ঢাকা ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
রামেক হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি কমাতে বসছে একক ‘অ্যাম্বুলেন্স সেন্টার’ বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ আজ নাটোরে ৪৫ টাকা চা বিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১২ মধুখালীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে সুপারভাইজার নিহত, আহত ১৫ শাহজালাল বিমানবন্দরে আনসার সদস্যদের যাতায়াত সহজে বিশেষ বাস সেবা চালু ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে পরিকল্পনার মাধ্যমে: প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ: বাণিজ্যমন্ত্রী কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য উপহাইকমিশনের সতর্কবার্তা নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগে সহায়তার হাত বাড়াল বাংলাদেশ ছিনতাইয়ের ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যু: উদ্ধার বাইক নিয়ে প্রশ্ন, ডিবির ছায়া তদন্ত

বৈধ কাগজপত্র থাকলেও সৌদি থেকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ বাংলাদেশি প্রবাসীদের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৪৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫
  • / 375

ছবি সংগৃহীত

 

সৌদি আরবে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রবাসী বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সৌদি থেকে দেশে ফেরত আসা শতাধিক বাংলাদেশি অভিযোগ করেছেন, কোনো অপরাধ না করেও তারা হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং জোরপূর্বক দেশে পাঠানো হয়েছে।

ফেরত আসা বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, গত ১২ এপ্রিল ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচিতে সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ছবি অবমাননার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের সন্দেহের চোখে দেখা শুরু করে সৌদি প্রশাসন। তাদের অভিযোগ, শুধু বাঙালি পরিচয়ের ভিত্তিতেই অনেককে আটক করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  সৌদি আরবের ২০০ মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলো বুর্কিনা ফাসো

সোমবার মধ্যরাতে সৌদি আরব থেকে আসা একটি ফ্লাইটে দেশে পৌঁছান শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেই তারা সাংবাদিকদের কাছে তাদের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। অনেকেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, কাগজপত্র হালনাগাদ থাকার পরেও তাদের গ্রেফতার করে ক্যাম্পে রাখা হয় এবং পরে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

একজন ভুক্তভোগী বলেন, “আমি ৮ বছর ধরে বৈধভাবে কাজ করছি। আকামা, পাসপোর্ট, সবকিছু ঠিক আছে। তবুও আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই আটক করা হয়। শেষ পর্যন্ত জোর করে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

অন্য একজন জানান, “আমরা কোনো বিক্ষোভে অংশ নেইনি। এমনকি সেই দিন আমরা কর্মস্থলেই ছিলাম। তবুও আমাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।”

ভুক্তভোগীদের দাবি, সম্প্রতি সৌদি সরকারের অভ্যন্তরীণ নীতিতে কড়াকড়ি আরোপের ফলে বিশেষভাবে বাংলাদেশিদের টার্গেট করা হচ্ছে। যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

ফেরত আসা প্রবাসীরা সরকারের কাছে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা চান, সৌদি সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা করে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধ করা হয়।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে সৌদি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রবাসীদের এমন অবস্থায় ফেলা সত্যিই দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের হয়রানি মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

বৈধ কাগজপত্র থাকলেও সৌদি থেকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ বাংলাদেশি প্রবাসীদের

আপডেট সময় ১১:৪৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫

 

সৌদি আরবে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রবাসী বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সৌদি থেকে দেশে ফেরত আসা শতাধিক বাংলাদেশি অভিযোগ করেছেন, কোনো অপরাধ না করেও তারা হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং জোরপূর্বক দেশে পাঠানো হয়েছে।

ফেরত আসা বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, গত ১২ এপ্রিল ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচিতে সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ছবি অবমাননার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের সন্দেহের চোখে দেখা শুরু করে সৌদি প্রশাসন। তাদের অভিযোগ, শুধু বাঙালি পরিচয়ের ভিত্তিতেই অনেককে আটক করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  রমজান শুরুর এক সপ্তাহে সৌদি আরবে ১৭ হাজার ৩৮৯ অবৈধ প্রবাসী গ্রেপ্তার

সোমবার মধ্যরাতে সৌদি আরব থেকে আসা একটি ফ্লাইটে দেশে পৌঁছান শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেই তারা সাংবাদিকদের কাছে তাদের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। অনেকেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, কাগজপত্র হালনাগাদ থাকার পরেও তাদের গ্রেফতার করে ক্যাম্পে রাখা হয় এবং পরে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

একজন ভুক্তভোগী বলেন, “আমি ৮ বছর ধরে বৈধভাবে কাজ করছি। আকামা, পাসপোর্ট, সবকিছু ঠিক আছে। তবুও আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই আটক করা হয়। শেষ পর্যন্ত জোর করে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

অন্য একজন জানান, “আমরা কোনো বিক্ষোভে অংশ নেইনি। এমনকি সেই দিন আমরা কর্মস্থলেই ছিলাম। তবুও আমাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।”

ভুক্তভোগীদের দাবি, সম্প্রতি সৌদি সরকারের অভ্যন্তরীণ নীতিতে কড়াকড়ি আরোপের ফলে বিশেষভাবে বাংলাদেশিদের টার্গেট করা হচ্ছে। যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

ফেরত আসা প্রবাসীরা সরকারের কাছে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা চান, সৌদি সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা করে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধ করা হয়।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে সৌদি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রবাসীদের এমন অবস্থায় ফেলা সত্যিই দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের হয়রানি মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।