ঢাকা ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো রাষ্ট্রের রক্তচক্ষুকে ভয় করে না জামায়াত: ডা. তাহের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:১৭:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫
  • / 314

ছবি সংগৃহীত

 

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জামায়াতে ইসলামী কোনো রাষ্ট্রের রক্তচক্ষুকে ভয় করে না, পরোয়া করে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।

আরও পড়ুন  পাকিস্তান হাইকমিশনারের সাথে আমীরে জামায়াতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডা. তাহের বলেন, দেশের স্বার্থ যেখানে সংশ্লিষ্ট, সেখানে ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থ নয়, বরং দেশের মঙ্গলকেই প্রাধান্য দেবে জামায়াতে ইসলামী। যা দেশের কল্যাণে প্রয়োজন, সেই যেকোনো সংস্কার ও পরিবর্তনে দলটি সর্বাত্মক সমর্থন জানায়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা আপসহীন। কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ বা চাপের কাছে আমাদের নতি নেই। স্বাধীনতার প্রশ্নে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

গণতন্ত্রের বিষয়ে তিনি বলেন, একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জামায়াতে ইসলামী অঙ্গীকারবদ্ধ। দলের ভেতরেও আমরা গণতান্ত্রিক চর্চা করি। আমাদের দলীয় নির্বাচন হয় প্রার্থীহীন, প্যানেলবিহীন ও প্রচারণাহীন ওপেন ব্যালটে। এটাই আমাদের স্বকীয়তা। আমরা চাই এ ধরনের গণতান্ত্রিক চর্চা জাতীয় পর্যায়েও প্রতিষ্ঠা হোক।

ডা. তাহের বলেন, দেশে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায় জামায়াতে ইসলামী। গত তিনটি জাতীয় নির্বাচন ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। সেগুলো নির্বাচনের নামে প্রহসন ছাড়া কিছুই নয়। এর ফলে জবাবদিহিতার অভাব সৃষ্টি হয়েছে, যার খেসারত দিচ্ছে পুরো জাতি। আমরা চাই না, এই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হোক।

তিনি বলেন, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য জামায়াতে ইসলামী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেশের আজকের অর্থনৈতিক দুরবস্থার মূল কারণ দুর্নীতি। যারা ভোট ছাড়া ক্ষমতায় যেতে চায়, যারা পরিশ্রম ছাড়া টাকা কামাতে চায়, তারাই দুর্নীতিবাজ। সম্প্রতি জানা গেছে, ২৩০ থেকে ২৩৫ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাচার হয়ে গেছে এক বা দুই ব্যক্তির মাধ্যমে। এই অর্থ দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও উন্নয়নে ব্যয় হলে বাংলাদেশ আজ অনেক উন্নত অবস্থানে থাকত।

জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, উন্নত ও নৈতিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে চাই আমরা। নৈতিকতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে আলোকিত সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে আশ্বস্ত করে বলেন, গঠনমূলক, ইতিবাচক ও বাস্তবভিত্তিক সংস্কারের জন্য জামায়াতে ইসলামী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

বৈঠক সঞ্চালনা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার ও ড. ইফতেখারুজ্জামান।

জামায়াতের পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।

নিউজটি শেয়ার করুন

স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো রাষ্ট্রের রক্তচক্ষুকে ভয় করে না জামায়াত: ডা. তাহের

আপডেট সময় ০৩:১৭:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫

 

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জামায়াতে ইসলামী কোনো রাষ্ট্রের রক্তচক্ষুকে ভয় করে না, পরোয়া করে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।

আরও পড়ুন  ইসলামী আন্দোলন ইস্যুতে নেতাকর্মীদের যে বার্তা দিলেন জামায়াত আমির

শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডা. তাহের বলেন, দেশের স্বার্থ যেখানে সংশ্লিষ্ট, সেখানে ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থ নয়, বরং দেশের মঙ্গলকেই প্রাধান্য দেবে জামায়াতে ইসলামী। যা দেশের কল্যাণে প্রয়োজন, সেই যেকোনো সংস্কার ও পরিবর্তনে দলটি সর্বাত্মক সমর্থন জানায়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা আপসহীন। কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ বা চাপের কাছে আমাদের নতি নেই। স্বাধীনতার প্রশ্নে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

গণতন্ত্রের বিষয়ে তিনি বলেন, একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জামায়াতে ইসলামী অঙ্গীকারবদ্ধ। দলের ভেতরেও আমরা গণতান্ত্রিক চর্চা করি। আমাদের দলীয় নির্বাচন হয় প্রার্থীহীন, প্যানেলবিহীন ও প্রচারণাহীন ওপেন ব্যালটে। এটাই আমাদের স্বকীয়তা। আমরা চাই এ ধরনের গণতান্ত্রিক চর্চা জাতীয় পর্যায়েও প্রতিষ্ঠা হোক।

ডা. তাহের বলেন, দেশে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায় জামায়াতে ইসলামী। গত তিনটি জাতীয় নির্বাচন ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। সেগুলো নির্বাচনের নামে প্রহসন ছাড়া কিছুই নয়। এর ফলে জবাবদিহিতার অভাব সৃষ্টি হয়েছে, যার খেসারত দিচ্ছে পুরো জাতি। আমরা চাই না, এই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হোক।

তিনি বলেন, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য জামায়াতে ইসলামী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেশের আজকের অর্থনৈতিক দুরবস্থার মূল কারণ দুর্নীতি। যারা ভোট ছাড়া ক্ষমতায় যেতে চায়, যারা পরিশ্রম ছাড়া টাকা কামাতে চায়, তারাই দুর্নীতিবাজ। সম্প্রতি জানা গেছে, ২৩০ থেকে ২৩৫ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাচার হয়ে গেছে এক বা দুই ব্যক্তির মাধ্যমে। এই অর্থ দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও উন্নয়নে ব্যয় হলে বাংলাদেশ আজ অনেক উন্নত অবস্থানে থাকত।

জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, উন্নত ও নৈতিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে চাই আমরা। নৈতিকতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে আলোকিত সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে আশ্বস্ত করে বলেন, গঠনমূলক, ইতিবাচক ও বাস্তবভিত্তিক সংস্কারের জন্য জামায়াতে ইসলামী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

বৈঠক সঞ্চালনা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার ও ড. ইফতেখারুজ্জামান।

জামায়াতের পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।