ঢাকা ১০:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

যুদ্ধের ভারে ক্লান্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনী, মনোবলে চিড় ধরছে

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৩৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫
  • / 396

ছবি সংগৃহীত

 

ইসরায়েলি দখলদার সেনাবাহিনীর ভেতরে ক্রমেই দেখা দিচ্ছে ক্লান্তি, হতাশা ও সরকারের প্রতি গভীর অবিশ্বাস। যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতা, পরপর একাধিকবার তলব, এবং নেতানিয়াহু সরকারের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সেনাদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে এমনটাই জানিয়েছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম Jerusalem Post।

গণমাধ্যমটি জানায়, গত ১৯ মাসে বহু রিজার্ভ সেনাকে তিন থেকে ছয়বার পর্যন্ত যুদ্ধে ডাকা হয়েছে। এর ফলে অনেকেই পরিবার, কর্মজীবন বা শিক্ষাজীবন বারবার বাধাগ্রস্ত হওয়ার শিকার হয়েছেন। যুদ্ধের শুরুতে, অর্থাৎ ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে সেনা তলবে প্রত্যাশার চেয়েও ২০-৩০ শতাংশ বেশি সাড়া মিলেছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সেই হার কমতে কমতে এখন ৬০-৭০ শতাংশে এসে ঠেকেছে।

আরও পড়ুন  ইসরায়েলের জাতীয় সংগীতের ‘সুর চুরি’ বিতর্কে আনু মালিক!

বর্তমানে সরকার এক লক্ষ রিজার্ভ সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। তবে এতে সেনাদের আগ্রহ অনেকটাই কমে গেছে। রিজার্ভ বাহিনীর অনেকেই মনে করছেন, তাঁদের শুধুমাত্র প্রয়োজনের সময়ই ডাকা হয়, কোনো ধরনের সম্মান, কৃতজ্ঞতা বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের প্রতি এই অনীহা এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোর প্রতি সেনাদের আস্থা হারানোর প্রবণতা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অনেকেই মনে করছেন, যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার পেছনে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অভিসন্ধি কাজ করছে। বিশেষ করে, অতিরক্ষণশীল ধর্মীয় ইহুদিদের সেনা তলব থেকে ছাড় দেওয়াকে ব্যাপকভাবে বৈষম্যমূলক বলেই মনে করছেন অন্যরা।

এই ভেদাভেদ সেনাবাহিনীর ভেতরে বিভাজন তৈরি করছে এবং দখলদার বাহিনীর ভেতরে স্থায়ী মনোবল সংকটের সৃষ্টি করছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে খুব শিগগিরই ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা মুখ থুবড়ে পড়বে।

এই বাস্তবতায়, যুদ্ধের নেপথ্যে থাকা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও সামরিক নীতির পুনর্মূল্যায়ন এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। না হলে, যুদ্ধ কেবল মাঠেই নয় মনোবল ও সমর্থনের ঘাটতিতেও ইসরায়েলকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে পারে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

যুদ্ধের ভারে ক্লান্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনী, মনোবলে চিড় ধরছে

আপডেট সময় ১১:৩৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫

 

ইসরায়েলি দখলদার সেনাবাহিনীর ভেতরে ক্রমেই দেখা দিচ্ছে ক্লান্তি, হতাশা ও সরকারের প্রতি গভীর অবিশ্বাস। যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতা, পরপর একাধিকবার তলব, এবং নেতানিয়াহু সরকারের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সেনাদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে এমনটাই জানিয়েছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম Jerusalem Post।

গণমাধ্যমটি জানায়, গত ১৯ মাসে বহু রিজার্ভ সেনাকে তিন থেকে ছয়বার পর্যন্ত যুদ্ধে ডাকা হয়েছে। এর ফলে অনেকেই পরিবার, কর্মজীবন বা শিক্ষাজীবন বারবার বাধাগ্রস্ত হওয়ার শিকার হয়েছেন। যুদ্ধের শুরুতে, অর্থাৎ ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে সেনা তলবে প্রত্যাশার চেয়েও ২০-৩০ শতাংশ বেশি সাড়া মিলেছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সেই হার কমতে কমতে এখন ৬০-৭০ শতাংশে এসে ঠেকেছে।

আরও পড়ুন  ইরানের ৩০টি জ্বালানি ডিপোতে ইসরায়েলের হামলায় অসন্তোষ যুক্তরাষ্ট্রের: দাবি মার্কিন গণমাধ্যমের

বর্তমানে সরকার এক লক্ষ রিজার্ভ সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। তবে এতে সেনাদের আগ্রহ অনেকটাই কমে গেছে। রিজার্ভ বাহিনীর অনেকেই মনে করছেন, তাঁদের শুধুমাত্র প্রয়োজনের সময়ই ডাকা হয়, কোনো ধরনের সম্মান, কৃতজ্ঞতা বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের প্রতি এই অনীহা এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোর প্রতি সেনাদের আস্থা হারানোর প্রবণতা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অনেকেই মনে করছেন, যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার পেছনে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অভিসন্ধি কাজ করছে। বিশেষ করে, অতিরক্ষণশীল ধর্মীয় ইহুদিদের সেনা তলব থেকে ছাড় দেওয়াকে ব্যাপকভাবে বৈষম্যমূলক বলেই মনে করছেন অন্যরা।

এই ভেদাভেদ সেনাবাহিনীর ভেতরে বিভাজন তৈরি করছে এবং দখলদার বাহিনীর ভেতরে স্থায়ী মনোবল সংকটের সৃষ্টি করছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে খুব শিগগিরই ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা মুখ থুবড়ে পড়বে।

এই বাস্তবতায়, যুদ্ধের নেপথ্যে থাকা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও সামরিক নীতির পুনর্মূল্যায়ন এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। না হলে, যুদ্ধ কেবল মাঠেই নয় মনোবল ও সমর্থনের ঘাটতিতেও ইসরায়েলকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে পারে।