ঢাকা ০৬:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির একচেটিয়া জয়, শূন্য হাতে জামায়াত শাহজালাল বিমানবন্দরে চারদিনে ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল দুদকে পরিবর্তন, চেয়ারম্যান-কমিশনারদের পদত্যাগ পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: রক্তের ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সভাপতির বিলবোর্ড ও ব্যানার থেকে নিজের ছবি সরানোর নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী বলিভিয়া: আন্দেসের হৃদয়ে লুকানো বৈচিত্র্যময় দেশ মধ্যপ্রাচ্যের ১৫ দেশ ছাড়ার জরুরি নির্দেশ দিল যুক্তরাষ্ট্র

 নিকোলাস মাদুরো কে?

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:১১:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 348

ছবি সংগৃহীত

 

হুগো শ্যাভেজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে নিকোলাস মাদুরোর উত্থান শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে তিনি নিজেই দেশের শাসকের আসনে বসেন।
নিকোলাস মাদুরোর জন্ম ১৯৬২ সালের ২৩ নভেম্বর, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে। তিনি কোনো সামরিক একাডেমি বা অভিজাত রাজনৈতিক পরিবার থেকে আসেননি।

তরুণ বয়সে তিনি বাসচালক হিসেবে কাজ করেন এবং একই সঙ্গে শ্রমিক ইউনিয়ন রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এই সময়েই তিনি বামপন্থি আদর্শে প্রভাবিত হন এবং সংগঠক হিসেবে পরিচিতি পান।

আরও পড়ুন  একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

হুগো শ্যাভেজ ক্ষমতায় আসার পর মাদুরো তার ঘনিষ্ঠ বৃত্তে প্রবেশ করেন। অনেক সময় তাকে শ্যাভেজের নিরাপত্তা বলয় বা বডিগার্ড ইউনিটের সঙ্গে কাজ করতে দেখা গেছে—যদিও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষিত সামরিক বডিগার্ড ছিলেন না।

শ্যাভেজ মূলত তার প্রতি আস্থা রাখতেন রাজনৈতিক আনুগত্য, ব্যক্তিগত বিশ্বস্ততা ও আদর্শিক সামঞ্জস্যের কারণে।

২০০০-এর দশকে মাদুরোর রাজনৈতিক উত্থান দ্রুত হয়। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরে ভেনেজুয়েলার সংসদের স্পিকার হন।

২০০৬ সালে হুগো শ্যাভেজ তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগ দেন। দীর্ঘ সময় এই দায়িত্বে থেকে মাদুরো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শ্যাভেজের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন এবং কিউবা, রাশিয়া ও ইরানের মতো মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেন।

২০১২ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত শ্যাভেজ প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন—তার মৃত্যুর পর নিকোলাস মাদুরোই তাঁর রাজনৈতিক উত্তরসূরি হবেন।

২০১৩ সালে শ্যাভেজের মৃত্যুর পর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন মাদুরো এবং এরপরের নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে জয়ী হয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হন।

ক্ষমতায় আসার পর মাদুরোর শাসনকাল গভীর অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্য ও ওষুধের সংকট এবং ব্যাপক রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মাধ্যমে চিহ্নিত হয়।

বিরোধীদের কাছে তিনি স্বৈরশাসক, আর সমর্থকদের চোখে তিনি শ্যাভেজের বলিভারীয় বিপ্লবের উত্তরাধিকারী।

হুগো শ্যাভেজের ছায়া থেকে উঠে এসে নিকোলাস মাদুরো আজ ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু—একজন শ্রমিক নেতা থেকে রাষ্ট্রপতি হয়ে ওঠার এক ব্যতিক্রমী ও বিতর্কিত রাজনৈতিক যাত্রার প্রতীক।

নিউজটি শেয়ার করুন

 নিকোলাস মাদুরো কে?

আপডেট সময় ০৬:১১:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

 

হুগো শ্যাভেজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে নিকোলাস মাদুরোর উত্থান শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে তিনি নিজেই দেশের শাসকের আসনে বসেন।
নিকোলাস মাদুরোর জন্ম ১৯৬২ সালের ২৩ নভেম্বর, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে। তিনি কোনো সামরিক একাডেমি বা অভিজাত রাজনৈতিক পরিবার থেকে আসেননি।

তরুণ বয়সে তিনি বাসচালক হিসেবে কাজ করেন এবং একই সঙ্গে শ্রমিক ইউনিয়ন রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এই সময়েই তিনি বামপন্থি আদর্শে প্রভাবিত হন এবং সংগঠক হিসেবে পরিচিতি পান।

আরও পড়ুন  তুরস্কের নির্বাচনী লড়াইয়ে ধাক্কা, এরদোয়ানের পথ সুগম!

হুগো শ্যাভেজ ক্ষমতায় আসার পর মাদুরো তার ঘনিষ্ঠ বৃত্তে প্রবেশ করেন। অনেক সময় তাকে শ্যাভেজের নিরাপত্তা বলয় বা বডিগার্ড ইউনিটের সঙ্গে কাজ করতে দেখা গেছে—যদিও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষিত সামরিক বডিগার্ড ছিলেন না।

শ্যাভেজ মূলত তার প্রতি আস্থা রাখতেন রাজনৈতিক আনুগত্য, ব্যক্তিগত বিশ্বস্ততা ও আদর্শিক সামঞ্জস্যের কারণে।

২০০০-এর দশকে মাদুরোর রাজনৈতিক উত্থান দ্রুত হয়। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরে ভেনেজুয়েলার সংসদের স্পিকার হন।

২০০৬ সালে হুগো শ্যাভেজ তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগ দেন। দীর্ঘ সময় এই দায়িত্বে থেকে মাদুরো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শ্যাভেজের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন এবং কিউবা, রাশিয়া ও ইরানের মতো মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেন।

২০১২ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত শ্যাভেজ প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন—তার মৃত্যুর পর নিকোলাস মাদুরোই তাঁর রাজনৈতিক উত্তরসূরি হবেন।

২০১৩ সালে শ্যাভেজের মৃত্যুর পর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন মাদুরো এবং এরপরের নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে জয়ী হয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হন।

ক্ষমতায় আসার পর মাদুরোর শাসনকাল গভীর অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্য ও ওষুধের সংকট এবং ব্যাপক রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মাধ্যমে চিহ্নিত হয়।

বিরোধীদের কাছে তিনি স্বৈরশাসক, আর সমর্থকদের চোখে তিনি শ্যাভেজের বলিভারীয় বিপ্লবের উত্তরাধিকারী।

হুগো শ্যাভেজের ছায়া থেকে উঠে এসে নিকোলাস মাদুরো আজ ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু—একজন শ্রমিক নেতা থেকে রাষ্ট্রপতি হয়ে ওঠার এক ব্যতিক্রমী ও বিতর্কিত রাজনৈতিক যাত্রার প্রতীক।