বিশ্বকাপে মেসির রেকর্ডের পর রেকর্ড, নতুন ইতিহাসের অপেক্ষায় আর্জেন্টাইন অধিনায়ক
- আপডেট সময় ০৯:১৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
- / 43
ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেই নতুন ইতিহাস গড়েছেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে শুরুর একাদশে থেকে তিনি বিশ্ব ফুটবলের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনন্য কীর্তি স্থাপন করেছেন। একই ম্যাচে দেশের জার্সিতে ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেও স্পর্শ করেছেন আরেকটি বিরল মাইলফলক।
আর্জেন্টাইন অধিনায়ক আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২০০ ম্যাচ খেলা তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে নাম লেখান। এর আগে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং বাদের আল-মুতাওয়া।
বিশ্বকাপের মঞ্চে একের পর এক রেকর্ড গড়া মেসির সামনে এবার রয়েছে আরও কয়েকটি ঐতিহাসিক অর্জনের সুযোগ। ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানো এই তারকা এবারও ১০ নম্বর জার্সি গায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলকে। বিশ্বকাপে পঞ্চমবার ১০ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নেমে তিনি পেছনে ফেলেছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকে, যিনি চারটি বিশ্বকাপে এই জার্সি পরেছিলেন।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও এখন মেসির দখলে। ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ আসর মিলিয়ে এর আগে ২৭টি ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। চলতি আসরে সেই সংখ্যা আরও বাড়বে এবং রেকর্ডটি আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ রয়েছে তার সামনে।
গোলের রেকর্ডেও নতুন ইতিহাস গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগে পাঁচটি বিশ্বকাপে মেসির গোল ছিল ১৩টি। চলতি আসরের প্রথম ম্যাচেই গোল করে সেই সংখ্যা ১৪-তে উন্নীত করেছেন তিনি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ড রয়েছে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার। আর তিনটি গোল করতে পারলেই সেই রেকর্ড নিজের করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
মেসি এর আগে ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে গোল করেছিলেন। শুধু ২০১০ বিশ্বকাপে গোলের দেখা পাননি। চলতি আসরে গোল করে তিনি পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করা দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে নাম লেখান। এই তালিকায় তার আগে রয়েছেন কেবল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
অ্যাসিস্টের ক্ষেত্রেও নতুন রেকর্ডের হাতছানি রয়েছে। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মেসির অ্যাসিস্ট সংখ্যা আটটি, যা আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ। একই সংখ্যক অ্যাসিস্ট রয়েছে দিয়েগো ম্যারাডোনারও। এবারের আসরে আরও একটি অ্যাসিস্ট করলেই দেশের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতার একক রেকর্ড গড়বেন তিনি। আর দুটি অ্যাসিস্ট করতে পারলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতার তালিকার শীর্ষেও উঠে যেতে পারেন।
এ ছাড়া অধিনায়ক হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগও রয়েছে তার সামনে। এখন পর্যন্ত কোনো অধিনায়ক দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়তে পারেননি। মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখতে পারলে তিনি হবেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম অধিনায়ক, যিনি দুইবার ট্রফি জয়ের স্বাদ পেয়েছেন।
আর আর্জেন্টিনা যদি এবার ফাইনালে পৌঁছায়, তাহলে তিনবার দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলা প্রথম অধিনায়ক হিসেবেও ইতিহাসে নাম লেখাবেন মেসি। এর আগে ২০১৪ ও ২০২২ বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বেই ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। এর মধ্যে একবার শিরোপা জিতেছে দলটি এবং একবার রানার্সআপ হয়েছে।

























