ঢাকা ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ

জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন নিয়ে আপিলের রায় রোববার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৫৮:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫
  • / 463

ছবি: সংগৃহীত

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন বৈধ ছিল কি না, তা নির্ধারণে দেওয়া আপিল বিভাগের রায় ঘোষণার জন্য আগামীকাল রোববার (১ জুন) দিন ধার্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি এক নম্বর ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এর আগে, চলতি বছরের ১৪ মে চতুর্থ দিনের শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য ১ জুন দিন ধার্য করে। জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন বিশিষ্ট আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক ও মোহাম্মদ শিশির মনির, আর নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম।

আরও পড়ুন  ‘ক্ষমতার জন্য নয়, মানবতার জন্য লড়ছি’: জামায়াতে ইসলামীর আমির

শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাচন কমিশন সাময়িক নিবন্ধন দেয়। তবে ২০০৯ সালে কয়েকটি ইসলামী দলের নেতারা জামায়াতের নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। সেই রিটের শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্ট জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে।

ওই রায়ে বলা হয়, দলটির গঠনতন্ত্র ও কার্যক্রম সংবিধান পরিপন্থী। এরপর জামায়াত আপিল করে, তবে ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর আপিল বিভাগে শুনানিতে আইনজীবীরা অনুপস্থিত থাকায় মামলাটি ‘ডিসমিস ফর ডিফল্ট’ হিসেবে খারিজ হয়ে যায়।

পরে ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর আপিল বিভাগ জামায়াতের আবেদনের ভিত্তিতে বিলম্ব মার্জনা করে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করে। এরপর ৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় শুনানি, যা শেষ হয় ১৪ মে।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগ সরকার পুনরায় ক্ষমতায় এলে, একই বছরের ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামী ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তবে ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর নতুন প্রশাসন জামায়াত নিষিদ্ধের আদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় এবং ২৮ আগস্ট তা কার্যকর করা হয়।

এরপর থেকেই দলটি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার উদ্যোগ নেয় এবং নিবন্ধন ফেরত পেতে আপিল বিভাগে আইনি লড়াই চালিয়ে যায়।

রোববারের রায়ের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে, জামায়াতে ইসলামী আগামী নির্বাচনগুলোতে রাজনৈতিক দল হিসেবে অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা। আদালতের রায়ের পর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন নিয়ে আপিলের রায় রোববার

আপডেট সময় ১২:৫৮:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন বৈধ ছিল কি না, তা নির্ধারণে দেওয়া আপিল বিভাগের রায় ঘোষণার জন্য আগামীকাল রোববার (১ জুন) দিন ধার্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি এক নম্বর ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এর আগে, চলতি বছরের ১৪ মে চতুর্থ দিনের শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য ১ জুন দিন ধার্য করে। জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন বিশিষ্ট আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক ও মোহাম্মদ শিশির মনির, আর নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম।

আরও পড়ুন  নুরের ওপর হামলায় জামায়াতের বিক্ষোভের ঘোষণা

শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাচন কমিশন সাময়িক নিবন্ধন দেয়। তবে ২০০৯ সালে কয়েকটি ইসলামী দলের নেতারা জামায়াতের নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। সেই রিটের শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্ট জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে।

ওই রায়ে বলা হয়, দলটির গঠনতন্ত্র ও কার্যক্রম সংবিধান পরিপন্থী। এরপর জামায়াত আপিল করে, তবে ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর আপিল বিভাগে শুনানিতে আইনজীবীরা অনুপস্থিত থাকায় মামলাটি ‘ডিসমিস ফর ডিফল্ট’ হিসেবে খারিজ হয়ে যায়।

পরে ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর আপিল বিভাগ জামায়াতের আবেদনের ভিত্তিতে বিলম্ব মার্জনা করে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করে। এরপর ৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় শুনানি, যা শেষ হয় ১৪ মে।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগ সরকার পুনরায় ক্ষমতায় এলে, একই বছরের ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামী ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তবে ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর নতুন প্রশাসন জামায়াত নিষিদ্ধের আদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় এবং ২৮ আগস্ট তা কার্যকর করা হয়।

এরপর থেকেই দলটি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার উদ্যোগ নেয় এবং নিবন্ধন ফেরত পেতে আপিল বিভাগে আইনি লড়াই চালিয়ে যায়।

রোববারের রায়ের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে, জামায়াতে ইসলামী আগামী নির্বাচনগুলোতে রাজনৈতিক দল হিসেবে অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা। আদালতের রায়ের পর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।