ঢাকা ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বিমানঘাঁটি বিধ্বস্ত, দাবি ৪০টি যুদ্ধবিমান ধ্বংসের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৫১:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫
  • / 297

ছবি সংগৃহীত

 

ইউক্রেন রাশিয়ার ভেতরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। রোববার (১ জুন) কিয়েভ বেশ কয়েকটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে একযোগে এই আক্রমণ চালায়। হামলার লক্ষ্য ছিল মস্কো থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বিমানঘাঁটিগুলো।

রাশিয়ার ইরকুটস্ক অঞ্চলের গভর্নর হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অন্তত ৪০টিরও বেশি রাশিয়ান যুদ্ধবিমান এই ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিষেবা (এসবিইউ) একে রাশিয়ান বিমান চলাচলের উপর সবচেয়ে দুঃসাহসিক ও ব্যাপক হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

আরও পড়ুন  ইইউ–ইউক্রেন সীমান্তে ‘ড্রোন ওয়াল’ প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক

এসবিইউ’র এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “রাশিয়ার অভ্যন্তরে শত্রুপক্ষের কৌশলগত বোমারু বিমান ব্যাপকভাবে জ্বলছে।” ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এসবিইউ পরিচালিত এই অভিযানে রাশিয়ার পিছনের সারির অন্তত চারটি সামরিক বিমানঘাঁটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এর মধ্যে রয়েছে ওলেনিয়া ও বেলায়ার ঘাঁটি।

এই মিশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন SBU প্রধান ভাসিল মালিউক, এবং প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি নিজে এর তত্ত্বাবধান করেছেন। সূত্র জানায়, অভিযানের জন্য FPV ড্রোন ও কাঠের তৈরি মোবাইল কেবিন রাশিয়ার অভ্যন্তরে পাচার করা হয়। এসব কেবিন ছিল ট্রাকের ওপর, যেগুলোর ছাদ ছিল রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে খোলার ব্যবস্থা। ট্রিগার দিলে ছাদ খুলে আত্মঘাতী ড্রোন উড়ে যায় রুশ বোমারু ঘাঁটির দিকে।

SBU জানিয়েছে, অভিযানে অংশ নেওয়া সব সদস্য ইতোমধ্যেই নিরাপদে ইউক্রেনে ফিরে এসেছে। রাশিয়া যদি কেউকে গ্রেপ্তার দেখায়, সেটি মূলত অভ্যন্তরীণ প্রচারণার উদ্দেশ্যেই সাজানো নাটক হবে বলে জানিয়েছে তারা

রাশিয়ার TU-95, TU-22M3, A-50 এর মতো অত্যন্ত মূল্যবান বিমানগুলোকে লক্ষ্য করেই এই অভিযান চালানো হয়, যার মাধ্যমে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি।

রয়টার্স জানিয়েছে, ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত সমন্বিত এই হামলায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিমানঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিয়েভ ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে, এই হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত যুদ্ধবিমানের মধ্যে রয়েছে টিইউ-৯৫, টিইউ-২২এম৩ বোমারু বিমান এবং কমপক্ষে একটি নজরদারি বিমান এ-৫০।

প্রাভদা নামের একটি ইউক্রেনীয় প্রকাশনার তথ্য অনুযায়ী, এই আক্রমণ ‘পাভুতিনা’ নামক একটি বিশেষ সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়ার দূরপাল্লার হামলার ক্ষমতা হ্রাস করা।

উল্লেখযোগ্যভাবে, রাশিয়ার সামরিক বাহিনী এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা ইউক্রেনের পক্ষ থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে একটি কৌশলগত অগ্রগতি নির্দেশ করে। এটি রাশিয়ার সামরিক অবকাঠামোতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি, রয়টার্স

নিউজটি শেয়ার করুন

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বিমানঘাঁটি বিধ্বস্ত, দাবি ৪০টি যুদ্ধবিমান ধ্বংসের

আপডেট সময় ০৮:৫১:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫

 

ইউক্রেন রাশিয়ার ভেতরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। রোববার (১ জুন) কিয়েভ বেশ কয়েকটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে একযোগে এই আক্রমণ চালায়। হামলার লক্ষ্য ছিল মস্কো থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বিমানঘাঁটিগুলো।

রাশিয়ার ইরকুটস্ক অঞ্চলের গভর্নর হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অন্তত ৪০টিরও বেশি রাশিয়ান যুদ্ধবিমান এই ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিষেবা (এসবিইউ) একে রাশিয়ান বিমান চলাচলের উপর সবচেয়ে দুঃসাহসিক ও ব্যাপক হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সম্পর্ক: ট্রাম্প কি আত্মসমর্পণে বাধ্য করছেন? সিদ্ধান্তে নতুন টানাপড়েন

এসবিইউ’র এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “রাশিয়ার অভ্যন্তরে শত্রুপক্ষের কৌশলগত বোমারু বিমান ব্যাপকভাবে জ্বলছে।” ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এসবিইউ পরিচালিত এই অভিযানে রাশিয়ার পিছনের সারির অন্তত চারটি সামরিক বিমানঘাঁটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এর মধ্যে রয়েছে ওলেনিয়া ও বেলায়ার ঘাঁটি।

এই মিশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন SBU প্রধান ভাসিল মালিউক, এবং প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি নিজে এর তত্ত্বাবধান করেছেন। সূত্র জানায়, অভিযানের জন্য FPV ড্রোন ও কাঠের তৈরি মোবাইল কেবিন রাশিয়ার অভ্যন্তরে পাচার করা হয়। এসব কেবিন ছিল ট্রাকের ওপর, যেগুলোর ছাদ ছিল রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে খোলার ব্যবস্থা। ট্রিগার দিলে ছাদ খুলে আত্মঘাতী ড্রোন উড়ে যায় রুশ বোমারু ঘাঁটির দিকে।

SBU জানিয়েছে, অভিযানে অংশ নেওয়া সব সদস্য ইতোমধ্যেই নিরাপদে ইউক্রেনে ফিরে এসেছে। রাশিয়া যদি কেউকে গ্রেপ্তার দেখায়, সেটি মূলত অভ্যন্তরীণ প্রচারণার উদ্দেশ্যেই সাজানো নাটক হবে বলে জানিয়েছে তারা

রাশিয়ার TU-95, TU-22M3, A-50 এর মতো অত্যন্ত মূল্যবান বিমানগুলোকে লক্ষ্য করেই এই অভিযান চালানো হয়, যার মাধ্যমে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি।

রয়টার্স জানিয়েছে, ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত সমন্বিত এই হামলায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিমানঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিয়েভ ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে, এই হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত যুদ্ধবিমানের মধ্যে রয়েছে টিইউ-৯৫, টিইউ-২২এম৩ বোমারু বিমান এবং কমপক্ষে একটি নজরদারি বিমান এ-৫০।

প্রাভদা নামের একটি ইউক্রেনীয় প্রকাশনার তথ্য অনুযায়ী, এই আক্রমণ ‘পাভুতিনা’ নামক একটি বিশেষ সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়ার দূরপাল্লার হামলার ক্ষমতা হ্রাস করা।

উল্লেখযোগ্যভাবে, রাশিয়ার সামরিক বাহিনী এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা ইউক্রেনের পক্ষ থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে একটি কৌশলগত অগ্রগতি নির্দেশ করে। এটি রাশিয়ার সামরিক অবকাঠামোতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি, রয়টার্স