
যাতায়াত সহজ নয়। সাধারণত আইসল্যান্ড হয়ে বিমানে বা হেলিকপ্টারে পৌঁছাতে হয়। দীর্ঘ শীতের কারণে বছরের বেশির ভাগ সময় এই শহর বাইরের দুনিয়া থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন থাকে।
ইতোকোতর্মিতো আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আধুনিক বিশ্বের বাইরেও মানুষ প্রকৃতির কঠিন পরিবেশে মানিয়ে নিয়ে বেঁচে থাকতে পারে। ইতিহাস, সংগ্রাম আর অপরূপ আর্কটিক সৌন্দর্যের মিলনে এই শহর সত্যিই অনন্য।
























