ঢাকা ১০:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :

‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ সরকারের মূল নীতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৫৮:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 14

ছবি সংগৃহীত

 

রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতি ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, দেশের প্রতিটি মানুষ নাগরিকত্বের ভিত্তিতে সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে। বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে ‘কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব ১৪৩৩’ উপলক্ষে ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আরও পড়ুন  জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের নেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। সেই হিসেবে প্রত্যেকের প্রথম পরিচয় হওয়া উচিত ‘আমরা সবাই বাংলাদেশি’। ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় তার পরে আসবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতিই হলো সবার জন্য বাংলাদেশ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেকে মনে করতেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোট ব্যাংক’। এই ধারণাকে কাজে লাগিয়ে তারা রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে দেশের সচেতন জনগণ সেই ভুল ধারণা ও কৃত্রিম মিথ ভেঙে দিয়েছে।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে দেশের সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জনগণই বিচারক উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনগণ ইতোমধ্যে তাদের রায় দিয়েছেন। আগামীতেও তারা গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় রাখতে এবং সব ধরনের অসুর শক্তি ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকবে।

সংবিধান ও ধর্মীয় অধিকারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাধ্য। সংবিধানের চেতনা অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করা যাবে না।

সব ধর্মীয় উপাসনালয় ও সেখানে দায়িত্ব পালনকারীদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার এসব বিষয় কেবল সংবিধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। বাস্তব জীবনেও সাম্য ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

ভাষার ব্যবহারে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণত ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দটির আর প্রয়োজন নেই বলে তিনি মনে করেন। এখন থেকে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং শান্তি বজায় রাখার কথা বলতে হবে। এ ধরনের ইতিবাচক চর্চা সমাজকে আরও সুন্দর করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশ ও মিছিলে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন)। শুরুতে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে মিছিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। পরে জন্মাষ্টমীর মিছিলটি পলাশী মোড়ের ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গন থেকে শুরু হয়ে বাহাদুর পার্কে গিয়ে শেষ হয়।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ সরকারের মূল নীতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৮:৫৮:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতি ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, দেশের প্রতিটি মানুষ নাগরিকত্বের ভিত্তিতে সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে। বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে ‘কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব ১৪৩৩’ উপলক্ষে ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আরও পড়ুন  দেশের স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে হবে: মাহফুজ আলম"

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের নেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। সেই হিসেবে প্রত্যেকের প্রথম পরিচয় হওয়া উচিত ‘আমরা সবাই বাংলাদেশি’। ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় তার পরে আসবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতিই হলো সবার জন্য বাংলাদেশ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেকে মনে করতেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোট ব্যাংক’। এই ধারণাকে কাজে লাগিয়ে তারা রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে দেশের সচেতন জনগণ সেই ভুল ধারণা ও কৃত্রিম মিথ ভেঙে দিয়েছে।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে দেশের সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জনগণই বিচারক উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনগণ ইতোমধ্যে তাদের রায় দিয়েছেন। আগামীতেও তারা গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় রাখতে এবং সব ধরনের অসুর শক্তি ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকবে।

সংবিধান ও ধর্মীয় অধিকারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাধ্য। সংবিধানের চেতনা অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করা যাবে না।

সব ধর্মীয় উপাসনালয় ও সেখানে দায়িত্ব পালনকারীদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার এসব বিষয় কেবল সংবিধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। বাস্তব জীবনেও সাম্য ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

ভাষার ব্যবহারে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণত ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দটির আর প্রয়োজন নেই বলে তিনি মনে করেন। এখন থেকে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং শান্তি বজায় রাখার কথা বলতে হবে। এ ধরনের ইতিবাচক চর্চা সমাজকে আরও সুন্দর করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশ ও মিছিলে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন)। শুরুতে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে মিছিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। পরে জন্মাষ্টমীর মিছিলটি পলাশী মোড়ের ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গন থেকে শুরু হয়ে বাহাদুর পার্কে গিয়ে শেষ হয়।