ঢাকা ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
ইয়ামালের জোড়া গোলে ভ্যালেন্সিয়াকে বিধ্বস্ত করে বার্সার বড় জয় ভর্তুকির সার পাচার হয়ে যাচ্ছে মিয়ানমারে, ফিরছে ইয়াবা-আইস অবসরপ্রাপ্ত ১৪৭ ইউপি সচিবের বকেয়া আনুতোষিক পরিশোধের নির্দেশ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস হতে পারে না: রাষ্ট্রপতি গাইবান্ধায় ১৭ চোরাই মোবাইল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ মেসির বিদায় যেন মেনেই নিতে পারছেন না ডি পল চীনা প্রেমিক বিয়ে করতে টাঙ্গাইলে, আপত্তিতে ফিরলেন ঢাকায় ইরান এখন পুরো বিধর্মী শক্তির বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে: ইসি বিমানে গালিগালাজ ও হট্টগোলের, যাত্রীকে বেঁধে রাখলেন সহযাত্রীরা

অবসরপ্রাপ্ত ১৪৭ ইউপি সচিবের বকেয়া আনুতোষিক পরিশোধের নির্দেশ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৪২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 21

ছবি সংগৃহীত

 

ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) অবসরপ্রাপ্ত ১৪৭ জন সচিবের বকেয়া আনুতোষিক ও উৎসব ভাতা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ের পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তাদের প্রাপ্য অর্থ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আরও পড়ুন  তারেক-জুবাইদা রহমান দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টে খালাস

আদালত সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব মো. ইউসুফ ভূঁইয়াসহ দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের অবসরপ্রাপ্ত ১৪৭ জন সচিব ২০২২ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। তাদের দাবি ছিল, বিধি অনুযায়ী বকেয়া আনুতোষিক ও নিয়মিত উৎসব ভাতা দেওয়া হোক। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন। পরবর্তী শুনানি শেষে রুলের নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়।

রিটকারীদের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আল আমিন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খন্দকার বাহার রুমি।

রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী হুমায়ন কবির বলেন, অবসরের সময় সংশ্লিষ্ট সচিবেরা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গ্রস পেনশনের ৫০ শতাংশ সমর্পণ করে তার বিপরীতে আনুতোষিক পেয়েছিলেন। কিন্তু বাকি ৫০ শতাংশ সমর্পণের বিপরীতে তারা আনুতোষিক পাননি।

তিনি জানান, বিধি অনুযায়ী ওই সমর্পিত অংশের বিপরীতে আরও এককালীন আনুতোষিক পাওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই সেই অর্থ না পাওয়ায় অবসরপ্রাপ্ত সচিবেরা আদালতের আশ্রয় নেন।

হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, ১৪৭ জন রিটকারীর সার্ভিস রেকর্ড যাচাই-বাছাই করে তাদের প্রাপ্য গ্রস পেনশনের বাকি ২৫ শতাংশ এককালীন আনুতোষিক হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। এর মাধ্যমে মোট ৭৫ শতাংশ আনুতোষিক পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে বকেয়া উৎসব ভাতা পরিশোধ এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত উৎসব ভাতা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রিটকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০১১ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ইউপি সচিবরা ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব কর্মচারী। অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের মতো তারা মাসিক পেনশন সুবিধার আওতায় না থাকায় বিধি অনুযায়ী গ্রস পেনশনের পুরো অর্থ সমর্পণের বিপরীতে মোট ৭৫ শতাংশ এককালীন আনুতোষিক পাওয়ার বিধান রয়েছে।

এ ছাড়া জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও উৎসব ভাতা পাওয়ার বিধানও রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট অবসরপ্রাপ্ত সচিবদের আনুতোষিক ও উৎসব ভাতা না দেওয়ার বিষয়টি বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে রিটকারীদের পক্ষ থেকে আদালতে যুক্তি তুলে ধরা হয়।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

অবসরপ্রাপ্ত ১৪৭ ইউপি সচিবের বকেয়া আনুতোষিক পরিশোধের নির্দেশ

আপডেট সময় ১০:৪২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) অবসরপ্রাপ্ত ১৪৭ জন সচিবের বকেয়া আনুতোষিক ও উৎসব ভাতা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ের পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তাদের প্রাপ্য অর্থ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আরও পড়ুন  হাইকোর্টের রায়: অন্তর্বর্তী সরকার আইন ও জনগণের সমর্থনে প্রতিষ্ঠিত

আদালত সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব মো. ইউসুফ ভূঁইয়াসহ দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের অবসরপ্রাপ্ত ১৪৭ জন সচিব ২০২২ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। তাদের দাবি ছিল, বিধি অনুযায়ী বকেয়া আনুতোষিক ও নিয়মিত উৎসব ভাতা দেওয়া হোক। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন। পরবর্তী শুনানি শেষে রুলের নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়।

রিটকারীদের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আল আমিন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খন্দকার বাহার রুমি।

রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী হুমায়ন কবির বলেন, অবসরের সময় সংশ্লিষ্ট সচিবেরা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গ্রস পেনশনের ৫০ শতাংশ সমর্পণ করে তার বিপরীতে আনুতোষিক পেয়েছিলেন। কিন্তু বাকি ৫০ শতাংশ সমর্পণের বিপরীতে তারা আনুতোষিক পাননি।

তিনি জানান, বিধি অনুযায়ী ওই সমর্পিত অংশের বিপরীতে আরও এককালীন আনুতোষিক পাওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই সেই অর্থ না পাওয়ায় অবসরপ্রাপ্ত সচিবেরা আদালতের আশ্রয় নেন।

হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, ১৪৭ জন রিটকারীর সার্ভিস রেকর্ড যাচাই-বাছাই করে তাদের প্রাপ্য গ্রস পেনশনের বাকি ২৫ শতাংশ এককালীন আনুতোষিক হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। এর মাধ্যমে মোট ৭৫ শতাংশ আনুতোষিক পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে বকেয়া উৎসব ভাতা পরিশোধ এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত উৎসব ভাতা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রিটকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০১১ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ইউপি সচিবরা ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব কর্মচারী। অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের মতো তারা মাসিক পেনশন সুবিধার আওতায় না থাকায় বিধি অনুযায়ী গ্রস পেনশনের পুরো অর্থ সমর্পণের বিপরীতে মোট ৭৫ শতাংশ এককালীন আনুতোষিক পাওয়ার বিধান রয়েছে।

এ ছাড়া জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও উৎসব ভাতা পাওয়ার বিধানও রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট অবসরপ্রাপ্ত সচিবদের আনুতোষিক ও উৎসব ভাতা না দেওয়ার বিষয়টি বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে রিটকারীদের পক্ষ থেকে আদালতে যুক্তি তুলে ধরা হয়।