ঢাকা ০৮:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনায় আবারও জালে উঠছে ইলিশ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:২০:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ মে ২০২৫
  • / 457

ছবি: সংগৃহীত

 

দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও ইলিশ শিকার শুরু হয়েছে চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে। বুধবার (১ মে) রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে মাছ ধরার অনুমতি পেয়ে নদীতে নেমেছেন হাজারো জেলে। তাদের চোখে-মুখে নতুন আশার ঝিলিক।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. গোলাম মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জাটকা সংরক্ষণে মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাস নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার নদী এলাকা।

আরও পড়ুন  চাঁদপুরে সেনাবাহিনীর অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ৫ সদস্য আটক

এই দুই মাসে জেলা মৎস্য বিভাগ ১,০৬৪টি অভিযান পরিচালনা করে। এতে ১২৯ জন জেলেকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫ জনকে কারাদণ্ড এবং ১২৪ জনকে জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযান চলাকালে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে ১২ লাখ ৭০৫ মিটার কারেন্টজাল, ১৩টি বেহুন্দি জাল ও ৩৩৪টি অন্যান্য জাল। এ ছাড়া উদ্ধার করা হয় ৬ হাজার ৭৬৬ টন জাটকা ও ৩ হাজার ৫২ টন অন্যান্য মাছ। জব্দকৃত সরঞ্জাম নিলামে বিক্রি করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

মৎস্যজীবী নেতা তছলিম ব্যাপারী বলেন, “নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় আমরা নদীতে নামছি। তবে ইলিশ ধরা প্রকৃতিনির্ভর। সরকার আমাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে, খাদ্য ও উপকরণ সহায়তা দিচ্ছে।”

মৎস্য কর্মকর্তা জানান, অভিযানের সময় প্রত্যেক নিবন্ধিত জেলেকে চার কিস্তিতে ৪০ কেজি করে মোট ১৬০ কেজি চাল সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। তার আশা, এই কঠোর অভিযানের ফলে এবার নদীতে ইলিশের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

নৌ পুলিশের চাঁদপুর অঞ্চলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, দুটি মাসব্যাপী অভিযানে একটি থানা ও পাঁচটি পুলিশ ফাঁড়ি নিয়মিত নজরদারি চালিয়েছে। এতে ৯ কোটি ৯০ লাখ ৩৪ হাজার মিটার কারেন্টজাল এবং ১৮ টন জাটকা জব্দ করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে ২৬৮ জন জেলে ও ১২৩টি নৌযান।

নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা আবারও নদীতে ফিরেছেন। এখন সময় প্রকৃতির দান ইলিশে ভরপুর জাল নিয়ে ঘরে ফেরা অপেক্ষা।

নিউজটি শেয়ার করুন

চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনায় আবারও জালে উঠছে ইলিশ

আপডেট সময় ১২:২০:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ মে ২০২৫

 

দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও ইলিশ শিকার শুরু হয়েছে চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে। বুধবার (১ মে) রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে মাছ ধরার অনুমতি পেয়ে নদীতে নেমেছেন হাজারো জেলে। তাদের চোখে-মুখে নতুন আশার ঝিলিক।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. গোলাম মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জাটকা সংরক্ষণে মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাস নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার নদী এলাকা।

আরও পড়ুন  চাঁদপুরে ডাকাতিয়া নদীতে মাটির বাঁধে নদীর পানি বন্ধ, বিপাকে কৃষকরা

এই দুই মাসে জেলা মৎস্য বিভাগ ১,০৬৪টি অভিযান পরিচালনা করে। এতে ১২৯ জন জেলেকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫ জনকে কারাদণ্ড এবং ১২৪ জনকে জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযান চলাকালে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে ১২ লাখ ৭০৫ মিটার কারেন্টজাল, ১৩টি বেহুন্দি জাল ও ৩৩৪টি অন্যান্য জাল। এ ছাড়া উদ্ধার করা হয় ৬ হাজার ৭৬৬ টন জাটকা ও ৩ হাজার ৫২ টন অন্যান্য মাছ। জব্দকৃত সরঞ্জাম নিলামে বিক্রি করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

মৎস্যজীবী নেতা তছলিম ব্যাপারী বলেন, “নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় আমরা নদীতে নামছি। তবে ইলিশ ধরা প্রকৃতিনির্ভর। সরকার আমাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে, খাদ্য ও উপকরণ সহায়তা দিচ্ছে।”

মৎস্য কর্মকর্তা জানান, অভিযানের সময় প্রত্যেক নিবন্ধিত জেলেকে চার কিস্তিতে ৪০ কেজি করে মোট ১৬০ কেজি চাল সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। তার আশা, এই কঠোর অভিযানের ফলে এবার নদীতে ইলিশের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

নৌ পুলিশের চাঁদপুর অঞ্চলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, দুটি মাসব্যাপী অভিযানে একটি থানা ও পাঁচটি পুলিশ ফাঁড়ি নিয়মিত নজরদারি চালিয়েছে। এতে ৯ কোটি ৯০ লাখ ৩৪ হাজার মিটার কারেন্টজাল এবং ১৮ টন জাটকা জব্দ করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে ২৬৮ জন জেলে ও ১২৩টি নৌযান।

নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা আবারও নদীতে ফিরেছেন। এখন সময় প্রকৃতির দান ইলিশে ভরপুর জাল নিয়ে ঘরে ফেরা অপেক্ষা।