ঢাকা ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন, সরকারের অবস্থান জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৩৩:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • / 1

ছবি: সংগৃহীত

 

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান আলোচনাকে ‘গুঞ্জন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যগত বা অন্য কোনো কারণে পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধানে সে সুযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো তথ্য নেই এবং সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  সব বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেটি আপাতত গুঞ্জনই। যদি বিষয়টি বাস্তবে ঘটে, তখন সরকার প্রয়োজনীয়ভাবে বিষয়টি বিবেচনা করবে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যগত কিংবা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব ছাড়তে চাইলে সাংবিধানিকভাবে তার সেই সুযোগ রয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তার কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই।

সরকারের অবস্থান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই এবং সরকারের পক্ষ থেকেও কিছু বলা হয়নি। রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করতে চান কি না, সে বিষয়ে জানতে হলে রাষ্ট্রপতিকেই প্রশ্ন করতে হবে।

বিদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কোনো ফোনালাপ হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব ছাড়তে চাইলে তাকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। এরপর সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, এরপর কে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেবেন, তা সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সংবিধান অনুযায়ী, তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। পরবর্তী সময়ে সংসদ বিলুপ্ত, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন ছাত্রনেতা ও আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট সংগঠন রাষ্ট্রপতির অপসারণের দাবি জানিয়ে কর্মসূচি পালন করে। তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে অপসারণে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সে সময় সাংবিধানিক শূন্যতার আশঙ্কার কারণে বিএনপিও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ চায়নি বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ছিল।

এর আগে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে তিনি পদত্যাগ করতে চান। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি অপমানিত বোধ করেছেন।

পরে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি একটি সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার চাইলে তিনি দায়িত্বে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।

সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা অসুস্থতা, অনুপস্থিতি কিংবা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

এছাড়া সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বর্তমান সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যদিও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করেছে, তবুও রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তবে রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আগ্রহ আরও বাড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন, সরকারের অবস্থান জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৪:৩৩:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

 

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান আলোচনাকে ‘গুঞ্জন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যগত বা অন্য কোনো কারণে পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধানে সে সুযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো তথ্য নেই এবং সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ চলমান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেটি আপাতত গুঞ্জনই। যদি বিষয়টি বাস্তবে ঘটে, তখন সরকার প্রয়োজনীয়ভাবে বিষয়টি বিবেচনা করবে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যগত কিংবা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব ছাড়তে চাইলে সাংবিধানিকভাবে তার সেই সুযোগ রয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তার কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই।

সরকারের অবস্থান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই এবং সরকারের পক্ষ থেকেও কিছু বলা হয়নি। রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করতে চান কি না, সে বিষয়ে জানতে হলে রাষ্ট্রপতিকেই প্রশ্ন করতে হবে।

বিদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কোনো ফোনালাপ হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব ছাড়তে চাইলে তাকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। এরপর সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, এরপর কে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেবেন, তা সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সংবিধান অনুযায়ী, তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। পরবর্তী সময়ে সংসদ বিলুপ্ত, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন ছাত্রনেতা ও আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট সংগঠন রাষ্ট্রপতির অপসারণের দাবি জানিয়ে কর্মসূচি পালন করে। তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে অপসারণে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সে সময় সাংবিধানিক শূন্যতার আশঙ্কার কারণে বিএনপিও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ চায়নি বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ছিল।

এর আগে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে তিনি পদত্যাগ করতে চান। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি অপমানিত বোধ করেছেন।

পরে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি একটি সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার চাইলে তিনি দায়িত্বে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।

সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা অসুস্থতা, অনুপস্থিতি কিংবা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

এছাড়া সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বর্তমান সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যদিও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করেছে, তবুও রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তবে রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আগ্রহ আরও বাড়বে।