ঢাকা ০৯:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকাসহ ৪ বিভাগে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা: বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে আর জড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র: ফক্স নিউজকে জেডি ভ্যান্স ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির একচেটিয়া জয়, শূন্য হাতে জামায়াত শাহজালাল বিমানবন্দরে চারদিনে ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল দুদকে পরিবর্তন, চেয়ারম্যান-কমিশনারদের পদত্যাগ পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: রক্তের ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সভাপতির বিলবোর্ড ও ব্যানার থেকে নিজের ছবি সরানোর নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী

৪০০ কোটি টাকার ‘পিয়ন’ জাহাঙ্গীরের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও সঞ্চয়পত্র ফ্রিজ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৪৫:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫
  • / 183

ছবি সংগৃহীত

 

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী মো. জাহাঙ্গীর আলম, যিনি ‘৪০০ কোটি টাকার পিয়ন’ নামে পরিচিত, তার নামে থাকা ২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও একটি সঞ্চয়পত্রের মোট ১ কোটি ১৪ লাখ ৭৫ হাজার ৩২৯ টাকা ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আজ বুধবার (২৫ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিব এই আদেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর সহকারী পরিচালক পিয়াস পাল আদালতে এই আবেদন করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ।

আরও পড়ুন  আদালত চত্ত্বর থেকে পালানো আসামী বরগুনা থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার

দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাহাঙ্গীর আলম নিজের নামে ১৮ কোটি ২৯ লাখ ১০ হাজার ৮৮২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে, তার মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবগুলো ব্যবহার করে মোট ৬২৬ কোটি ৬৫ লাখ ১৮ হাজার ১০৭ টাকা উত্তোলন বা স্থানান্তর করেন।

তদন্তে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর আলম তার এসব অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন, যা বিচার প্রক্রিয়ার জন্য মারাত্মক হুমকি বলে মনে করছে দুদক। তাই মামলা চলাকালীন সময়েই এসব সম্পদ ফ্রিজ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চার্জশিট দাখিলের পর আদালত অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমের এই অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং আরও নতুন তথ্য অনুসন্ধানে রয়েছে দুদক।

জাহাঙ্গীর আলম মূলত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত একজন পিয়ন ছিলেন, পরে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে প্রভাবশালী অবস্থানে চলে যান। এই সময়ে তার বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জন, মানি লন্ডারিং এবং দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ উঠে আসে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি প্রমাণ করে, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে কীভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

৪০০ কোটি টাকার ‘পিয়ন’ জাহাঙ্গীরের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও সঞ্চয়পত্র ফ্রিজ

আপডেট সময় ০৮:৪৫:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫

 

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী মো. জাহাঙ্গীর আলম, যিনি ‘৪০০ কোটি টাকার পিয়ন’ নামে পরিচিত, তার নামে থাকা ২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও একটি সঞ্চয়পত্রের মোট ১ কোটি ১৪ লাখ ৭৫ হাজার ৩২৯ টাকা ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আজ বুধবার (২৫ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিব এই আদেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর সহকারী পরিচালক পিয়াস পাল আদালতে এই আবেদন করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ।

আরও পড়ুন  ধর্ষণের দায়ে হিরো আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাহাঙ্গীর আলম নিজের নামে ১৮ কোটি ২৯ লাখ ১০ হাজার ৮৮২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে, তার মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবগুলো ব্যবহার করে মোট ৬২৬ কোটি ৬৫ লাখ ১৮ হাজার ১০৭ টাকা উত্তোলন বা স্থানান্তর করেন।

তদন্তে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর আলম তার এসব অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন, যা বিচার প্রক্রিয়ার জন্য মারাত্মক হুমকি বলে মনে করছে দুদক। তাই মামলা চলাকালীন সময়েই এসব সম্পদ ফ্রিজ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চার্জশিট দাখিলের পর আদালত অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমের এই অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং আরও নতুন তথ্য অনুসন্ধানে রয়েছে দুদক।

জাহাঙ্গীর আলম মূলত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত একজন পিয়ন ছিলেন, পরে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে প্রভাবশালী অবস্থানে চলে যান। এই সময়ে তার বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জন, মানি লন্ডারিং এবং দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ উঠে আসে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি প্রমাণ করে, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে কীভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার হয়।