ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

আকস্মিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু থেকে পানাহের জন্য ইসলামি বিধান ও বিশেষ দোয়া

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:০৩:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • / 287

ছবি: সংগৃহীত

মানুষের জীবন ও মৃত্যু মহান আল্লাহর এক অমোঘ বিধান। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতিটি প্রাণীর মৃত্যুর সময় নির্ধারিত হলেও মুমিনদের জন্য অপ্রস্তুত অবস্থায় বা আকস্মিক মৃত্যু থেকে মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে সুরক্ষা পাওয়ার উপায় ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো বিশেষ আমল নিয়ে আলোচনা করা হলো।

পবিত্র কোরআনের সুরা আরাফের ৩৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, “প্রত্যেক জাতির জন্য এক নির্দিষ্ট সময় আছে। অতঃপর যখন তাদের সময় আসবে তখন তারা মুহূর্তকাল দেরি করতে পারবে না এবং এগিয়েও আনতে পারবে না।” একই সুরার ১৮৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে।” পার্থিব জীবনের এই ক্ষণস্থায়ীত্বের মাঝে সফল সেই, যাকে পরকালে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। ইসলামে মৃত্যুকে কেবল জীবনের সমাপ্তি নয়, বরং পরকালীন অনন্ত যাত্রার শুরু হিসেবে দেখা হয়, তাই সচেতন অবস্থায় ঈমানের সাথে মৃত্যুবরণ করা মুমিনের কাম্য।

হঠাৎ বা অপ্রস্তুত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা মুমিনের জন্য নিষ্কৃতি হলেও পাপীর জন্য তা আক্ষেপের কারণ হতে পারে বলে হাদিসে উল্লেখ আছে। হযরত আয়শা (রা.) ও হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত এক বর্ণনায় একে ‘মুমিনের জন্য নিষ্কৃতি’ বলা হয়েছে।
তবে গাফিল বা অসচেতন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.) সর্বদা আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। হযরত আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুল (সা.) কিয়ামতের অন্যতম আলামত হিসেবে ‘হঠাৎ মৃত্যুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়া’র কথা উল্লেখ করেছেন।

আরও পড়ুন  আজকের নামাজের সময়সূচি: ৮ এপ্রিল ২০২৬

অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা বা যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু থেকে বাঁচতে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত একটি দোয়া পাঠ করতেন। হযরত আবুল ইয়াসার (রা.) থেকে বর্ণিত সেই দোয়াটি হলো:

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাদমি, ওয়া আউজুবিকা মিনাত তারাদ্দি, ওয়া আউজুবিকা মিনাল গারাকি ওয়াল হারাকি ওয়াল হারামি, ওয়া আউজুবিকা আঁইয়াতাখব্বাতানিশ শাইত্বনু ইনদাল মাওতি, ওয়া আউজুবিকা আন আমুতা ফি সাবিলিকা মুদবিরান, ওয়া আউজুবিকা আন আমুতা লাদিগান।

অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কোনো কিছুর নিচে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ থেকে আশ্রয় চাই। আশ্রয় চাই পাহাড় বা উঁচু স্থান থেকে পড়ে মৃত্যুবরণ থেকে। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই পানিতে ডুবে ও আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণ থেকে এবং অতিবার্ধক্য থেকে। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই মৃত্যুকালে শয়তানের প্রভাব থেকে। আমি আশ্রয় চাই আপনার পথে জিহাদ থেকে পলায়নপর অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা থেকে এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে মৃত্যুবরণ করা থেকে।” (সুনানে নাসায়ি, আবু দাউদ)

ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখলে মহান আল্লাহ বান্দাকে বিভিন্ন বিপদ-আপদ ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করেন। তাই নিয়মিত এই দোয়াটি পাঠ করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য কল্যাণকর।

নিউজটি শেয়ার করুন

আকস্মিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু থেকে পানাহের জন্য ইসলামি বিধান ও বিশেষ দোয়া

আপডেট সময় ০৬:০৩:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

মানুষের জীবন ও মৃত্যু মহান আল্লাহর এক অমোঘ বিধান। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতিটি প্রাণীর মৃত্যুর সময় নির্ধারিত হলেও মুমিনদের জন্য অপ্রস্তুত অবস্থায় বা আকস্মিক মৃত্যু থেকে মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে সুরক্ষা পাওয়ার উপায় ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো বিশেষ আমল নিয়ে আলোচনা করা হলো।

পবিত্র কোরআনের সুরা আরাফের ৩৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, “প্রত্যেক জাতির জন্য এক নির্দিষ্ট সময় আছে। অতঃপর যখন তাদের সময় আসবে তখন তারা মুহূর্তকাল দেরি করতে পারবে না এবং এগিয়েও আনতে পারবে না।” একই সুরার ১৮৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে।” পার্থিব জীবনের এই ক্ষণস্থায়ীত্বের মাঝে সফল সেই, যাকে পরকালে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। ইসলামে মৃত্যুকে কেবল জীবনের সমাপ্তি নয়, বরং পরকালীন অনন্ত যাত্রার শুরু হিসেবে দেখা হয়, তাই সচেতন অবস্থায় ঈমানের সাথে মৃত্যুবরণ করা মুমিনের কাম্য।

হঠাৎ বা অপ্রস্তুত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা মুমিনের জন্য নিষ্কৃতি হলেও পাপীর জন্য তা আক্ষেপের কারণ হতে পারে বলে হাদিসে উল্লেখ আছে। হযরত আয়শা (রা.) ও হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত এক বর্ণনায় একে ‘মুমিনের জন্য নিষ্কৃতি’ বলা হয়েছে।
তবে গাফিল বা অসচেতন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.) সর্বদা আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। হযরত আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুল (সা.) কিয়ামতের অন্যতম আলামত হিসেবে ‘হঠাৎ মৃত্যুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়া’র কথা উল্লেখ করেছেন।

আরও পড়ুন  শবে বরাত: ফযীলত, বাস্তবতা ও করণীয়

অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা বা যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু থেকে বাঁচতে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত একটি দোয়া পাঠ করতেন। হযরত আবুল ইয়াসার (রা.) থেকে বর্ণিত সেই দোয়াটি হলো:

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাদমি, ওয়া আউজুবিকা মিনাত তারাদ্দি, ওয়া আউজুবিকা মিনাল গারাকি ওয়াল হারাকি ওয়াল হারামি, ওয়া আউজুবিকা আঁইয়াতাখব্বাতানিশ শাইত্বনু ইনদাল মাওতি, ওয়া আউজুবিকা আন আমুতা ফি সাবিলিকা মুদবিরান, ওয়া আউজুবিকা আন আমুতা লাদিগান।

অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কোনো কিছুর নিচে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ থেকে আশ্রয় চাই। আশ্রয় চাই পাহাড় বা উঁচু স্থান থেকে পড়ে মৃত্যুবরণ থেকে। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই পানিতে ডুবে ও আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণ থেকে এবং অতিবার্ধক্য থেকে। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই মৃত্যুকালে শয়তানের প্রভাব থেকে। আমি আশ্রয় চাই আপনার পথে জিহাদ থেকে পলায়নপর অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা থেকে এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে মৃত্যুবরণ করা থেকে।” (সুনানে নাসায়ি, আবু দাউদ)

ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখলে মহান আল্লাহ বান্দাকে বিভিন্ন বিপদ-আপদ ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করেন। তাই নিয়মিত এই দোয়াটি পাঠ করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য কল্যাণকর।