দল ছাড়ার ঘোষণা পর অব্যাহতি দিল এনসিপি
- আপডেট সময় ১২:৩৫:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
- / 84
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সদস্যসচিব সর্দার আমিরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে গত রোববার (১৭ মে) রাতে তাকে দলটির সব সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি ও বহিষ্কার করে একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনসিপি।
তবে নাটকীয় বিষয় হলো, এই বহিষ্কারাদেশ আসার আগেই গতকাল বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সর্দার আমিরুল ইসলাম নিজে থেকেই দলের সঙ্গে আর না থাকার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সোমবার (১৮ মে) সকালে দল ও সংশ্লিষ্ট নেতার সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এনসিপির পক্ষ থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইতিপূর্বে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে গত ৩ মার্চ সর্দার আমিরুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছিল। সেই নোটিশ ও সতর্কতার পরও তিনি পুনরায় দলীয় শৃঙ্খলা ও নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাপরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত হন।
এমতাবস্থায়, পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশে তাকে ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব পদসহ দলের সব দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হলো।
অন্যদিকে, বহিষ্কারের এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই গতকাল বিকেলে সর্দার আমিরুল ইসলাম তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এক দীর্ঘ পোস্টে দল ছাড়ার বিস্তারিত কারণ উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, “গত বছরের জুন মাসে এনসিপির প্রাথমিক লক্ষ্য, আদর্শ ও নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সহিত মধ্যপন্থি রাজনীতির নয়া শক্তি হিসেবে দলটিতে যুক্ত হয়েছিলাম। কিন্তু, নির্বাচনকালীন সময়ে দল থেকে ডানপন্থি জোটে যোগদানের সিদ্ধান্ত আমার সেই উৎসাহকে ম্রিয়মাণ করে দেয়। তবে এই সিদ্ধান্তকে কেবলই রাজনৈতিক রণকৌশল বিবেচনা করে আমি জোট থেকে দূরত্ব বজায় রেখে দলের পক্ষে কাজ অব্যাহত রাখি।”
আমিরুল তাঁর পোস্টে আরও অভিযোগ করেন, “নির্বাচন পরবর্তী সময়েও দলে ডানপন্থার এই বাড়ন্ত প্রভাব আমি লক্ষ্য করি। ফলশ্রুতিতে শেষ দুই মাস আমি রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে নিজেকে নিষ্ক্রিয় রাখি এবং দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা বরাবর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র পেশ করি। তখন তিনি পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে আমাকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বলেছিলেন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এনসিপির যে প্রতিশ্রুতি ও আদর্শে আকৃষ্ট হয়ে আমি যুক্ত হয়েছিলাম, বর্তমানে দলের কার্যক্রমে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
সাধারণ মানুষের আশা ভঙ্গের এই পরিস্থিতিতে এবং দলের রণনীতি ও রণকৌশলের সঙ্গে আমার মতদ্বৈততা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় আমার পক্ষে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা আর সম্ভব হচ্ছে না।” সবশেষে এনসিপির প্রতি শুভকামনা জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন, যার কয়েক ঘণ্টার মাথায় দলটির পক্ষ থেকে তাঁর বহিষ্কারের চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

























