ঢাকা ০৬:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
আকস্মিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু থেকে পানাহের জন্য ইসলামি বিধান ও বিশেষ দোয়া কিউবা: ক্যারিবীয় দ্বীপে ইতিহাস, সংস্কৃতি আর বাস্তবতার মিশ্রণ আমাকে ইরানের ‘সর্বোচ্চ নেতা’ হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে-বিস্ফোরক মন্তব্য ট্রাম্পের মাদকের প্রতিবাদ করায় নরসিংদীতে মসজিদের ইমামের ওপর হামলা, এলাকায় উত্তেজনা পদ্মায় বাসডুবি: ২৬ মরদেহ উদ্ধারের পর অভিযান স্থগিত হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশসহ ৬ দেশের জাহাজে হামলা হবে না: ইরান রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ি সড়কে বাস উল্টে আহত অন্তত ১৯, গুরুতর একজন চট্টগ্রামে প্রেরণ ঈদকে কেন্দ্র করে বাড়ছে দুর্ঘটনা , ঝুঁকি এড়াতে যা যা করবেন হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের ফেরাতে অনুরোধপত্র পাঠিয়েছি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৌলতদিয়ায় বাস ডুবিতে বাড়ল মৃতের সংখ্যা, প্রাণ গেল আরও তিন মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর

জ্বালানি সংকটে শিল্পে ধস, সাথে বিনিয়োগ স্থবির – আতঙ্কে উদ্যোক্তারা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৫৯:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫
  • / 537

ছবি সংগৃহীত

 

জ্বালানির সংকট, ঋণের উচ্চ সুদহার, সময়মতো বেতন-ভাতা দিতে না পারলে মালিকদের জেলে পাঠানোর হুমকি এ সবকিছু মিলিয়ে চরম উদ্বেগে দেশের শিল্প উদ্যোক্তারা। গ্যাস সংকটে উৎপাদন স্থবির, চাঁদাবাজি ও মামলা-হামলার ভয়ে কারখানা চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, “শিল্পোদ্যোক্তাদের ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন কারখানা বন্ধ হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন চলতে থাকলে মানুষ রাস্তায় নামবে।” তিনি বলেন, “বিডা বলছে বিদেশি বিনিয়োগকারী আসবে। একজনকে এনে আমাদের সঙ্গে পার্টনার করতে বলেন কিন্তু বাংলাদেশে ব্যবসার খরচ এত বেশি যে কেউ আসতে চায় না।”

আরও পড়ুন  ৬ দিন ধরে বিচ্ছিন্ন সেন্ট মার্টিন, দ্বীপজুড়ে খাদ্য ও জ্বালানি সংকট

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত দেড় মাসে গ্যাস সংকটে রপ্তানিনির্ভর ও স্থানীয় টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের বহু কারখানা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হুমকির মুখে। নতুন বিনিয়োগ বন্ধ হওয়ায় কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও কমে যাচ্ছে।

বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম পারভেজ বলেন, “গ্যাস দেবেন না, সুদ বাড়াবেন, আবার বেতন না দিলে মালিকদের জেলে দেবেন এটা কেমন নীতি? সরকার প্রতিশ্রুতি রাখতে না পারলে মালিকরা দায় নেবেন কেন?” তাঁর মতে, শিল্প বাঁচাতে হলে সরকারের এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, চলতি মূলধন সংকুচিত হওয়ায় আসন্ন ঈদুল আজহার আগেও বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ব্যাংকের ঋণ কিস্তি ও গ্যাস বিল পরিশোধের পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া এখন দুরূহ।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন, “এই সময় গ্যাসের দাম দ্বিগুণ করা হলে শিল্প আরও বিপদে পড়বে। উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, প্রতিযোগিতা কমবে, বিনিয়োগ বন্ধ হবে। এর ফলে অনেকে কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হবে, ফলে বেড়ে যাবে মন্দ ঋণের পরিমাণ।”

পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে নিবন্ধিত দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রকল্পের সংখ্যা ৮১৪টি, প্রস্তাবিত বিনিয়োগ ২৭ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা। তবে গত অর্থবছরের তুলনায় তা কম। উদ্যোক্তারা বলছেন, এভাবে চললে শিল্প ধ্বংস হবে, কর্মসংস্থান বন্ধ হবে, আর অর্থনীতি পড়বে গভীর সঙ্কটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

জ্বালানি সংকটে শিল্পে ধস, সাথে বিনিয়োগ স্থবির – আতঙ্কে উদ্যোক্তারা

আপডেট সময় ১০:৫৯:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫

 

জ্বালানির সংকট, ঋণের উচ্চ সুদহার, সময়মতো বেতন-ভাতা দিতে না পারলে মালিকদের জেলে পাঠানোর হুমকি এ সবকিছু মিলিয়ে চরম উদ্বেগে দেশের শিল্প উদ্যোক্তারা। গ্যাস সংকটে উৎপাদন স্থবির, চাঁদাবাজি ও মামলা-হামলার ভয়ে কারখানা চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, “শিল্পোদ্যোক্তাদের ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন কারখানা বন্ধ হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন চলতে থাকলে মানুষ রাস্তায় নামবে।” তিনি বলেন, “বিডা বলছে বিদেশি বিনিয়োগকারী আসবে। একজনকে এনে আমাদের সঙ্গে পার্টনার করতে বলেন কিন্তু বাংলাদেশে ব্যবসার খরচ এত বেশি যে কেউ আসতে চায় না।”

আরও পড়ুন  অর্থনীতি বাঁচাতে কঠিন সিদ্ধান্ত—সপ্তাহে ৩ দিন ছুটি শ্রীলঙ্কা

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত দেড় মাসে গ্যাস সংকটে রপ্তানিনির্ভর ও স্থানীয় টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের বহু কারখানা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হুমকির মুখে। নতুন বিনিয়োগ বন্ধ হওয়ায় কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও কমে যাচ্ছে।

বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম পারভেজ বলেন, “গ্যাস দেবেন না, সুদ বাড়াবেন, আবার বেতন না দিলে মালিকদের জেলে দেবেন এটা কেমন নীতি? সরকার প্রতিশ্রুতি রাখতে না পারলে মালিকরা দায় নেবেন কেন?” তাঁর মতে, শিল্প বাঁচাতে হলে সরকারের এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, চলতি মূলধন সংকুচিত হওয়ায় আসন্ন ঈদুল আজহার আগেও বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ব্যাংকের ঋণ কিস্তি ও গ্যাস বিল পরিশোধের পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া এখন দুরূহ।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন, “এই সময় গ্যাসের দাম দ্বিগুণ করা হলে শিল্প আরও বিপদে পড়বে। উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, প্রতিযোগিতা কমবে, বিনিয়োগ বন্ধ হবে। এর ফলে অনেকে কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হবে, ফলে বেড়ে যাবে মন্দ ঋণের পরিমাণ।”

পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে নিবন্ধিত দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রকল্পের সংখ্যা ৮১৪টি, প্রস্তাবিত বিনিয়োগ ২৭ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা। তবে গত অর্থবছরের তুলনায় তা কম। উদ্যোক্তারা বলছেন, এভাবে চললে শিল্প ধ্বংস হবে, কর্মসংস্থান বন্ধ হবে, আর অর্থনীতি পড়বে গভীর সঙ্কটে।